স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুর শহর থেকে অপহরণের সাত দিন পর দুই বোন কাকুলি (১২) ও আমিনাকে (৪) ফুলবাড়ী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর চুনিয়াপাড়ার সাহাবুল ইসলাম ডোগার বাড়ি থেকে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া শিশুরা হলো, দিনাজপুর সদর উপজেলার পৌর শহরের কসবা ফকিরপাড়া মহল্লার কামরুল হাসানের মেয়ে।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজারামপুর চুনিয়াপাড়ার দিনমজুর সাহাবুল ইসলাম ডোগার স্ত্রী শাহেরা বেগম ও তার বোন পশ্চিম গৌরী পাড়া গ্রামের ইতি বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

চুনিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নরেশ চন্দ্র বলেন, সকাল ১০টার দিকে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শিশু কাকুলি আমাকে একটি ফোন নম্বর দিয়ে তার বাবাকে ফোন করে তাদেরকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলে কাঁদতে শুরু করে। কাকুলি জানায়, তাদের দুই বোনকে আটক করে রাখা হয়েছিল। সেখান থেকে জানালা ভেঙে ছোট বোনকে নিয়ে পালিয়ে এসেছে তারা। এরপর তিনি কাকলির দেয়া নম্বরে ফোন করে ঘটনাটি তার পরিবারকে জানান। খবর পেয়ে কাকলির বাবা দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় ঘটনাটি জানায়।

পুলিশ খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় কাকুলি ও আমিনাকে উদ্ধার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী শাহেরা বেগম ও তার বোন ইতি বেগমকে আটক করে।

কাকুলি ও আমিনার চাচা মো. জুয়েল ইসলাম জানান, গত ২২ জানুয়ারি সোমবার সদর উপজেলার আউলিয়াপুরে নানির বাড়িতে লাউ দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুপুর ১২টায় পুলহাটস্থ মাছের সারের গুদাম এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয়।

আটক শাহেরা বেগম বলেন, তার বোন ফুলবাড়ী পৌর শহরের পশ্চিম গৌরীপাড়ার (গড় ইসলামপুর) বাসিন্দা স্বামী পরিত্যক্তা ইতি আরা গত শুক্রবার ওই দুই শিশুকে তার বাড়িতে দিয়ে যায়। ওইদিন থেকে তারা এখানেই অবস্থান করছিল। তাদেরকে অপহরণ কিংবা জোর করে রাখা হয়নি। তবে কেন তারা তার বাড়ি থেকে পালিয়ে আবোল তাবোল কথা বলছে তা তার জানা নেই।

এদিকে গতকাল উদ্ধার হওয়া কাকুলি ও আমিনাকে বিকেল ৩টায় দিনাজপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে কাকুলি জানায়, তাদেরকে নানির বাড়ী থেকে ফেরার পথে চার জন মহিলা ও তিন জন পুরুষ মানুষ মোটরসাইকেলে করে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি অন্ধকার ঘরে আটক করে রাখা হয়। সেখানে তাদেরকে ঠিকমতো খেতেও দেয়া হয়নি। গতকাল সকালে সে জানালা ভেঙে ছোট বন আমিনাকে নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসে অন্যের মোবাইল থেকে বাড়িতে খবর দেয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দিনাজপুরের পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, এখন মামলার তদন্ত চলছে। বিকেলে তাদেরকে কোর্টে নিয়ে যাওয়া হবে। কোর্টের প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বলা যাবে না প্রকৃত ঘটনা কি?। উল্লেখ্য, শিশু দুটির বাবা কামরুল হাসান গত ২৪ জানুয়ারি চার জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার দুই মেয়েকে গত ২২ জানুয়ারি অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার পর পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি লিটন, জান্নাতুল ফেরদৌস, রোখসানা ও নাজমা বেগমকে আটক করে।