1. dinajpur24@gmail.com : admin :
  2. erwinhigh@hidebox.org : adriannenaumann :
  3. dinajpur24@gmail.com : akashpcs :
  4. jcsuavemusic@yahoo.com : andersoncanada1 :
  5. AnnelieseTheissen@final.intained.com : anneliesea57 :
  6. ArchieNothling31@nose.ppoet.com : archienothling4 :
  7. ArmandoTost@miss.wheets.com : armandotost059 :
  8. BernieceBraden@miss.kellergy.com : berniecebraden7 :
  9. maximohaller896@gay.theworkpc.com : betseyhugh03 :
  10. BorisDerham@join.dobunny.com : borisderham86 :
  11. self@unliwalk.biz : brandymcguinness :
  12. Burton.Kreitmayer100@creator.clicksendingserver.com : burton4538 :
  13. CathyIngram100@join.dobunny.com : cathy68067651258 :
  14. ChristineTrent91@basic.intained.com : christinetrent4 :
  15. ceciley@c.southafricatravel.club : clemmiegoethe89 :
  16. Concetta_Snell55@url-s.top : concettasnell2 :
  17. CorinneFenston29@join.dobunny.com : corinnefenston5 :
  18. anahotchin1995@mailcatch.com : damionsargent26 :
  19. marcklein1765@m.bengira.com : danielebramlett :
  20. rosettaogren3451@dvd.dns-cloud.net : darrinsmalley71 :
  21. cyrusvictor2785@0815.ru : demetrajones :
  22. Dinah_Pirkle28@lovemail.top : dinahpirkle35 :
  23. emmie@a.get-bitcoins.online : earnestinemachad :
  24. nikastratshologin@mail.ru : eltonmcphee741 :
  25. EugeniaYancey97@join.dobunny.com : eugeniayancey33 :
  26. Fawn-Pickles@pejuang.watchonlineshops.com : fawnpickles196 :
  27. vandagullettezqsl@yahoo.com : gastonsugerman9 :
  28. panasovichruslan@mail.ru : grovery008783152 :
  29. cruz.sill.u.s.t.ra.t.eo91.811.4@gmail.com : howardb00686322 :
  30. audralush3198@hidebox.org : jacintocrosby3 :
  31. shnejderowavalentina90@mail.ru : kathrin0710 :
  32. elizawetazazirkina@mail.ru : katjaconrad1839 :
  33. KeriToler@sheep.clarized.com : keritoler1 :
  34. Kristal-Rhoden26@shoturl.top : kristalrhoden50 :
  35. azegovvasudev@mail.ru : latricebohr8 :
  36. jarrodworsnop@photo-impact.eu : lettie0112 :
  37. papagena@g.sportwatch.website : lillaalvarado3 :
  38. cruz.sill.u.strate.o.9.18.114@gmail.com : lonnaaubry38 :
  39. lupachewdmitrij1996@mail.ru : maisiemares7 :
  40. corinehockensmith409@gay.theworkpc.com : meaganfeldman5 :
  41. shauntellanas1118@0815.ru : melbahoad6 :
  42. sandykantor7821@absolutesuccess.win : minnad118570928 :
  43. kenmacdonald@hidebox.org : moset2566069 :
  44. news@dinajpur24.com : nalam :
  45. marianne@e.linklist.club : noblestepp6504 :
  46. NonaShenton@miss.kellergy.com : nonashenton3144 :
  47. armandowray@freundin.ru : normamedlock :
  48. rubyfdb1f@mail.ru : paulinajarman2 :
  49. PorterMontes@mobile.marvsz.com : porteroru7912 :
  50. vaughnfrodsham2412@456.dns-cloud.net : reneseward95 :
  51. brandiconnors1351@hidebox.org : roccoabate1 :
  52. Roosevelt_Fontenot@speaker.buypbn.com : rooseveltfonteno :
  53. kileycarroll1665@m.bengira.com : sabinechampion :
  54. santinaarmstrong1591@m.bengira.com : sawlynwood :
  55. renewilda@kovezero.com : sherriunderwood :
  56. Sonya.Hite@g.dietingadvise.club : sonya48q5311114 :
  57. gorizontowrostislaw@mail.ru : spencer0759 :
  58. Jan-Coburn77@e-q.xyz : uzejan74031 :
  59. jcsuave@yahoo.com : vaniabarkley :
  60. teriselfe8825@now.mefound.com : vedalillard98 :
  61. online@the-nail-gallery-mallorca.com : zoebartels80876 :
সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
