(দিনাজপুর২৪.কম) ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ফেনীর আমলি আদালতের বিচারিক হাকিম মো: জাকির হোসাইন মামলাটির বদলির আদেশ দেন। আদেশে আগামী ১০ জুন মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। এ সময় ওই মামলায় আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রভুক্ত ১৬ জনসহ গ্রেফতার ২১ আসামির সবাই উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মামলার বাদী নুসরাতের ভাই আবদুল্লাহ আল নোমানও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল বুধবার এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহ আলম সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। এ মামলায় গ্রেফতার ২১ জন আসামির মধ্যে পাঁচজনকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ১৬ জনের মধ্যে মামলার এজাহারনামীয় আটজন এবং এজাহারবহির্ভূত আটজন আসামি রয়েছে।

নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার একজন নিয়মিত ছাত্রী ও ২০১৯ সালের আলীম পরীক্ষার্থী ছিলেন। তিনি সোনাগাজী পৌর এলাকার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা একেএম মুসা মানিকের কন্যা। রাফির বাবাও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি মাদরাসার শিক্ষক।

নুসরাতকে শ্লীলতাহানীর মামলায় সোনাগাজী ইসলামীয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা গ্রেফতারের পর মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ভাবে নুসরাতকে চাপ দিতে থাকেন। অধ্যক্ষের নির্দেশে তার সাঙ্গপাঙ্গরা মামলা তুলো নিতে নুসরাতের মা ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিতে থাকে। এক সপ্তাহের মধ্যে যদি মামলা তোলা না হয় তাহলে পরিণাম ভাল হবে না বলে হুমকি দেয়। গত ৬ এপ্রিল নুসরাত আলীম পরীক্ষা দেয়ার জন্য পরীক্ষা হলে প্রবেশ করলে তার এক সহপাঠী দিয়ে তার বান্ধবী নিষাদকে মারধর করছে বলে মাদরাসা ভবনের ছাদে নিয়ে সেখানে চোখে চশমা, হাতে মোজা এবং বোরকা পরিহিত চারজন দুর্বৃত্ত তাকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ করে। একপর্যায়ে তাকে মারধর করে ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মারাত্মক আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় নুসরাতের।-ডেস্ক