(দিনাজপুর২৪.কম) কোটা পূরণ হওয়ায় নিবন্ধনহীন ১৫ হাজার হজযাত্রী এবার হজে যেতে পারছেন না। বেসরকারি হজ এজেন্সির কাছে ফি জমা দেওয়া সত্ত্বেও হজে যেতে না পারায় হতাশ এসব হজযাত্রী। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের হজযাত্রীদের জন্য যে কোটা ছিল তা পূর্র্ণ হয়ে গেছে। বাংলাদেশের বেসরকারি এজেন্সিগুলোর মধ্যে সৌদি সরকারের নিবন্ধিত তালিকায় অধিকাংশের নাম নেই। এছাড়া এজেন্সিগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফি দিয়ে সৌদি সরকারের হজ পালন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেনি। রোববার সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম হজ ফ্লাইট সৌদির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। এ হজযাত্রীর ফ্লাইট চলবে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। হাজিদের নিয়ে ফিরতি বিমান বাংলাদেশে আসতে শুর করবে ২৮ সেপ্টেম্বর। সর্বশেষ হাজিদের নিয়ে আসবে ২৮ অক্টোবর। হজ পালনের ফ্লাইট শুরু হলেও হজ্ব পালন করতে যেতে না পারায় অনেকের মন খারাপ। তবে তাদের পরের বছর থেকে হজ পালন করতে সুযোগ করে দেওয়া হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানান। দুই দিন আগে চাঁদপুরের আব্দুর রশিদ জানান, আমি সত্যিই হতাশ কারণ হজ পালন করতে যেতে পারছি না। সরকার ও এজেন্সির ব্যর্থতার কারণেই এ বছর হজে যেতে পারছি না।
এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, এ বছর ১ লাখ ১ হাজার ৭৫০ জন হজ পালন করতে সৌদি যাবেন। এর মধ্যে সরকারিভাবে ১০ হাজার বাকিরা বেসরকারিভাবে যাবেন।
মন্ত্রণালয় এ বছর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে হজ পালনের জন্য রেজিস্ট্রেশন করার পদ্ধতি চালু করার ঘোষণা দেয়। বিধান অনুযায়ী, ৯১ হাজার ৯০৮জন হজ পালনের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছিল। আর এ বছর হজ পালনের জন্য ১ লাখ ১১ হাজার ১২জন টাকা জমা দিয়েছিল। তবে টাকা জমা দেওয়াদের মধ্যে ২০ হাজার হজ যাত্রীদের তথ্য সৌদি হজ কর্তৃপক্ষের কাছে অনলাইনে জমা নেই। নিয়ম অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনকৃতরাই এ বছর হজ পালন করতে যেতে পারবে বলে জানান ধর্ম সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ বাবুল হাসান।
ধর্ম সচিব চৌধুরী মোহাম্মদ বাবুল হাসান আরো জানান, অতিরিক্ত হজ যাত্রীদের হজ পালনের জন্য ধর্মমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জুনে সৌদি যায়। হজ কর্তৃৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে। তবে তাদের রাজি করতে ব্যর্থ হয়েছে। সৌদি সরকার তাদের অনুমোদন না করাতে সরকারের কিছুই করার নেই বলে জানিয়েছেন ধর্ম সচিব।
এদিকে হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)’র সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম বাহার জানান, যারা টাকা জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে ৫ হাজার হজযাত্রীকে পাঠাতে রাজি করতে সক্ষম হয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে। বাকিদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে যারা এ বছর টাকা জমা দিয়েছে তাদের পরের বছর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। -ডেস্ক