রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জাহিদুর রহমান

(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে বিতর্কিত পোস্ট দিয়ে এবার সমালোচনার মুখে পড়েছেন কাজী জাহিদুর রহমান নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) একজন শিক্ষক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক হিসেবেও পরিচিত কাজী জাহিদুর রহমান। নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের পদেও আসীন তিনি।

জানা গেছে, গত ১ জুন অসুস্থ্য হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে কখনো মোহাম্মদ নাসিমের ছবি সম্বলিত নিউজের স্ক্রিনশট শেয়ার করে, আবার কখনো ইঙ্গিতপূর্ণভাবে বিতর্কিত মন্তব্য করে একাধিক পোস্ট ফেসবুকে শেয়ার করেন কাজী জাহিদুর রহমান।

ওই পোস্টগুলো আগে সেভাবে সামনে না আসলেও মোহাম্মদ নাসিম মারা যাওয়ার পর এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক একই ধরনের অপরাধে গ্রেপ্তারের পর এটা নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে শিক্ষক কাজী জাহিদুরের শাস্তির দাবিও তুলছেন তারা।

কাজী জাহিদুর রহমানের ফেসবুক ওয়ালে গিয়ে দেখা যায়, গত ১ জুন তিনি একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘লুটপাট করে এ দেশের স্বাস্থ্যখাতের ১২টা বাজিয়ে গেছেন যিনি, তিনি আজ করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আরও কিছুদিন আগে (বর্তমান সরকার অনেকটা গুছিয়ে এনেছে) একই উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যেতে হলে তিনি বুঝতে পারতেন, দেশের কতটা ক্ষতি তিনি করে গেছেন। স্বাস্থ্যখাত ধ্বংস করে চুরি করা হাজার হাজার কোটি টাকা থেকে করোনাকে কিছুটা ঘুষ দিয়ে দেখতে পারেন। যে করোনা কথা শোনে কিনা!’

আরেক পোস্টে মোহাম্মদ নাসিমকে ইঙ্গিত করে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে কাজী জাহিদুর রহমান লিখেছেন, ‘তার আমলে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে যে সকল নকল এবং অকেজো যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হয়েছে, তাকে এখন সেসব জিনিস দিয়েই চিকিৎস সেবা দেওয়া হোক। যাদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে, সেই সিন্ডিকেট সদস্যদেরকে তার নার্স হিসেবে নিয়োগ করা হোক। তার আমলে মেডিকেল ভর্তির প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে যেসব অযোগ্যরা চিকিৎসক হয়েছে, তাদেরকে দিয়ে উনার চিকিৎসা করানো হোক। এসব চোর সুযোগ পেলে পুরো দেশটাকেই গিলে ফেলতে চায়।’

এদিকে, তার স্টাটাস নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি রকি কুমার ঘোষ লিখেছেন, কাজী জাহিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজকে কলঙ্কিত করেছেন। আপনি এত সাহস কোথায় পেয়েছেন? আপনি জাতীয় চার নেতার অন্যতম ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর ছেলেকে চোর বলছেন কোন সাহসে? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অভদ্র লোকটাকে দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক! নইলে রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগ চুপ থাকবে না। এই কুকর্মের কড়া জবাব দিব।’

পোস্টে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুকেও ট্যাগ করে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন রকি কুমার ঘোষ। মাসুদ পারভেজ উজ্জল নামে একজন লিখেছেন, ‘ছাত্রলীগ কী রাবিতে মরে গেছে? এমন স্টাটাস দেওয়ার পরও নড়চড় নেই।’

এ ব্যাপারে রাবির চারুকলা অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. হুমায়ন কবির বলেন, ‘জাতীয় চার নেতার সন্তান অন্যতম ক্যাপ্টেন এম. মনসুরের ছেলে মোহাম্মদ নাসিম। তার সম্পর্কে লিখতে বা বক্তব্য দিতে হলে জেনে-বুঝে দেওয়া উচিত। তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা গর্হিত বা দৃষ্টিকটু। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী বিচারের দাবি জানাই।’

জানতে চাইলে শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমান দাবি করেন, এসব তিনি মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে লেখেননি। কাকে নিয়ে লিখেছেন সেটাও বলবেন না। তিনি বলেন, ‘আমার পোস্টে তো আমি মোহাম্মদ নাসিমের কোনো নাম উল্লেখ করিনি। সেখানে কারও নাম নেই।’

স্বাস্থ্যখাত ও করোনা আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে ইঙ্গি করেছেন, সেটা তো মোহাম্মদ নাসিম ছাড়া আর কেউ হয়নি এমন প্রশ্নে রাবির এই শিক্ষক বলেন, ‘তা আমি জানি না। আমি কারও নাম লিখিনি। এখন কেউ যদি ভেবে নেন, সেটা তার ব্যাপার। আমি তার নামে লিখিনি।’ -সূত্র : আ. সময়