ফাইল ছবি-সম্পাদক, এস.এন.আকাশ, দিনাজপুর২৪.কম

এস.এন.আকাশ, সম্পাদক (দিনাজপুর২৪.কম) জ্যৈষ্ঠ মাসকে বলা হয় মধু মাস। এমাসে বিভিন্ন ধরনের দেশিয় ফল পাকে। তার মৌ মৌ সুগন্ধে পাড়া মহল্লায় মিষ্টি আমেজ বিরাজ করে। আম, লিচু, কলা আনারস, পেয়ারা, জাম, জামরুলসহ সবধরণের দেশিয় ফলে বাজার ভরপুর। ফলের প্রতি আসক্ত মানুষের দল সেসব ফল কিনে নিজেদের রসনা পূরণ করেন। কিন্তু দেশিয় এসব ফলে বিষ এই অজুহাতে বিপুল পরিমানে দেশিয় ফল বিনষ্ট করা হচ্ছে। টন টন পাকা আম ট্রাকের নিচে ফেলে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। বছর তিনেক আগে ঢাকার প্রবেশমুখে আম, লিচুর ট্রাক আটকে ঢালাওভাবে দেশে উৎপাদিত ফল ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে। তবে অভিযোগ,চাষি আর মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সর্বস্বান্ত করার জন্য এই ধরনের অভিযান চালানো হয়। একধরনের চক্রান্তকারীরা নিরাপদ দুরুত্বে কলকাঠি নাড়ে। পরবর্তীতে অভিযোগের সত্যতা মেলে। বিষয়টি খোলাসা করা হয়। বলা হয়,ফরমালিন পরীক্ষা করার যন্ত্রটি ত্রুটিপূর্ণ থাকার কারণে এই বিভ্রান্তি ঘটেছে।
পাকা ফলে প্রকৃতিগতভাবে কিছু পরিমাণ ফরমালিন থাকে, যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর নয়। অতিরিক্ত ও ক্ষতিকর ফরমালিন মাপার যন্ত্রপাতি অন্য রকম। তার সঙ্গে আনুষঙ্গিক আরও ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। প্রয়োজন পরীক্ষাগার এবং ল্যাবরেটরি পরিচালনায় দক্ষ ব্যক্তির। আগের সব অভিযানই ছিল যেমন অনুমাননির্ভর আর ধারণাপ্রসূত,এবারেও তার কোনো গুণগত পরিবর্তন আসেনি। তাই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলতে বাধ্য হচ্ছেন ‘ওরা বলেছে মেডিসিন দিয়ে পাকিয়েছে, মেডিসিন মানেই তো বিষ, তাই আমরা ট্রাকের নিচে ফেলে বিষাক্ত আম ধ্বংস করেছি।’
গোলটা এখানেই,মেডিসিন মানেই বিষ, এটা কি ঠিক? পুষ্টিবিজ্ঞানিদের মতে, ইথোফেন ব্যবহার করে ফল পাকালে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকে না। এটি একধরনের গ্যাস, যা ফলের ভেতরের এনজাইমকে প্রভাবিত করে। ফলে ফল তাড়াতাড়ি পাকে। আম আর কলার ক্ষেত্রে ইথোফেন ব্যবহারে কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
দেশে আইন করে (নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩) একটি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বহাল করা হয়েছে। দেশে উৎপাদিত ও বাজারজাত করা সব খাদ্যদ্রব্য, ফলমূল ইত্যাদির মান নির্দিষ্টকরণ, নজরদারির দায়িত্ব এই কর্তৃপক্ষের। কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই আইন অনুযায়ী খাদ্য আদালত গঠন করেছে। মজার বিষয়, বিষাক্ত আম অনুসন্ধানে নিয়োজিত ভ্রাম্যমাণ আদালত নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আওতার মধ্যে কাজ করছেন না। নিরাপদ খাদ্য আইনের ৫১ ও ৫২ নম্বর ধারায় খাদ্য পরিদর্শন, নমুনা সংগ্রহ, যাচাই, জব্দ ইত্যাদি যাবতীয় দায়িত্ব নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউটের (বিএসটিআই) সঙ্গে সংযুক্ত আদালতের আওতায় ফলের বাজার বা ফলের বাগান পর্যন্ত প্রসারিত করা হলে সেটা সবাইকে জানিয়ে দেওয়া উচিতবলে আমরা মনে করি।
আমরা এই ধরনের ঢালাও অভিযোগের তীব্র নিন্দা করি। আমরা মনে করি দেশিয় ফলের উৎপাদক এবং ফলব্যবসায়ীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে এটি একটি সুদুর প্রসারী পরিকল্পনা। দেশিয় ফলে বিষ প্রমাণ করতে পারলে আমদানিকৃত ফলের উপর মানুষের চাহিদা সৃষ্টি হবে। যা দেশিয় ফলের ক্ষেত্রে এক অশণি সঙ্কেত। আমরা সঠিক পরীক্ষার মাধ্যমে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ফলের ব্যবহার বন্ধ সমর্থন করি। কিন্তু অনুমাননির্ভর আর ধারণাপ্রসূত বিষয়টিকে আমরা তীব্রভাবে ভৎসনা করি। -ডেস্ক