(দিনাজপুর২৪.কম) খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা নিয়ে দিনাজপুর-৪ সংসদীয় আসন। আত্রাই, ছোট যমুনা ও করতোয়া বিধৌত এলাকা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সেখানে পুরোদমে শুরু হয়েছে প্রচার-প্রচারণা। দলের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে জোর লবিং শুরু করেছেন স্থানীয় নেতারা। পাশাপাশি শুরু করেছেন বিরামহীন গণসংযোগ। এভাবেই বিভিন্ন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ চলছে। কে কোন দলের টিকিট পাবেন এই নিয়ে সর্বত্র চলছে আলোচনা-সমালোচনা ঝড়। চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন বাজারে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ড, পোস্টার, নির্বাচনী স্টিকার লাগিয়ে ভোটারদের নজর কাড়ার চেষ্টা করছেন। ছুটে যাচ্ছেন তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের কাছে। এ সময় মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের বেশ কদর বেড়েছে।

এই আসনের সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে লড়াই হবে সমানে সমানে। দিনাজপুর-৪ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের ভোটব্যাংক প্রায় সমান। যা গত কয়েকটি নির্বাচনে প্রমাণ মিলেছে। জানা গেছে, ১৪-দলীয় জোট ও ২০-দলীয় জোটের মধ্যে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ভোটার দুই লাখ ১০ হাজার ৩১৩ জন। খানসামা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, এই উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে ভোটার এক লাখ ২১ হাজার ৩৬৯ জন। দুই উপজেলায় মোট তিন লাখ ৩১ হাজার ৬৮২ জন। দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে মহাজোটের মনোনায়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীসহ সাবেক হুইপ মিজানুর রহমান মানু, দলটির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ডা. এম আমজাদ হোসেন, দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাজী মো. সাইফুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির সাবেক ছাত্রনেতা উপজেলার আহ্বায়ক মো. মোনাজাত উদ্দীন চৌধুরী মিলন ও আবদুল আলীম হাওলাদার।

অপরদিকে ২০-দলীয় জোটের মধ্যে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া, শিল্পপতি হাফিজুর রাহমান, অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম, জাগপা নেতা আশরাফ খান, জামায়াত থেকে চিরিরবন্দর উপজেলা চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন মোল্লা।

এদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য এ এইচ মাহমুদ আলী পুনরায় আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার আশা করেছেন। তৃণমূল পর্যায়ে তার পক্ষে নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মসূচি ছাড়াও মাঠ পর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এই আসনটিতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হওয়ায় এলাকার নেতাকর্মীরা তার প্রতি গর্বিত ও সন্তুষ্ট। সাবেক হুইপ মিজানুর রহমান মানুও তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

চিরিরবন্দরের আমেনা বাকী রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট সমাজসেবক, বাংলাদেশের অন্যতম অর্থোপেডিক চিকিৎসক মুক্তিযোদ্ধা এম আমজাদ হোসেন ব্যাপক লবিং ও গণসংযোগ করে চলেছেন। মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রচারণায় তিনি এগিয়ে আছেন। দিনাজপুর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাজী মো. সাইফুল ইসলাম ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে, পাড়ায় পাড়ায় নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনিও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন। নির্বাচনী দৌড়ঝাঁপে অ্যাডভোকেট হাজী মো. সাইফুল ইসলাম অনেকটা এগিয়ে আছেন বলে মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

এদিকে নির্বাচনী প্রচারণায় পিছিয়ে নেই ২০-দলীয় জোটের পক্ষে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আখতারুজ্জামান মিয়া। এ ছাড়া শিল্পপতি হাফিজুর রহমান গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, তাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে ২০-দলীয় জোটের মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসনে তিনি দৌড়ঝাঁপে অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। এই আসনটিতে জাগপা নেতা আশরাফ খান ২০-দলীয় জোটের মনোনয়ন পেতে গণসংযোগ শুরু করেছেন।

জামায়াত এই আসনটিতে মামলা থাকার কারণে গোপনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক জেলা আমির আফতাব উদ্দিন মোল্লার পক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে প্রচার চালানো হচ্ছে। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়্যারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির নেতা আবদুল আলীম হাওলাদর মাঠ পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্র্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে এই আসনটিতে মনোনায়ন প্রত্যাশা করেছেন।

জাতীয় পার্টির নেতা মো. মোনাজাত উদ্দীন চৌধুরী মিলন ২০ হাজার যুবকের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন। তিনিও ১৪ দলভুক্ত মহাজোটের জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরাও বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে কাজে লেগে পড়েছেন। সমর্থিত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে, চায়ের দোকানে, রাস্তার মোড়ে, আড্ডার স্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।