ভর্তি বিজ্ঞপ্তি :
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত "বাংলাদেশ কারিগরি প্রশিক্ষণ ও অগ্রগতি কেন্দ্র" এর দিনাজপুর সহ সকল শাখায়  RMP, LMAFP. L.V.P,  Paramedical, D.M.A, Nursing, Dental পল্লী চিকিৎসক কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভর্তির শেষ তারিখ ২৫/১১/২০১৯ বিস্তারিত www.bttdc.org ওয়েব সাইটে দেখুন। প্রয়োজনে-০১৭১৫৪৬৪৫৫৯

নেতৃত্ব ও আর্থিক খাত

  • আপডেট সময় : বুধবার, ৭ জুন, ২০১৭
  • ২ বার পঠিত
(দিনাজপুর২৪.কম) জন কুইনসি অ্যাডামস ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট (১৭৬৭-১৮৪৮)। তিনি এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, ‘যদি আপনার কর্মকাণ্ড অন্যকে স্বপ্নতাড়িত করতে, আরো শিখতে, আরো বড় হতে উৎসাহ সৃষ্টি করে, তবেই আপনি একজন নেতা বলে দাবি করতে পারেন।
’ আমাদের সমাজ অর্থনীতি ও রাজনীতিতেও এমন উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করতে পারেন যাঁরা, তাঁরাই নেতৃত্বের দাবিদার হয়ে থাকেন। তবে প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের বেড়ে ওঠা আজকের দিনে খুবই চ্যালেঞ্জিং এক বিষয়। কেননা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ত বদলাচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক টানাপড়েন যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বকে নিরন্তর প্রভাবান্বিত করছে। সময়ের এই স্রোত-উপস্রোত মোকাবেলা করেই নেতৃত্বকে এগোতে হয়। চলতে চলতেই তাকে পোক্ত হতে হয়। তাই নেতৃত্বের কোনো ফর্মুলা দোকানের শেলফ থেকে সংগ্রহ করা যায় না। যেকোনো প্রতিষ্ঠানে তরুণদের ভেতরেই নেতৃত্ব লুকিয়ে থাকে। ভালো প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্যই থাকে আগেভাগেই ওই সম্ভাবনাময় নেতৃত্বকে চিহ্নিত করা এবং তাকে প্রস্ফুটিত হতে দেওয়া। অনেক সময় ইচ্ছা করেই ওই সব তরুণ নেতৃত্বকে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। কিভাবে ওই সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তারা এগিয়ে যায়, তা দেখাও ভালো প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগের অন্যতম এক দায়িত্ব।
আধুনিক নেতৃত্ব মূলত যৌথ নেতৃত্ব। নয়া নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠানে নয়া গতির সঞ্চার করে। প্রযুক্তির প্রসার এ গতিকে আরো ত্বরান্বিত করছে। দল গড়ার কৌশলে নয়া নেতৃত্বের চৌকস ও মেধাবী অংশকে ধরে রাখার উপায় খুঁজে বের করা খুবই জরুরি। সব বয়সী নেতৃত্বের মধ্যে যোগসাজশ স্থাপন করার প্রয়োজন রয়েছে। বয়সে যাঁরা বড় তাঁরা ‘মেন্টর’ হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন আর তরুণরা তাঁদের দেখানো পথে দ্রুতলয়ে হাঁটবে। একপর্যায়ে তারাও নয়া নেতৃত্বের অংশ হয়ে যাবে। বিখ্যাত ফুটবল দল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ম্যানেজার অ্যালেন্স ফার্গুসন সম্প্রতি তাঁর বইয়ে (লিডিং) লিখেছেন যে যিনি বড় নেতা হতে চান, তাঁকে তাঁর ধারণাকে, স্বপ্নকে অন্যের কাছে বেঁচতে হবে। যাঁরা মূলধারায় নেই অথচ পাশেই বসে আছেন, তাঁদের মধ্যেও নেতৃত্ব লুকিয়ে থাকতে পারে। ভালো নেতার লক্ষ্য থাকবে ওই বাইরে থাকা তরুণ নেতৃত্বকেও আকর্ষণ করা। প্রত্যেক সফল নেতাকেই আরো সহ-নেতা খুঁজে পেতে হয়। তাঁদের সঙ্গে কর্তৃত্ব ভাগ করে নিতে হয়। টিম গড়ার কাজকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হয়। সফল হওয়ার তীব্র বাসনা বিকাশমান নেতৃত্বের প্রধান এক বৈশিষ্ট্য হিসেবে ধরা দেওয়ার কথা।
এসব গুণাবলির চর্চাই মূলত যেকোনো প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আমরা নেতৃত্ব বিকাশের অন্যতম অন্তরায় হিসেবে আমলাতান্ত্রিক হামবড়া ভাবকেই বেশি বেশি দেখে থাকি। কথাটি অনেক অর্থেই সত্যি। আমলাতান্ত্রিক মারপ্যাঁচে আমাদের কত সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান এগোতে পারেনি সে হিসাব কি আমরা রাখি?
