(দিনাজপুর২৪.কম) নিউজিল্যান্ডকে ১১৯ রানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল স্বাগতিক ইংল্যান্ড। আর এই হারে সেমির আশা নিয়ে শঙ্কা রয়ে গেলো নিউজিল্যান্ডের। এজন্য তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে ৫ জুলাই বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের দিকে।

বিশ্বকাপের ৪১তম ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ডকে ৩০৬ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ‍দেয় ইংল্যান্ড। সেমিফাইনালে উঠার রেসে ম্যাচটি দু’দলের জন্যই ছিলো গুরুত্বপূর্ণ। তাই জয়ের ভাবনা মাথায় নিয়েই মাঠে দু’দল। কিন্তু লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে মোটেই সেরকম মনে হয়নি নিউজিল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের। ৪৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৮৬ রানে অলআউট হয়ে যায় কিউইরা। এমন প্রয়োজনীয় ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বীতা বলতে কি বুঝায় তা তারা দেখাতেই পারেনি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ (৫৭) রান করেন টম লাথাম।

টস জিতে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ৩০৫ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। দলের বড় পুঁজিতে জনি বায়েরস্টোর (১০৬) রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়া জেসন রয়ের ব্যাট থেকে আসে (৬০) রান্।

সেমিতে উঠতে হলে ম্যাচটি ইংল্যান্ডকে জিততেই হবে। ইংলিশরা জিতলে তাদের সংগ্রহ দাঁড়াবে ১২ পয়েন্টে। তাহলে তৃতীয় দল হিসেবে শেষ চারে উঠবে ইয়ন মরগানের দল। ইংল্যান্ড হেরে গেলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হবে নিউজিল্যান্ডের। সে ক্ষেত্রে ঝুলে যাবে ইংল্যান্ডের ভাগ্য। কিউইরা হারলে তাকিয়ে থাকতে হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ম্যাচের দিকে।

এমন সমীকরণে বুধবার চেস্টার লি স্ট্রিটের রিভারসাইড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টায় মুখোমুখি হয় ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ন মরগান।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ফর্মে থাকা ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বায়েরস্টো রীতিমতো নিউজিল্যান্ড বোলারদের উপর চওড়া হয়। তুলোধুনো করে ওপেনিং জুটিতে দুজনে তোলেন ১২৩ রান। ইনিংসের ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে জেসন রয়কে মিচেল স্যান্টনারের তালুবন্দীতে সাজঘরে ফেরান জেমস নিশাম। ৬১ বলে ৮ চারে ৬০ রানের ইনিংস খেলেন রয়। ১২৩ রানের মাথায় কার আউটরে পর ওপেনার বায়েরস্টো ও ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে জো রুট দুজনে দেখ-শুনে খেলে ১৯৪ রান পর্যন্ত দলকে টেনে নিয়ে যান। ৩১তম ওভারের প্রথম বলে রুটকে টম লাথামের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান ট্রেন্ট বোল্ট। ২৫ বলে ২৪ রান করেন রুট। অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে ৯৫ বলে ২০১৯ বিশ্বকাপে দ্বিতীয় শতক তুলে নেন বায়েরস্টো। সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে বেশিদূর যেতে পারেননি বয়েরস্টোও। ৯৯ বলে ১৫ চার ও এক ছক্কায় ১০৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাট হেনরির বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

নিউজিল্যান্ড বোলারদের মধ্যে ট্রেন্ট বোল্ট, জেমস নিশাম ও ম্যাট হেনরি ২টি, টিম সাউদি এবং মিচেল স্যান্টনার একটি করে উইকেট শিকার করেন।

৩০৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটাই ভালো হয়নি কিউইদের। মাত্র ১৪ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে যান দুই ওপেনার হেনরি নিকলস শূন্য ও মার্টিন গাপটিল ৮ রান করে। তৃতীয় উইকেটে হাল ধরেছিলেন দুই নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান কেন উইলিয়ামসন ও রস টেলর।

কিন্তু দূর্ভাগ্যজনকভাবে দুজনই কাঁটা পড়েন রান-আউটে। রস টেলরের স্ট্রেইট ড্রাইভে ফলো থ্রুতে হাত ছোয়ান মার্ক উড, তা গিয়ে আঘাত হানে নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্ট্যাম্পে। তখন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন উইলিয়ামসন। ফলে ভেঙে যায় ৪৭ রানের জুটি। কিউই অধিনায়ক ফেরেন ২৭ রান করে।

টেলর ফেরেন আদিল রশিদ ও জস বাটলারের যুগলবন্দীতে রানআউট হয়ে। দলীয় ৬৯ রানের মাথায় তিনি আউট হওয়ার আগে করেন ২৭ রান। এ দুই ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পরেই মূলত আশা শেষ হতে থাকে নিউজিল্যান্ডের।

তবু আশার পালে হাওয়া দেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান টম লাথাম। ইনিংসের সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন তিনি। এছাড়া জিমি নিশাম ১৯ ও মিচেল স্যান্টনররা ১২ রান করলে পরাজয়ের ব্যবধানটাই কমে শুধু।

ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে মার্ক উড নেন ৩ উইকেট। এছাড়া জোফ্রা আর্চার, বেন স্টোকস, লিয়াম প্লাঙ্কেট, আদিল রশিদ ও ক্রিস ওকস নেন ১টি করে উইকেট।

১০৬ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যন অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন ইংলিশ ওপেনার জনি বায়েরস্টো। -ডেস্ক