(দিনাজপুর ২৪ .কম) নীলফামারী প্রাইমারী ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটি আই) প্রশিক্ষণের দুই লাখ টাকা জাল ব্যাংক চালানের মাধ্যমে আত্মসাৎ করার ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর পালিয়ে গেছেন পিটিআই’র অফিস সহকারী জালাল উদ্দীন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নীলফামারী থানায় সরকারী অর্থ আত্মসাতের মামলা হয়েছে। মামলা নং-১৯০।
পিটিআই’র অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে প্রশিক্ষণের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের উদ্বৃত্ত ২ লাখ ১৪ হাজার ৭২৮ টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য অফিস সহকারী জালাল উদ্দীনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্ত সে এ টাকা জমা না করে সোনালী ব্যাংক নীলফামারী প্রধান শাখায় জমা দেয়ার জাল চালান তৈরী করে নিজ অফিসে সংরক্ষণ করেন।
জেলা হিসাব রক্ষক অফিস ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের চুড়ান্ত হিসাব খাতে এ টাকা জমা না হওয়ার ঘটনাটি গত ২৯ জুলাই পিটিআই’র সুপার ও সোনালী ব্যাংক ম্যানেজারকে অবগত করেন। পিটিআই’র সুপার তাৎক্ষনিকভাবে সিনিয়র ইনস্ট্রাকটর হাসনা হেনাকে প্রধান করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত অফিস সহকারী জালাল উদ্দীনকে সাথে নিয়ে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পান।
পরে জালাল তার প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করে টাকা জমা দেয়ার অঙ্গিকার করেন এবং টাকা আনতে গত ৬ আগষ্ট সে তার গ্রামের বাড়ী পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার দেবনগর গ্রামের বাড়ীতে যান। এর পর সে আর অফিসে আসেনি এবং অফিসের কারো সাথে কোন যোগাযোগ করেনি। সেই দিন  থেকে তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ রয়েছে বলে জানান পিটিআই কর্তৃপক্ষ।
পিটিআই’র সুপার সাদিয়া আফ্রিন বিজলী  জানান, অফিস সহকারী জালাল উদ্দীন ছিল একজন মাদকাসক্ত। সে এর আগে রংপুরের পীরগজ্ঞ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে কর্মরত ছিল। সেখানেও তার বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাৎ সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে তিনি জানান। (ডেস্ক)