(দিনাজপুর২৪.কম) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নিজেই নিজের মুখ পুড়িয়েছেন বলে মন্তব্য করা হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংসদে কোন প্রতিনিধি না-থাকায় সফরে আসা বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে বিএনপি ও দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক গুরুত্ব তলানিতে ঠেকেছে। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মোদির সঙ্গে দেখা করার জন্য নিজেই উদ্যোগী হয়ে সময় চেয়েছিলেন খালেদা জিয়া। কিন্তু তাঁর ক্ষণিকের সেই বৈঠকে আদৌ কোন লাভ হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মোদি ফিরে যাওয়ার পরে বাংলাদেশে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিএনপি নেতাদের একাংশও মনে করছেন— মোদির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মুখ পুড়িয়েছেন খালেদা জিয়া এবং এর জন্য তাঁর একগুঁয়ে মনোভাবই দায়ী।

আনন্দবাজার জানায়, গেল সাধারণ নির্বাচনে দলকে অংশগ্রহণ করতে না দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় এখন কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে বিএনপি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সেই অসহায় অবস্থাটিই হাটে হাঁড়ি ভাঙা হয়ে গিয়েছে মোদির সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে। প্রোটোকল মেনে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে খালেদার আগে সময় পেয়েছেন জাতীয় পার্টির নেত্রী রওশন এরশাদ, জাসদ-এর হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন। রওশন সংসদে বিরোধী নেত্রী, ইনু ও মেনন হাসিনা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। সরকারের শরিক হিসেবে সংসদে তাঁদের বেশ কয়েক জন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। তাই খালেদাকে বসিয়ে রেখে তাঁর সামনেই ইনু-মেননদের ডাক পড়ে মোদির সঙ্গে আলোচনার জন্য। আর সবার শেষে খালেদার জন্য মিনিট দশেক সময় হাতে ছিল মোদির।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, সময় পাবেন না বুঝেই খালেদা জিয়া নিজের বক্তব্য একটি কাগজে নোট করে নিয়ে গেলেও সেগুলির সব ক’টি তিনি পড়ে উঠতে পারেননি। সরকারের বিরুদ্ধে যেভাবে খালেদা জিয়া বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে নালিশ করেছেন, দেশে গণতন্ত্র নেই বলে অভিযোগ করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আনন্দবাজার আরও জানায়, শুধু নিজের দেশের সরকারই নয়, দিল্লিতে আগের মনমোহন সরকারের বিরুদ্ধেও খালেদা অনুযোগ করেছেন নরেন্দ্র মোদির কাছে।

বিএনপি নেত্রীর অভিযোগ, মনমোহন সরকারের প্রশ্রয়েই ভোটের ‘প্রহসন করে’ শেখ হাসিনা ক্ষমতা দখল করেছেন। তিনি আশা করেন, মোদি সরকার এই নীতি পুনর্বিবেচনা করবে। কূটনৈতিক সূত্রে খবর, মোদী তাঁকে পাল্টা প্রশ্ন করেন— কেন তিনি হাসিনার সঙ্গে আলোচনায় বসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করছেন না? জবাবে খালেদা বলেন, তাঁরা বেশ কয়েক বার উদ্যোগ নিয়েও সরকারের আচরণে পিছিয়ে আসেন। তবে বৈঠকে খালেদাকে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরামর্শই দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে আনন্দবাজার। প্রতিবেদনে বলা হয়, মনমোহন সরকারের বাংলাদেশ নীতি মেনেই মোদির সরকার চলছে। তাই আগের সরকারের বিরুদ্ধে তোলা খালেদার অভিযোগকেও আমল দেননি মোদি।

বৈঠকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্য যোগাযোগের বিষয়টিকে সমর্থন জানিয়ে খালেদা জিয়া মোদির মন পেতে চেয়েছেন বলে উল্লেখ করেছে আনন্দবাজার। প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের নেতারা তার আগে এ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থারে সমালোচনা করলেও মোদির সঙ্গে

–(দিনাজপুর২৪ ডেস্ক)