মিজান (দিনাজপুর২৪.কম) নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুরুতর আহত অবস্থায় ৮জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আরো অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। আশংকাজনক অবস্থায় ১জন কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। সহিংসতার এই চিত্র ঠাকুরগাঁয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ১১নং বৈরচুনা ইউনিয়নের। সেখানে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ প্রার্থী পরাজিত হবার পর আনারস প্রতীকের বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা করলে ওই সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত ২৩ এপ্রিল শনিবার ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ১১ নং বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদ তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরে আলম সিদ্দিকী দুলালের কর্মী সমর্থকরা পরাজিত হবার ক্ষোভ ও লজ্জায় আনারস মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী জালাল উদ্দীনের কর্মীদের উপর সন্ত্রাসী হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে অর্ধশত ব্যক্তি কমবেশী আহত হয়। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ৮জন কে দিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মোস্তাফিজ নামে ১ জনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তড়িঘড়ি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। দিমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হলেন- শাহজাহান (৩৫), রফিকুল (৬৫), মোতাহার (৩৫), এলিজা (৮০), রেজাউল (২৪), আমিনুল (৫৫), আকবর (৬০) ও তরিকুল (৪৫)।
এলাকাবাসী জানায়, ভোট শেষে আজলাবাদ কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী নুরে আলম সিদ্দিকী দুলাল ও তার স্ত্রী হিমু ভোট গননার সময় ওই কক্ষে অবস্থান নেয়াকে কেন্দ্র করে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস মার্কার সমর্থকদের সাথে কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় ভোট গননা চলতে থাকলে এক পর্যায়ে নৌকা প্রতীক পরাজিত হয়। ফলে নৌকার কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আনারস মার্কার জালাল উদ্দিনের কর্মী সমর্থকদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা গণহারে নারী-পুরুষসহ সকলকে এলোপাথারি পেটাতে থাকে। কাউকে কাউকে চিনতে পেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ফলে পুরো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে র‌্যাব-বিজিবি- পুলিশ- দাঙ্গা পুলিশ চেষ্টা করলে সহিংসতার মাত্রা বেড়ে যায়। তখন পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সুযোগে আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হয়। এক পর্যায়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে রাত ১০টা নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
এ ঘটনায় আহত সার্জেন্ট (অবঃ) আবুল কালাম আজাদ জানান, চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস মার্কায় জালাল উদ্দীন ৪৯০ ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর নৌকার কর্মীরা হামলা চালিয়ে ৫টি মোটর সাইকেল ভাংচুর, ২টি মোটর সাইকেল নিখোঁজ ও গভীর রাত ৩টায় ২টি দোকান আগুনে পুড়িয়ে দেয়। আনারস মার্কার কর্মীরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নৌকা মার্কার সমর্থকদের হিং¯্র দাপটে আমরা এলাকাবাসী নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। সংশ্লিষ্টদের এব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণে জোর দাবী জানাচ্ছি।