(দিনাজপুর২৪.কম) রোজার ঈদ কেটেছে কারাগারে। সামনেই কুরবানির ঈদ! এরপরই একাদশ সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে কারাগারে ৬ মাস পূর্ণ করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। গত ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের কারাদ- দেন আদালত। তারপর থেকে নির্জন কারাগারে অন্তরীণ তিনি। মুক্তির দাবিতে তার দল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করলেও কোনো আলোর মুখ দেখছে না দলটি। নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগারে আছেন খালেদা জিয়া। স্বজনদের তথ্য মতে, সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকা পড়েন খালেদা জিয়া। ইবাদত-বন্দেগি ও বই পড়ে দিনের বেশিরভাগ সময় কাটে তার। তাদের মাধ্যমে দেশের এবং রাজনৈতিক সব খবর নেন বলেও জানান তার স্বজনরা। এ নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তার আর দুটি মামলা চলমান আছে এ দুটি মামলায় জামিন হলেই খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলে দাবি করেন তিনি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি মিললে তিনি ফের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলেও বিশ্বাস খোকনের। নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রাখার জন্য অন্যায়ভাবে আরও নতুন মামলায় জড়ানোর ইঙ্গিত দেন দলের এই আইনজীবী ও নীতিনির্ধারক। মাহবুব বলেন, এ বছরটি যদি নির্বাচনের বছর না হতো তাহলে খালেদা জিয়াকে কারাগারে রাখা কিংবা আটক রাখা কিছুই হতো না। সরকার ফের আরেকটি কলঙ্কের নির্বাচনের জন্য অধিকাংশ মামলায় মুক্তির পর কারাগার থেকে বের হওয়ার সবুজ সঙ্কেত দিচ্ছেন না। ৩৬ মামলার প্রায় সবগুলোতেই মুক্তি মিলেছে, এখন চলমান দুটি মামলায় মুক্তি মিললে জামিনে আর কোনো বাধা থাকবে না বলেও মনে করছেন খালেদার এই আইনজীবী। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় কারাগারে ছয় মাস পার করলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৩৬টি মামলার মধ্যে দুটির জামিন এখনো বাকি। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে তার জামিন না পাওয়ার আশঙ্কার কথাও বলছেন নেতাকর্মীরা। শীর্ষনেতারা জানান, নির্জন কারাগারে ভালো নেই বেগম জিয়া। নানা রোগে ভুগছেন। দলের নেতারা মনে করছেন ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে কয়েকটি কর্মসূচি দেয়ার চিন্তা রয়েছে দলের। তবে ঈদের পর কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনাও আছে দলটির। খালেদা জিয়া অসুস্থ হওয়ায় গত ৭ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়। বিএনপি তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে। ৭৩ বছর বয়সি খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র, চোখ ও হাঁটুর সমস্যা রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আগামী নির্বাচন একতরফা করতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় তার নেত্রীকে সাজা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হলেও তার চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। আগামী নির্বাচনে খালেদার মুক্তি সরকারের জন্য বড় আতঙ্ক। তাই অন্যায়ভাবে তাকে আটক রাখার সকল ফন্দিই করছেন এই অবৈধ সরকার। খালেদা জিয়ার মামলার সর্বশেষ অবস্থা প্রসঙ্গে তার আরেক আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৩টিতে জামিনে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। কুমিল্লা, নড়াইল ও ঢাকার তিনটি মামলার জামিন বাকি আছে। খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, বেগম জিয়ার আরও আগেই কারামুক্তির কথা ছিল। কারণ গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে জামিন দিলেও সরকার খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘ করেন, যাতে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, হয়তো নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়ার জামিন নাও মিলতে পারে। -ডেস্ক