(দিনাজপুর২৪.কম) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার গণভবন থেকে সারাদেশের ২ হাজার ৭৩০ শিক্ষপ্রতিষ্ঠান এমপিও তালিকা ঘোষণা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেল।

এদিকে স্কুল এমপিও না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ ওঠেছে নীলফামারীতে। জেলার সৈয়দপুর শহরের বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে তালা দিয়ে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন প্রতিষ্ঠানের বিক্ষুদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারীরা।

জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির তালিকায় প্রতিষ্ঠানটির নাম না থাকায় বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষক-কর্মচারীরা স্কুলের প্রধান শিক্ষককে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা খুলে তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন।

এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের কুন্দল এলাকায় অবস্থিত বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়টি বিগত ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে গত ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিম্নমাধ্যমিক শাখা (ষষ্ঠ-অষ্টম শ্রেণি) এমপিওভুক্ত হয়।

এরপর বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শাখা (নবম-দশম শ্রেণি) এমপিওভুক্তির জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ সকল শর্ত পূরণ করে ও নিয়মকানুন মেনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে। আবেদনের পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তি হবে এমন বুকভরা আশা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছিলেন।

এ অবস্থার মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছরের মাথায় গত বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ২৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত এমপিওভুক্তির তালিকায় সৈয়দপুর শহরের বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম নেই। এতে করে বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্তির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক-কর্মচারীরা হতাশায় পড়েন এবং বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন।

আজ বৃহস্পতিবার প্রতিদিনের মতো যথারীতি শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসেন। কিন্তু বিক্ষুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকারা ক্লাসে না গিয়ে বিদ্যালয়ের অফিসে অবস্থান নেন। এর একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারী প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায়ের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন।

এ খবর অল্প সময়ের মধ্যে গোটা সৈয়দপুর শহরে ছড়িয়ে পড়েন। এ খবর পেয়ে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রাশেদুজ্জামান রাশেদ বিদ্যালয়ে ছুটে যান।

তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেও অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হন। পরে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করার ঘটনাটি সৈয়দপুর থানা পুলিশকে অবগত করা হয়। এরপর সৈয়দপুর থানার এসআই মো. সাহেফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ বিদ্যালয়ে পৌঁছে তালা খুলে প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায়কে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন।

বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীশ চন্দ্র রায় বলেন, বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্তকরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল শর্তপূরণপূর্বক যথাযথভাবে আবেদন করা হয়। আর এমপিওভুক্তি করার এখতিয়ার সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। এতে আমার কোনো রকম গাফিলাতি কিংবা অবহেলা নেই।-ডেস্ক