(দিনাজপুর২৪.কম) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারে কারা থাকবে, কখন হবে, তা একমাত্র শেখ হাসিনাই জানেন। বৃহস্পতিবার (০৬সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে রাজশাহী আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের দয়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন প্রমুখ। বুধবার (০৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, আগামী ২০ দিনের মধ্যে স্বল্প পরিসরে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে। আর আগামী ২৭ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন হতে পারে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, এই সরকারের আকার কী হবে, আকারে কতোটা ছোট হবে, মন্ত্রিসভার সদস্য কতোজন হবেন, সব বিষয়ের এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া কেউ এ বিষয়ে কিছু জানেন না। আর ২৭ ডিসেম্বর নির্বাচনের তারিখ নিশ্চিত হলেও এটা বলার দায়িত্ব আমাদের নয়, বলার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশন বিব্রত হয়, এমন কোনো কথা বলা উচিত নয়। নির্বাচন কমিশন বলবে কবে নির্বাচন হবে। এটা বলার দায়িত্ব সরকারের নয়, কোনো মন্ত্রীরও নয়। যার যে দায়িত্ব, তার সে দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ভালো।

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় না। এটা জাতীয় ঐক্য নয়, এটা সাম্প্রদায়িক ঐক্য। এদেশের সবচেয়ে বড় দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সমর্থক কতো? ভোটার কতো? আওয়ামী লীগের সেই সমর্থকদের বাদ দিয়ে, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হাস্যকর। এটা জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হচ্ছে। দেশের সব চেয়ে বড় দলকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় না-কি? জাতীয় ঐক্য, এই শব্দ ব্যবহার না করাই ভালো।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শতকরা ৯০ ভাগ ইউনিয়ন পরিষদে, উপজেলা পরিষদে আওয়ামী লীগ জিতেছে। কুমিল্লা ও সিলেট ছাড়া সবগুলো সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। সেই আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে জাতীয় ঐক্য হয় না। জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন হলে আমরা ডাক দেবো। এখন আমরা জনগণের ঐক্য চাই।

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কাদের বলেন, প্রতিযোগিতা থাকা ভালো। প্রতিযোগিতা আছে, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতা অসুস্থতা ও অস্থিরতার দিকে যাচ্ছে। এটা ভালো নয়। নির্বাচন করার জন্য দলের মনোনয়ন পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থাকতেই পারে, কিন্তু চায়ের দোকানে বসে গ্রুপিং-মিটিং করে একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনের বক্তব্য দেওয়া আত্মঘাতী। এই আত্মঘাতী প্রচার বন্ধ করতে হবে। নির্বাচনের এই মুহূর্তে দলের কোনো কমিটি ভাঙা যাবে না। সেই সঙ্গে কোনো নতুন কমিটিও গঠন করা যাবে না। এটা কেন্দ্রীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না।

দিনাজপুর ও বরগুনায় নিজ দলীয় দুই সংসদ সদস্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, এভাবে অবাঞ্ছিত করার এখতিয়ার কারো নেই। কারো অভিযোগ থাকলে সেটি কেন্দ্রে দায়িত্বশীল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে জানাতে হবে। আর কোথাও জানিয়ে কাজ না হলে, আমাকে বলতে হবে। -ডেস্ক