-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামী সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত ভোর রাত চাররটার দিকে সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা এলাকার পায়রা নদী সংলগ্ন চরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নয়ন ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন।

নিকটাত্মীয়রা রাজি নন, মা ঢাকা থেকে এসে গ্রহণ করবেন নয়নের মরদেহ

মঙ্গলবার বিকেল তিনটা পর্যন্ত নিহত নয়নের মরদেহ গ্রহণ করতে আসেনি নয়নের কোনো স্বজন। ঘটনার পর থেকে নয়নের মা পলাতক রয়েছেন। এছাড়াও নিকটাত্মীয় একজন বরগুনার ধানসিড়ি সড়কে বসবাসরত চাচা আবদুস সালাম জানান, তিনি নয়নের মরদেহ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন। নয়নের বাসা সংলগ্নে বসবাসরত খালা নাসিমা বেগম বলেন, আমরা ইচ্ছুক নই, নয়নের মা ঢাকা থেকে এসে মরদেহ গ্রহণ করবেন।

যা ঘটেছিল ওইদিন
গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের মূল ফটকের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। এ সময় বরগুনা সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী আয়েশা সিদ্দীকা মিন্নি তার স্বামীকে রক্ষার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালান। কিন্তু সন্ত্রাসীরা তাকে (রিফাত) উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে ওইদিন বিকেল ৩ টার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে রিফাত শরীফের মৃত্যু হয়। জনবহুল এলাকায় এমন নৃশংস হামলার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে দেশেজুড়ে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভের ঝড় ওঠে।

এ পর্যন্ত গ্রেফতার যারা

ঘটনার পরদিন অর্থাৎ ২৭ জুন সকালে নিহত রিফাতের বাবা বরগুনা সদরের বড় লবণগোলার বাসিন্দা আবদুল হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় বরগুনা শহরে চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড এবং তার সহযোগী রিফাত ফরাজী ও তার ছোট ভাই রিশান ফরাজীসহ ১২ জনকে আসামি এবং আরও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। এ মামলায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর মধ্যে চন্দন (২১), মো. হাসান (১৯), অলিউল্লাহ (২২) টিকটক হৃদয় (২১) এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পরের দিন সকালে চন্দনকে, সন্ধ্যার মো. হাসান গ্রেফতার করা হয়। গত রোববার বরগুনা থেকে অলিউল্লাহকে (২২) এবং ঢাকা থেকে টিকটক হৃদয়কে (২১) গ্রেফতার করে পুলিশ।

অন্য পাঁচজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- নাজমুল ইসলাম (১৮), সাগর (১৯), তানভীর (২২), কামরুল হাসান ওরফে সাইমুন (২১)। অপর একজনের নাম পুলিশ প্রকাশ করেনি। এর মধ্যে সোমবার বিকেলে এই মামলায় গ্রেফতার দুই আসামি অলিউল্লাহ ওরফে অলি ও তানভিড় হোসেন ১৬৪ ধারায় বরগুনার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ওইদিন বিকেলে বরগুনার বিচারিক হাকিম সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে ওই দুই আসামিকে উপস্থিত করে তাদের দুজনের এই জবানবন্দি নেওয়া হয়। অলিউল্লাহ রিফাত হত্যা মামলার ১১ নম্বর আসামি; তাকে রোববার গ্রেফতার হয়। আর তানভীর সন্দেহভাজন আসামি। তিনি মূল আসামি নয়ন বন্ডের সন্ত্রাসী দল ‘০০৭’ এর সক্রিয় সদস্য।

তবে মামলা প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হলেও প্রধান অপর দুই আসামি রিফাত ফরাজী ও তার ছোট ভাই রিশান ফরাজী এখনও পলাতক। আর পুলিশ রিমান্ডে রয়েছেন আসামি নাজমুল হাসান, সাগর ও সাইমুন।

পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, বাকি আসামীরা পুলিশের জালে আবদ্ধ আছে। খুব শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আসামীদের গ্রেফতারে সার্বিক সহযোগীতাকারীদের তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সর্বস্তরের মানুষ বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীরা পুলিশকে যে সহায়তা দিয়েছে তা সত্যি প্রশংসনীয়।-ডেস্ক