(দিনাজপুর ২৪.কম) সৈয়দপুরসহ নীলফামারীর অরক্ষিত ৬টি রেলক্রসিং রীতিমত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না। সর্বশেষ সৈয়দপুরের ঢেলাপীরে রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় পুলিশের পিকআপের সংঘর্ষে ৪ জন পুলিশ নিহত ও ৭ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সৈয়দপুরের অদূরে ঢেলাপীর রেলক্রসিংয়ে ইতোপূর্বে অরক্ষিত রেল ক্রসিংয়ে কয়েকজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ‘সাবধান’ এই গেটটি অননুমোদিত, এখানে কোন গেটম্যান নেই। পথচারী ও সব ধরণের যানবাহন চালক নিজ দায়িত্বে পারাপার হবেন এবং যে কোনরুপ দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে নিজেই বাধ্য থাকিবেন- রেল কর্তৃপক্ষের লেখা এমন সাইবোর্ড থাকলেও দুর্ঘটনা রোধে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব রেলক্রসিংয়ে পারাপারের সময় প্রায় দুর্ঘটনা ঘটছে। অরক্ষিত রেলক্রসিং নিয়মিত পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও প্রায় ক্ষেত্রে তা করা হচ্ছে না। রেলওয়ে সূত্র জানায়, এসব লেভেল ক্রসিংয়ের বেশির ভাগই সড়ক ও জনপথ বিভাগের। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে না জানিয়েই এসব লেভেল ক্রসিং গড়ে তোলা হয়।
দুর্ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করা হয়নি। নেওয়া হয়নি দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় কার্যকরী ব্যবস্থা। এসব সুপারিশমালা বছরের পর বছর ফাইলবন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব রেলক্রসিং শুধুমাত্র অরক্ষিত নয়, রেললাইনের উপর গড়ে বাজার, অবৈধ দোকানপাট ও বস্তি। মাঝে মধ্যে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও তা আবার দখলে চলে যায়। অনেকেই রেলের এই উচ্ছেদ অভিযানকে আইওয়াশ বলে মনে করেন সচেতনমহল।
সূত্র জানায়, অরক্ষিত এসব রেলক্রসিং চিহিৃত করে মেরামত ও সংস্কারের কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে বিভাগ। ২০১৭ সালের জুন নাগাদ এগুলোর কাহ শেষ হবে বলে আশা করছেন রেলওয়ে বিভাগ। এর আওতায় গেঁকিপার নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে অরক্ষিত রেলওয়ে ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগ।