(দিনাজপুর২৪.কম) নির্বাচনকালীন সময়ে র‌্যাব, পুলিশের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে বিজিবি প্রস্তুত। নির্বাচনের সময় সীমান্তে ভারসাম্য রক্ষার জন্য ভারত এবং মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে সহযোগীতা চেয়েছে বিজিবি। সোমবার (১০সেপ্টেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনের সময় অরক্ষিত সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালান যাতে না হয় সেজন্য বিজিবি গত তিন মাস ধরে কাজ করছে। নির্বাচনের মহড়া হিসেবেই বিজিবি এসব কাজ করেছে। আর মিয়ানমার ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে সাহায্য চাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সীমান্ত রক্ষা ও অভ্যন্তরীণ আইনশঙ্খলা রক্ষা করতে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে বিজিবি। তাই সীমান্তে যাতে কোনো সমস্যা না হয় এ জন্যই দুই দেশের দুই বাহিনীর কাছে সাহায্য চাওয়া হয়েছে বলে জানান বিজিবি প্রধান। আর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনা শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণায় অগ্রগতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গত ২০০১ সালে বিএসএফ এর গুলিতে ৭১ জন বাংলাদেশী নিহত হয়। ২০১০ সালে তা কমে ৬০ জন, ২০১৫ তে ৪৫জন, ২০১৬ তে ৩১জন, ১৭ সালে ২২ জন এবং চলতি বছরের গত ৮ মাসে ১জন বাংলাদেশী নিহত হয়েছেন। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়টি বরাবর আলোচিত বিষয়। গত ২০০১সাল থেকে গত তিনটি সরকারের আমলেই সীমান্তে এক হাজার ৭৫ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে। ওই সরকারের শাসনামলে পাঁচ বছরে এই সংখ্যাটি ছিল ৫৬৪। অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ১১৩জন করে বাংলাদেশি হত্যা হয়েছে। আর সেনা সমর্থিত তত্ত্ববধায়ক সরকারের আমলের দুই বছরে নিহত হয় ১৮২জন বাংলাদেশি। এর মধ্যে ২০০৮ সালে ৬২ জন এবং ২০০৭সালে ১২০জন নিহত হয়। আর বর্তমান সরকারের আমলে ১০বছরে এখন পর্যন্ত প্রাণহানির তথ্য মিলেছে ৪০০জন। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর বিজিবি-বিএসএফ সম্মেলনের কথা তুলে ধরে বিজিবি তিনি বলেন,‘চলতি বছর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মাত্র এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এটি শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সাথে সীমান্ত সম্মেলনে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

বিজিবি মহাপরিচালক জানান, চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত মোট ৫৩টি পিস্তল, ১৬টি বন্দুক, ২৩৭ রাউন্ড গুলি, ৫০০ গ্রাম বিস্ফোরক, ১৭টি ডেটনেটর উদ্ধার করেছেন তারা। ‘অস্ত্র চোরাচালানরোধে সীমান্তে অতিরিক্ত নজরদারি করা হচ্ছে। এছাড়া কুড়িগ্রাম ও কুমিল্লার দুটি স্থানকে ক্রাইম ফ্রি এলাকা হিসেবে ঘোষণার জন্য যাচাই-বাছাই চলছে।’

বিজিবি মহাপরিচালক জানান, বিজিবি ও বিএসএফ সীমান্তে যৌথ টহল হয়েছে ১২ হাজারের বেশি। আর মিয়ানমারের সাথেও বাংলাদেশের যৌথ টহল হয়েছে দুই হাজারে বেশি।

তিনি আরো বলেন, ‘মাদক পাচারকারীরা নিত্য নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এমনভাবে ইয়াবা পাচার করছে তা কল্পনাতীত। মহিলারা যদি নিজেদের গোপনাঙ্গে ইয়াবা নিয়ে আসে তাহলে সেটা কীভাবে ধরব?’ ‘ডাবের মধ্যে ইয়াবা নিয়ে আসে, সবজির মধ্যে ইয়াবা নিয়ে আসে। তারপরেও আমরা ধরছি। না ধরলে এগুলো জানলাম কীভাবে?’ ‘মিয়ানমার সীমান্তে তাদের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী মাদক পাচারের বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে আছে। তারাও কাজ করছে। আমরাও কাজ করছি।’ আর দেশে মাদকের চাহিদা কমাতে পারলে চোরাচালান কমে আসবে বলে মনে করেন বিজিবি প্রধান।

চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত মোট ৮২ লক্ষ ইয়াবা বড়ি, ২০১৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত দুই লাখ ৩২ হাজার ৮৬৭ বোতল ফেনসিডিল ইয়াবা জব্দ করার কথাও জানান তিনি। আর সীমান্তে মাদক পাচার রোধে প্রযুক্তির মাধ্যমে এবং প্রশিক্ষিত কুকুরের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। আর এই সময় মানব পাচারের সময় ৫৮১ জন পুরুষ, ২০৮ নারী ও ১১৩টি শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। -ডেস্ক