আমি দীর্ঘদিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে ছিলাম। আমার চোখে এ খাতের নেতৃত্ব বিকাশে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, সেসবের কিছু কিছু বিষয় এখানে উল্লেখ করতে চাই। ভালোভাবে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান চালাতে হলে শুরুতেই তার লক্ষ্য ও মূল্যবোধ নির্দিষ্ট করা খুব জরুরি। গ্রাহকসেবাই যে তার প্রধান লক্ষ্য সে কথাটি বলার অপেক্ষা রাখে না। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে আগাম কৌশলগত পরিকল্পনা করতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে অংশীদারিমূলক উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। উদ্ভাবনীমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য নেতৃত্বকে উৎসাহী করাও এ প্রতিষ্ঠানের আরেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। এ কথাও মনে রাখা চাই যে প্রযুক্তি আর্থিক খাতের খোলনলচে দ্রুতই বদলে দিচ্ছে। এটি এক বিরাট শক্তি। তাকে অবহেলার সুযোগ নেই। বরং তাকে গ্রহণ করে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আর এই জনবলের সৃজনশীল উদ্যোগের মাধ্যমেই আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও দক্ষতা অর্জন সম্ভব, বিশেষ করে সবার কাছে অর্থ পৌঁছানোর উপায় খুঁজে পাওয়াই এ সবকিছুর মূলে। বৈশ্বিক বাস্তবতায় স্থানীয় অর্থনীতির সুবিধাভোগীদের সেবাই হতে হবে এ সময়ের বড় দাবি। তবে প্রযুক্তির রূপান্তর যে হারে ঘটছে তাকে ম্যানেজ করতে বাজারের নেতৃত্ব, নীতির নেতৃত্ব ও রেগুলেটরি উদ্ভাবনের প্রয়োজন রয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়ন এ পর্যায়ের নেতৃত্বের বিকাশে বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। আগামী দিনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে তাই সাংগঠনিক ও মানবিক পুঁজির কোনো বিকল্প নেই, বিশেষ করে বিশ্বায়ন ও প্রযুক্তির রূপান্তরের চাপ উন্নয়নশীল দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হচ্ছে। রূপান্তরের এই ক্রান্তিকালে উপযুক্ত জনশক্তির ও নেতৃত্বের বিকাশ তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
একাত্তরে বাংলাদেশের জন্মের দিনগুলোর দিকে কিংবা তার পরপরই যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের বাঁচার সংগ্রামের দিকে যদি আমরা তাকাই, তাহলে অনুভব করতে পারি—যাদের কিছু নেই, যাদের সর্বদাই পেছনে ফেলে রাখা হয়, তাদের অন্তর্ভুক্ত করাই ছিল আমাদের জাতীয় জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ আমরা ভালোভাবেই মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি। বাংলাদেশের সেই শুরুর দিনগুলোর অভাব-অনটন, বঞ্চনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দারিদ্র্যের মতো অভিশাপ থেকে আমরা এক বিস্ময়কর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগোচ্ছি। আজকের বাংলাদেশ বরং প্রাচুর্য ব্যবস্থাপনার সংকটের মুখোমুখি। আমাদের দারিদ্র্যের হার ও তীব্রতা দুই-ই কমেছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা প্রায় অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। সামাজিক সূচকগুলোর মধ্যে শিশুমৃত্যু, মাতৃমৃত্যু, শিক্ষার হার, প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, পুষ্টিমানসহ সব বিচারেই দেশ অনেকটাই এগিয়েছে।
