♦ ট্রাফিকব্যবস্থা না থাকায় বেপরোয়া সব ধরনের যান 

♦ ভাসমান পতিতাদের ঘিরে অপরাধ সিন্ডিকেট
♦ ভোরে বেশি ছিনতাইয়ের শিকার হন দূরপাল্লার যাত্রীরা,

হাসান-উজ-জামান (দিনাজপুর২৪.কম) অনেকটাই অনিরাপদ রাতের ঢাকা। অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিকব্যবস্থার কারণে বেপরোয়া গতিতে চলে যানবাহন। বিশেষ করে ট্রাকচালকরা কোনো কিছুরই পরোয়া করে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঢিলেঢালা নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবাধ বিচরণ ভাসমান যৌনকর্মীদের। এসব যৌনকর্মীদের ঘিরে গড়ে ওঠে অপরাধ জগতের সিন্ডিকেট। মাদক ব্যবসা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধে অভ্যস্ত এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা। বিভিন্ন ক্লাবপাড়ার রাস্তায় গভীর রাতে মাদকসেবীদের মাতলামি চোখে পড়ে। চোখে পড়ে যৌনকর্মীদের অবাধ বিচরণও। কিছু দিন আগে হঠাৎ করে ঢাকার রাস্তায় পুলিশের ব্যাপক টহল তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। ওই সময় বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি করতে দেখা গেছে। শুধু তা-ই নয়, রাতে যারা মটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেটকার নিয়ে ঘুরে বেড়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সেসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর টুকে রাখতে দেখা গেছে। ওই সময় মটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ব্যবহারকারীর মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করতে দেখা গেছে। রাতে যারা বিভিন্ন পয়েন্টে হকারি কিংবা ব্যবসা করেন তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের ওই ধরনের তৎপরতায় রাতের ঢাকায় সহযোগীদের নিয়ে হাফপ্যান্ট পরে মোটরসাইকেল নিয়ে দাপিয়ে বেড়ানো সন্ত্রাসীদের উপস্থিতি অনেকটাই কমে গিয়েছিলো। কিন্তু ইদানিং আবার হাফপ্যান্ট পরে বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ানো যুবকদের দাপট দেখা যাচ্ছে। মতিঝিল এলাকায় রাতে খাবারের ব্যবসা করেন এমন এক ব্যক্তি বলেন, পুলিশের টহল তৎপরতা ও চেকপোস্ট থাকলে ছিনতাইয়ের খবর পাওয়া যায় না। কিন্তু পুলিশ নীরব থাকলেই ছিনতাই বেড়ে যায়। বেশি টাকা কিংবা বড় ধরনের কোনো ঘটনা না ঘটলে ছিনতাইয়ের ব্যাপারে সাধারণত থানার দ্বারস্থ হন না ভুক্তভোগীরা। কারণ কেন রাতে বাইরে থাকাÑ পুলিশের এ ধরনের জেরার ভয়েই কেউ মুখ খোলেন না। অনেকের মতে, যেসব এলাকায় ভাসমান যৌনকর্মীদের উপস্থিতি বেশি সেসব এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনাও বেশি ঘটছে। গত কয়েকদিনে রাজধানীর মতিঝিল, ওয়ারী, যাত্রাবাড়ি, বিশ্বরোড, মহাখালী, ফার্মগেট, বিজয়সরণি, মালিবাগ, মগবাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাত ১২টার পর ফাঁকা থাকায় নগরীতে যানবাহন চলাচল করে অনেকটা বেপরোয়াভাবেই।
ট্রাফিকব্যবস্থা কাজ করে না। দু-একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ থাকলেও তারা যেন ঝিমিয়ে সময় পার করে। কোথাও পুলিশের টহল দেখা গেছে, কোথাও কোথাও পুলিশকে গাড়িতেই বেশ আয়েশে ঘুমাতে দেখা গেছে। পল্টন মোড়ে কথা হয় এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে। তিনি বলেন, রাতের বেলা ট্রাকগুলো এতো গতি নিয়ে চলে আমরা চাইলেও থামাতে পারি না। তবে ট্রাকচালকদের দাবিÑ চাঁদার ভয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতেই তারা এমনটি করেন। এই বেপরোয়া গতির কারণেই রাতে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা ঘটানো যান বাহনের হদিশ মেলে না। শুধু দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি আহত হয়ে পড়েন রাস্তায়। কখনোবা একেবারেই লাশ। আবার দূরপাল্লার বাস থেকে নেমেই শিকার হন ছিনতাইয়ের। অনেকের মতে, বিভিন্ন টার্মিনালের আশপাশে পুলিশের টহল তৎপরতা বৃদ্ধি করা উচিৎ। কারণ টার্মিনালগুলোতে বিচরণ করে ছিনতাইকারীদের সোর্স। তারা কোনো টার্গেটকৃত যাত্রীর গতিবিধি মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয় ছিনতাইকারীদের। আর সুবিধামতো স্থানেই তারা যাত্রীর সর্বস্ব কেড়ে নেয়। অনেকের মতে. রাত তিনটা থেকে ভোর সাড়ে ৬টা পর্যন্ত বেশি ছিনতাইয়ের শিকার হন দূরপাল্লার যাত্রীরা। এজন্য অন্যান্য সময়ের চেয়েও ওই সময়টুকুতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো বেশি তৎপর থাকা জরুরি। -ডেস্ক রিপোর্ট