(দিনাজপুর২৪.কম) দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।তবে পরে হাইকোর্টে এই বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দেবেন, আমরা সে অনুসারে কাজ করতে বাধ্য।’ সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার খাস কামরায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা।আজ বেলা ২টা ১০ মিনিট থেকে ২টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। এ সময় কমিশনের অন্য কোনো সদস্য তার সঙ্গে ছিলেন না।

সিইসি বলেন, ‘চলমান পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। তবে তিনি যদি আপিল করেন এবং আদালত যদি তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন, তবে সেক্ষেত্রে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। ‘আশা করি, খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।’

বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচন করতে পারবেন কি না, এ নিয়ে বিতর্ক চলছে। ফলে আইনি ব্যাখ্যারও প্রয়োজন আছে। এ নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কোনও আলাপ হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মোকদ্দমা নিয়ে এখানে কোনও কথা হয়নি।’

আইনত তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কিনা, জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমার যেটা মনে হয়, আমিও তো একজন বিচারক ছিলাম। এডিএম (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট) ছিলাম। সামান্য জ্ঞানে যেটা মনে হয়, এখন যে অবস্থানে আছেন, এখন তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। এখন তিনি অভিযুক্ত। এরপর সর্বোচ্চ কোর্টে গেলে যে রকম নির্দেশ আসবে, সে রকম হবে।’

এ নিয়ে তো দুইটি মত আছে। একটা মত আছে, মামলা বিচারাধীন থাকলে নির্বাচন করতে পারবেন। আরেকটা মত আছে, নির্বাচন করতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘এই সব জিনিস সবসময়ই উচ্চ আদালতের বিবেচনাধীন। উচ্চ আদালতের নির্দেশের ওপরে আমাদের কাজ করতে হয়।’

তাহলে কি বিএনপি চেয়ারপারসের নির্বাচনে অংশ নেয়ার বিষয়টির জন্য উচ্চ আদালতের দিকে তাকিয়ে থাকবেন? জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘হ্যাঁ। উচ্চ আদালতে তারা যদি যান, তারা যদি আপিল করেন, তখন একটা পরিস্থিতি। এখন পর্যন্ত আপিল করেননি। তাই এখন আরেকটা পরিস্থিতি। এখনও তিনি আপিল করেনি, সে পরিস্থিতি হলে সেটা তো বললাম। যেহেতু আপিল করেননি, তার মানে অভিযুক্ত অবস্থায় আছেন। সুতরাং এই অবস্থায় তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না। তারপরে উচ্চ আদালতে গেলে কী রকম ডিরেকশন আসে, তার ওপরে নির্ভর করে আমাদের সিদ্ধান্ত হবে।’

কেএম নুরুল হুদার এক বক্তব্য তুলে ধরে জানতে চাওয়া হয়, আপনি বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে সেটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে না। এখন উচ্চ আদালত থেকে আপিল নিষ্পত্তি হয়ে যদি এরকম এবটা পরিস্থিতি হয় যে, বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচনে আসতে পারছেন না, সেক্ষেত্রে কী বলবেন? উত্তরে সিইসি বলেন, ‘এত দূরের কথা বলা যাবে না। এখনও তো অনেক সময় আছে। নির্বাচন তো অনেক দূরে। কী অবস্থা হবে, তা বলা মুশকিল। আমাদের কাছে উচ্চ আদালত আছে, সুপ্রিম কোর্ট আছে, তারপর আমরা আছি। আমি আশা করি যে, এই সমস্যার সমাধান হবে। আমি এও আশা করি যে, সব সমস্যার সমাধান করে খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নিন। এখন কোর্টের যে সিদ্ধান্ত, সেটা তো আমাদের মানতে হবে।’

বিএনপি গঠনতন্ত্র সংশোধনের কথা বলছে। সেখানে তারা কী সংশোধন চেয়েছে, তা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘আমরা তো তাদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করবো না। তারা গঠনতন্ত্র সংশোধন করেছে। আমাদের কাছে জমা দিয়েছে।’ কিন্তু তা আইনসিদ্ধ হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি।

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কেন সাক্ষাৎ করতে এসেছেন, জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। প্রধান বিচারপতি সংবিধানের প্রথম স্থানের একজন লোক। সে হিসেবে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলাম। অনেক আগেই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতাম। কিন্তু তিনি ব্যস্ত থাকায় আজ এলাম।’

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে, তা জানতে চাইলে বলেন, ‘সাক্ষাতে আমরা বলেছি যে, নির্বাচনের সময় আপনাদের কাছ থেকে যেন সহযোগিতা পাই, সহমর্মিতা পাই। এছাড়া আর কোনও ইস্যু ছিল না।’

নির্বাচন কমিশনের অনেক মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার বিবাদী হিসেবে আপনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসতে পারেন কিনা, এর উত্তরে সিইসি বলেন, ‘না না, এখানে এসে দেখা করা যায় না। কিন্তু এটা তো তার চেম্বার। মামলা-মোকদ্দমা যেগুলো আমরা ফেস করি, সেগুলো তো কোর্টের মাধ্যমে হয়, আমাদের আইনজীবী আছে। ফ্যাক্টস অ্যান্ড ফিগার আমরা দেই, তার ওপরে হয়।’

নির্বাচন কমিশনকে বিচার বিভাগ কী ধরনের সহযোগিতা করতে পারে, তা জানতে চাইলে কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘পুরোপুরি সহযোগিতা। নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য হাইকোর্টের ভূমিকা হলো যে, যেন আমরা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারি। আইনের জটিলতা যদি থাকে, সেটা কীভাবে নিষ্পত্তি করে সময়মতো নির্বাচন উত্তরণ করা যায়, এগুলো তো করেই থাকে সবসময়।’

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। এরপর থেকেই তিনি ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।এদিকে, খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা রায়ের কপি হাতে পেয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হবে। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রায়ের কপি পাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া।