বর্তমানে গড় আয়ু প্রায় ৭২ বছর। এ হার আমাদের নিকট প্রতিবেশী দেশের (যদিও তাদের মাথাপিছু আয় আমাদের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ) চেয়ে তা প্রায় চার বছর বেশি। এ সবকিছুই সম্ভব হয়েছে আমাদের জাতীয় লড়াকু মনস্তত্ত্বের কারণে। কোনোমতে বেঁচে-বর্তে থাকার পথ আমরা বেছে নিইনি। ভয়কে জয় করে, ব্যক্তির ও গোষ্ঠীর সৃজনশীল উদ্যমকে সমন্বিত করে বাংলাদেশের লড়াকু মানুষ ‘বেঁচে থাকার সংকট’ বা ‘সাবসিস্ট্যান্স ক্রাইসিস’ যেভাবে অতিক্রম করে জোর কদমে এগিয়ে চলেছে, তা সারা বিশ্ব অবাক বিস্ময়ে অবলোকন করছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে সমাজের নানা স্তরে ক্রিয়াশীল আশাবাদী নেতৃত্বের গুণে। রাষ্ট্রের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে যে সামাজিক জমিন (বা স্পেস) পাওয়া গেছে, তার ফলেই ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যম বাংলাদেশে এমন করে দানা বাঁধতে পেরেছে। তবে এই জমিনেও নানা প্রতিবন্ধকতা খুঁটি গেড়েছে। তবুও নানামুখী উদ্যোগের ওপর ভর করে দেশ ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছে। একদিন হয়তো এসব খুঁটি উপড়ে ফেলা সম্ভব হবে।
সব উদ্যোগের পেছনেই প্রয়োজন হয় অর্থের। বাংলাদেশের আর্থিক খাত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বের গুণে সমাজের অনগ্রসর অথচ সম্ভাবনাময় গোষ্ঠীর কল্যাণে নানামুখী সামাজিক দায়বদ্ধ উদ্যোগ নিতে সক্ষম হয়েছে। বাজেটরি সমর্থন দুর্বল শ্রেণির সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের পরিশ্রমী ভাগচাষিসহ কৃষককুল, খুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তা (বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তা), লাখ লাখ দোকানদারসহ মোবাইল আর্থিক সেবাদানকারী এজেন্ট, ১০ টাকার হিসাবধারী গরিব ও মেহনতি কৃষক, মুরগি ও গাভি পালনে দক্ষ খুদে উদ্যোক্তাসহ অসংখ্য উদ্যমী মানুষের কাছে কম খরচে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক যুগান্তকারী যেসব নীতি-উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, সেসবের ভূমিকাও এ ক্ষেত্রে উল্লেখের দাবি রাখে; বিশেষ করে বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে ব্যাংকের শাখা ও এজেন্ট স্থাপন, বর্গাচাষি ও অন্যান্য কৃষকের কাছে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য ব্যাংক ও ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে অংশীদারিমূলক সমঝোতা গড়ে তোলার মতো অভাবনীয় সব উদ্যোগ বাংলাদেশ ব্যাংক হাতে নিয়েছে। সবুজ অর্থায়নের ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্ভাবনীমূলক ঋণ নীতিমালা আজ সারা বিশ্বের কাছে এক বিস্ময় হিসেবে ধরা পড়ছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধ কর্মসূচিতে উদ্বুদ্ধ করে গরিব-দুঃখী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি দিয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া, স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর হাসপাতাল গড়ে তোলা, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজের নানা অবকাঠামো গড়ে তোলা, দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে উদার হস্তে অর্থ প্রদান, শীতে সারা দেশের শীতার্ত মানুষকে শীতবস্ত্র প্রদান, এমনকি পাশের দেশ নেপালে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, ছিটমহলের দুঃখী মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য ব্যাংকগুলোকে সিএসআর ও ঋণ সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে যেতে বাংলাদেশ ব্যাংক অসাধারণ সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসবের বাইরেও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন, মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মতো উদ্ভাবনীমূলক নীতি-সহযোগিতার ফলে সারা দেশের মানুষের পক্ষে অর্থ লেনদেন করা সহজতর হয়েছে। এসবের কারণে সারা বাংলাদেশেই অর্থনৈতিক গতিময়তা বিরাজ করছে। এর পাশাপাশি, হাজার হাজার ই-কমার্স উদ্যোক্তা (অনেকেই নারী) গড়ে উঠেছে। ঘরে বসে অনেক তরুণ-তরুণী আউটসোর্সিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। এ সবই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ফসল। সমাজের নিচের দিকের মানুষের লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের মনোযোগের ফলে বাংলাদেশের ম্যাক্রো অর্থনীতি আশাতীতভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। সরবরাহ ও চাহিদার সামঞ্জস্য রাখার ক্ষেত্রে আর্থিক খাত বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। ফলে মূল্যস্ফীতি এখনো সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে। আর্থিক স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।
