(দিনাজপুর২৪.কম০ আর মাত্র ১০ দিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে টানা তৃতীয় বার ক্ষমতায় আনতে মাঠে নামবে ছাত্রলীগ। চলমান উন্নয়নকে আরও গতিশীল রাখতে নৌকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাবে সংগঠনটির নেতারা। এজন্য জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়াড পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্র টার্গেট করে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত মাঠে নৌকার জয়ের মিশনে একত্রে কাজ করার জন্য প্রায় ৪ হাজার কেন্দ্র কমিটি গঠন করছে সংগঠনটি। নৌকার পক্ষে সাধারণ মানুষের কছে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকবে কমিটির সদস্যরা।ছাত্রলীগের তথ্যমতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে প্রায় ৪ হাজার ভোটকেন্দ্রের কেন্দ্র কমিটি করা হয়েছে। আর প্রতিটি কমিটিতে ১০ জন করে সদস্য রাখা হয়েছে। যারা এই কমিটিতে আছে তারা এখন থেকেই প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নৌকার ভোট ব্যাংক তৈরির জন্য প্রচার-প্রচারণার কাজ করবে। শুধু ভোট ব্যাংক নয়, এ নির্বাচনে যেন সাধারণ মানুষ উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দিতে পারে সে জন্য কাজ করবে তারা। এবং জামায়াত বিএনপি অপকর্মের বিরুদ্ধে মাঠে থাকবে কঠোর অবস্থান। অতীতের নির্বাচনি কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ যাবৎকালে আওয়ামী লীগের যে কটি নির্বাচনে সফলতা এসেছে তার মূলে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলন ও বৈরী পরিবেশে নির্বাচনি প্রচারণা করার জন্য ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিলো অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ। যার ফলে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বিশাল জয়ে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল থেকে সেই নির্বাচন ছিল দলটির জন্য অগ্নিপরীক্ষা। তখন আওয়ামী লীগের ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করেছে ছাত্রলীগ। দলীয় সভানেত্রী থেকে শুরু করে দলের সকল নেতাকর্মীকে কারামুক্তির দাবিতে সারা দেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে সংগঠনটি। এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে-পরে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস আন্দোলন প্রতিরোধে ছাত্রলীগের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। শুধু নবম ও দশম নয়, একাদশ নির্বাচনে একই পথে হাঁটছে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের সকল নেতা কর্মীরা। জামায়াত, বিএনপি ও নব গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বানচাল এবং বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো অপকর্ম মাঠে প্রতিহত করবে তারা। একদিকে ভোটারের কাছে ভোট প্রার্থনা করবে অন্যদিকে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের ওপর বিশেষ নজর রাখবে সংগঠনটি। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশের ভোটকেন্দ্রের কেন্দ্র কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাড়াশ ডিগ্রি কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সভাপতি ইকবাল হাসান রুবেল বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশক্রমে প্রতিটি কেন্দ্রের কেন্দ্র কমিটি করার মাধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছি। এবং এসব কমিটির সব সদস্য নৌকার জয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মাঠে কাজ করবে। এবং শেখ হাসিনার জয় নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, সারা দেশে আমরা নির্বাচনি ভোটকেন্দ্রের কেন্দ্র কমিটি করেছি। এ কমিটি দলের সকল নেতার সাথে গভীর রাত পর্যন্ত নৌকার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। এবং আমরা সবাই নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকবো। জামায়ত-বিএনপি বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান থাকবে। বিএনপি যদি সাধারণ মানুষকে আবারো পুড়িয়ে মারতে চায় বা গত নির্বাচনের মতো কোনো অপকর্ম করতে চায় তাহলে ছাত্রলীগ মাঠে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেবে।
তিনি বলেন, নৌকার স্বাধীনতার পক্ষের প্রতীক, নৌকা উন্নয়নের প্রতীক, সাধারণ মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের প্রতীক, দেশ থেকে সন্ত্রাস মুক্ত করার প্রতীক। তাই ছাত্রলীগের কাজ এই প্রতীকে সাধারণ মানুষের ভোট নিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশের সরকার গঠন করে উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে। তাই একাদশ নির্বাচন ছাত্রলীগের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ আমরা সবাই একসাথে মোকাবিলা করে মাঠে থাকবো। -ডেস্ক