(দিনাজপুর২৪.কম) গণতন্ত্রের পথ ছেড়ে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ভুলপথে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে মুখে ফ্যানা তুলে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ভুল পথে যাচ্ছে। এতে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হবে। প্রহসনের ইউপি নির্বাচনের সমালোচনা করে তারা বলেন, নির্বাচনে ২২ জন লোকের প্রাণহানি হলো। জনগণের ভোট কেড়ে নেয়া হলো। নির্বাচনের নামে তামাশা না করে বাকি ইউপিগুলোতে আপনাদের প্রার্থীদের বিজয়ী একটি তালিকা টানিয়ে দিন। এসময় ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনতে দলের নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। বিকালে রাজধানীর ইনঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় দলের সিনিয়র নেতারা এসব কথা বলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভিশন-২০৩০ যে প্রস্তাব দিয়েছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলি। আসুন গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি করা হচ্ছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার তাকে অস্বীকার করছে। তাতে কিছু আসে যায় না। ইতিহাস তাকে ধারণ করেছে। এদেশের মানুষের হৃদয়ে গেঁথে গেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার কথা ছিল তৎকালীন রাজনৈতিক  নেতাদের।  তারা ঘোষণা না দিয়ে পালিয়ে গেলেন। তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন।  এ সত্য কথা বলায় কেএম সফিউল্লাহকে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাসিত করা হয়েছে। তবে সত্য ধ্রুব তারার মতো সত্য। সত্যকে কখনও আড়াল করা যায় না। নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, প্রহসনের নির্বাচনের আগে ইসি বললেন, প্রশাসন কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি না। তারপরে নির্বাচনে ২২ জন লোকের প্রাণহানি হলো। জনগণের ভোট  কেড়ে নেয়া হলো। অথচ সিইসি নির্লজ্জভাবে বললেনÑ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্নপথে যাচ্ছে। এজন্যই দেশে জঙ্গি ও উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে। সরকারকে গণতান্ত্রিক পথে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা জানেন আপনারা অবৈধ। তাই গণতান্ত্রিক পথে এসে একটি নির্বাচন দিন। তাহলে জঙ্গি ও উগ্রবাদ হবে না। একটি সমঝোতার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পথ ফিরিয়ে আনলে আপনাদের, আমাদের ও জনগণের জন্য ভাল হবে।  দেশে নৈরাজ্য কেন এমন প্রশ্ন রেখে মওদুদ আহমেদ বলেন, দেশে কোন আন্দোলন নেই। এখন মানুষ শান্তিতে থাকার কথা, কিন্তু শান্তি নেই। সবখানে নৈরাজ্য। আজকে শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে। ছাত্রীরা ধর্ষিত হচ্ছে। কেউ নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, দেশের মানুষ জানতে চায় যারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকা লুটপাটে জড়িতদের ধরা হবে কি? হবে না। কারণ এর সফঙ্গ উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সরকারের লোক জড়িত। তাই সাবেক একজন বিচারপতির মাধ্যমে একটি তদন্ত কমিটি করে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করা হোক। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, নির্বাচনের নামে তামাশা না করে গণভবনে একটি মিটিং করে বাকি সকল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতে আপনাদের প্রার্থীদের বিজয়ী একটি তালিকা টানিয়ে দিন। সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের কথা বলে মুখে ফ্যানা তুলে তারাই গণতন্ত্রকে বারবার হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ ৭৫ সালে গণতন্ত্র হত্যা করেছে। এখনও করছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পর্যন্ত সকল নির্বাচনে জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ  হোসেন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মহ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, মহিলা দলের সভানেত্রী নূরী আরা সাফা, স্বেচ্ছাসেবক সিনিয়র-সহ সভাপতি মুনির হোসেন, ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসান বক্তব্য রাখেন। এছাড়া দর্শক সারিতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান. সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। -ডেস্ক