এত কিছু সম্ভব হয়েছে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জনশক্তির সক্ষমতা ও নেতৃত্বের বিকাশের কারণে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজে তার প্রতিষ্ঠানটিকে একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার জন্য মেধাবী নতুন ছেলে-মেয়েদের যেমন রিক্রুট করেছে, তেমনি হাজার হাজার কর্মকর্তাকে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সারা বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তাঁদের পাঠানো হয়েছে আধুনিক আর্থিক খাত কী করে পরিচালনা করা হয়, তা দেখার জন্য, শেখার জন্য। দ্রুত ‘ডিজিটাইজড’ করা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসব তরুণ কর্মকর্তার অবদান কোনো দিন ভুলবে না বলে আমার বিশ্বাস। অনেককেই আবার জাপান, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠাতে দ্বিধা করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি বা এআইটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের আলাদাভাবে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিশেষ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ দুটি প্রফেশনাল কোর্স পরিচালনা করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জন্য। তা ছাড়া শত শত কর্মকর্তা নানা ধরনের ই-লার্নিং কোর্সে ভর্তি হতে পারছেন। বিআইবিএমকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটি ম্যানেজমেন্ট স্কুলে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বিবিটিএকেও আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রূপান্তরিত করা হয়েছে। ফাউন্ডেশন ট্রেনিংপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একদিকে দুই সপ্তাহের জন্য গ্রামের বাস্তবতায় হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে প্রশিক্ষণ শেষে ভারতে পাঠানো হচ্ছে আরো উন্নতমানের প্রশিক্ষণের জন্য। জাতিসংঘের সহযোগিতায় এবং ব্যাংক অব কোরিয়ার অংশীদারত্বে অত্যাধুনিক অর্থনৈতিক মডেল বিল্ডিংয়ের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মেধাবী কর্মকর্তাদের।
এ সবই করা হয়েছে আর্থিক খাতের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের এই চৌকস কর্মকর্তারা অল্প সময়ের মধ্যে আধুনিক জ্ঞানভিত্তিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং পরিচালনার উপযোগী হয়ে গড়ে উঠছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনিবাসী বাঙালি বিশেষজ্ঞদের এনে এই তরুণ নেতৃত্বকে আরো দক্ষ ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ পদটি এখন এনআরবি বিশেষজ্ঞদের জন্য আলাদাভাবে সংরক্ষিত করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে কর্মরত বাঙালি অর্থনীতির অধ্যাপকরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের তরুণ অর্থনীতিবিদদের বিশ্বমানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকার হওয়ার সুযোগ ও সম্ভাবনা দুই-ই বেড়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাইজড বাস্তবতায় এই তরুণ মেধাবী কর্মকর্তারাই একদিন সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেবে—কী করে একটি উন্নয়নশীল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতায় রোল মডেল হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই নেতৃত্ব বিকাশের প্রভাব অন্যান্য ব্যাংকেও পড়তে শুরু করেছে। প্রতিটি ব্যাংকই অটোমেটেড হচ্ছে, এমনকি পাবলিক ব্যাংকও। তাদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর দিকে তারা নজর দিচ্ছে। তাদের কর্মকর্তারা এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ফ্যাকাল্টি ও সামাজিক