প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরোনো ছবি

(দিনাজপুর২৪.কম) নিজের নামে পদ্মা সেতুর নামকরণের প্রস্তাবে নেতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে দুই সাংসদের তোলা প্রস্তাবে এমন ইঙ্গিত দেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ বৃহস্পতিবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজীপুর-৩ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ সংসদে এ প্রস্তাব করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী প্রথমে হাত নেড়ে এবং পরে মাথা নেড়ে ‘না’ ‘না’ করেন। সংসদ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত অধিবেশন থেকে বিষয়টি দেখা গেছে। এরপর বরিশাল ৪ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য পংকজ নাথও প্রধানমন্ত্রীর নামে পদ্মা সেতুর নামকরণের প্রস্তাব তোলেন।

মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, ‘আমি প্রস্তাব রাখতে চাই শেখ হাসিনার কাছে। এই জাতির মাধ্যমে এই জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সংসদ সদস্য যারা এই বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাদের পক্ষ থেকে আমি বলতে চাই, এই সেতুর নাম শেখ হাসিনা সেতু হওয়া উচিত। এছাড়া আর কিছু হতে পারে না।’

সাংসদ সবুজের এমন প্রস্তা্বের পর প্রধানমন্ত্রী বারবার হাত নেড়ে অসম্মতি জানান। তবুও এ বিষয়ে এ সাংসদ তার বক্তব্য চালিয়ে যান। এরপর প্রধানমন্ত্রী সংসদে সভাপতিত্ব করা ডেপুটি স্পিকারের দিকে তাকান।

তারপর মুহম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, ‘আমি জানি, আপনি উদার। আপনি মহানুভবতার মূর্তপ্রতীক। প্রেরণা কোনো দিন প্রকাশ্যে আসে না। প্রেরণা ভেতরে লালন করে। অক্সিজেন নিজেকে জড়িয়ে অপরকে আলোকিত করে। আপনি নিজের নামেই পদ্মা সেতু করবেন। ইতিমধ্যে আপনি না করেছেন কিন্তু আমাদেরও দায়বদ্ধতা আছে।’ প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্যের সময় বারবার মাথা নেড়ে ‘না’, ‘না’ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অসম্মতিতেও থেমে যাননি গাজীপুরের এ সাংসদ। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সংসদ সদস্যকে যদি জিজ্ঞেস করেন, সবাই সমস্বরে বলবেন আপনার নামে করার। নেত্রী, আপনি বড় হবেন না, আমাদের বড় হওয়ার সুযোগ দেন। আমরাও কৃতজ্ঞতাচিত্তে আপনার নামে নামকরণ করার মধ্য দিয়ে আমাদের দায়বদ্ধতা পূরণ করি। এই কারণে যে, আপনি সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নদ্রষ্টা ও কারিগর।’

এরপর পংকজ নাথ বলেন, ‘দুনিয়ার সবচেয়ে খরস্রোতা নদী পদ্মায় বঙ্গবন্ধুকন্যার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে এই সেতু নির্মাণ করা। আমি আবারও দাবি জানাই, এই সেতুর নাম হবে দেশরত্ন শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু। প্রধানমন্ত্রী তার বিনয় দিয়ে হয়তো বারবার বলবেন, ‘‘না’’। আমরা এই প্রজন্মের যারা মানুষ তারা অকৃতজ্ঞ নই, আমরা জানি যখন বিশ্বব্যাংক ফান্ড প্রত্যাহার করে নিল, পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন অন্তরায় সৃষ্টি হলো, বঙ্গবন্ধুকন্যা সাহস করে বললেন, নিজের টাকায় পদ্মা সেতু বানাবো এবং তিনি এটা সম্ভব করেছেন মাত্র ১২ বছরে। পদ্মা সেতু আজ বাস্তবতা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আজ বাস্তবতা। টানা ২০০ বছর দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ছয় কোটি মানুষ পাবে।’ -ডেস্ক