(দিনাজপুর২৪.কম)  বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, দেশবাসীর দাবি একটাই আর তা হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন। তিনি বলেন, সরকারকে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আর সেই নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ। সম্ভাব্য ওই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন, তা হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে এখন আইনের শাসন বলে কিছু নেই। মানুষ কথা বলতে পারে না। বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে।’ দেশে আজ মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর কোন নিশ্চয়তা নেই দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে মানুষ পেটাতে লাইসেন্স দিয়েছে সরকার।  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইনিস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তন দলের পক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে খালেদা জিয়া এ কথা বলেন। দেশ এখন গণতন্ত্রহীন ‘পুলিশি রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।  ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কড়া সমালোচনা করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ আজকে পেটাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তারা শিক্ষক, নারী, আইনজীবী, সমাজকর্মীসহ সবাইকেই পেটাচ্ছে। মানুষ পেটানোর জন সরকার তাদের লাইসেন্স দিয়েছে।  দেশে সু-শাসনের অভাবে এমনটা হচ্ছে দাবি করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনেরও দাবি জানান বিএনিপ নেত্রী খালেদা জিয়া।  তিনি বলেন, এ দেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় আসবে। অন্য কোনো দলের ওপর জনগণের আস্থা নেই। সেজন্য দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এটিই আমাদের দাবি। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে বিএনপি নেত্রী বলেন, আপনারা নির্ভয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন, এই নির্বাচনে বিজয়ী দল রাষ্ট্র পরিচালনা করুক। এ দেশের জনগণ পরিবর্তন চায়। আমরাও পরিবর্তন চাই। সেই পরিবর্তন অন্য কোনো পন্থায় নয়।  নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে খালেদা ঝয়া বলেন, আমরা সারা দেশে দল গোছানোর কাজ শুরু করেছি। যারা দলের প্রতি আনুগত্যশীল, কর্মসূচি বাস্তবায়নে জীবন বাজি রাখবে তাদের নেতৃত্বে নিয়ে আসবেন। আর ফাঁকিবাজ ও নিষ্ক্রিয়দের পেছনের সারি নিয়ে যাবেন।
উপস্থিত সিনিয়র নেতাদের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনারা যার যার এলাকায় গিয়ে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। দয়া করে ঢাকায় বসে পকেট কমিটি করবেন না। কারণ অনেক দিন ধরেই আমি আপনাদের সঙ্গে আছি। এলাকার অনেক নেতাকেই আমি চিনি যাদের আপনারাও চিনেন না। তাই পকেট কমিটি করলেও আমি বিশ্বাস করবো না। এদিন বিকেল ৫টায় কোরআন তেলাওয়াত, জাতীয় ও দলীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান। তবে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বন্যা এবং বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ঢাকাবাসীর সীমাহীন দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্ব বাতিল করা হয়।  সরকারের প্রতি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, আসুন আমরা জাতীয় ঐক্যের রাজনীতি করি। হিংসা, হানাহানি, বিভেদ থেকে বেরিয়ে এসে দেশের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করি। দেশ গড়ার রাজনীতি করি। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত হয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ, জমির উদ্দিন সরকার, এস আম আব্দুল হালিম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, আমির খশরু, যুগ্ন মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মির্জা আব্বাস পত্নী আফরোজা আব্বাস প্রমুখ। -ডেস্ক