উন্নয়ন ফ্যাকাল্টিতে প্রফেশনাল কোর্স নিচ্ছেন। বিআইবিএমের ঢাকা স্কুল অব ম্যানেজমেন্টেও তাঁরা পড়ছেন এবং ডিগ্রি নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরে আমার প্রচেষ্টায় কোনো দ্বিধা ছিল না। পুরো আর্থিক খাতে অংশগ্রহণমূলক, জ্ঞানভিত্তিক নেতৃত্বের বিকাশের একটি পটভূমি আমি তৈরি করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলাম। আমার আশা, এসব উদ্যোগে যেন ভাটা না পড়ে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমার উত্তরসূরি চেষ্টা করছেন এসব ইতিবাচক উদ্যোগকে সচল রাখতে। সে জন্য তাঁকে ধন্যবাদ। শুধু ‘বেশি খরচ হচ্ছে’ এই সনাতনী অজুহাতে যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও আর্থিক খাতের জ্ঞানচর্চা, নয়া নয়া উদ্ভাবন এবং মেধাবী নেতৃত্ব বিকাশের ধারা বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে নিশ্চয়ই তিনি খেয়াল রাখবেন।
আর্থিক খাতে উদ্ভাবন ও অংশগ্রহণমূলক সৃজনশীল পরিবেশ যেন বজায় থাকে সেদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন মহলের নিরন্তর মনোযোগ থাকা খুবই জরুরি।
এ কথা ঠিক, একটি ‘কারিগরি দুর্ঘটনা’র অজুহাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনোবলের ওপর বড় ধরনের আঘাত এসেছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল ঝোপ বুঝে দ্রুত অগ্রসরমাণ একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মূলে কোপ মারতে সামান্য ইতস্তত করেনি। জাতির পিতা তাঁর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ গ্রন্থের ৪৭-৪৮ পৃষ্ঠায় এই ‘পরশ্রীকাতর’ মহল সম্পর্কে সর্বদাই সতর্ক থাকতে বলে গেছেন। অস্বীকার করার উপায় নেই যে জ্ঞানভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা ও উদ্ভাবনী কার্যলাপের ওপর সাময়িকভাবে হলেও খানিকটা আমলান্ত্রিক জটিলতার আছর পড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা সবাই মিলে এ অভিঘাত সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আশা করছি, এ ধকল থেকে তাঁরা উত্তরণ ঘটাতে পারবেন।
কিন্তু হঠাৎ করেই পুরো আর্থিক খাতের সুশাসন নিয়ে গণমাধ্যমকে আজকাল বেশ সোচ্চার মনে হচ্ছে। এ খাতের গ্রাহকদের মনেও নানা অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা বিষয়ে অভিযোগের পর অভিযোগ ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। এটা মোটেও ভালো কথা নয়। এর পেছনে বাস্তব পরিস্থিতি কী তা দূর থেকে অনুমান করা মুশকিল। তবে যেসব কারণে আর্থিক খাতের দুরবস্থার কথা বলা হচ্ছে, অতিদ্রুত সেদিকে সরকারকে ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে, বিশেষ করে খেলাপি ঋণের প্রসার, কয়েকটি ব্যাংকের সঞ্চিতি ধারণে ব্যর্থতা, ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ নিয়ে নানা কথা, আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক আরোপের মতো বিষয়গুলোর কারণেই সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। হতাশার এই জোয়ার আরো প্রবলভাবে যদি এগোতে থাকে, তাহলে এ খাতের স্থিতিশীলতা নিয়ে যে সংকট সৃষ্টি হতে পারে তা সামলানো মোটেই সহজ হবে না। তাই গোড়াতেই শক্ত হাতে এসব সমস্যার মোকাবেলা করা প্রয়োজন। যেকোনো মূল্যে এ খাতের সুনাম ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দক্ষ, সাহসী ও মেধাবী কর্মকর্তারা এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সক্ষমতা রাখেন। তবে অনেক কষ্টে গড়ে ওঠা আর্থিক খাতের এই রেগুলেটরদের নির্ভয়ে তাঁদের কর্মপরিচালনার সুযোগ করে দিতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন মহল নিশ্চয়ই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পিছপা হবে না। এখানেই নেতৃত্বের অগ্নিপরীক্ষা। আসুন, আমরা তাদের সাফল্য কামনা করি।-ডেস্ক
(কালের কণ্ঠ)
লেখক : উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক গভর্নর, বাংলাদেশ ব্যাংক

নিউজট শেয়ার করুন..

এই ক্যাটাগরির আরো খবর