জিন্নাত হোসেন (দিনাজপুর২৪.কম)  নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উদযাপন উপলক্ষে দিনাজপুরের বে-সরকারী উন্নয়ন সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করেছে।  নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে পল্লীশ্রী বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সন্ধ্যায় দিনাজপুর মডার্ন মোড় আবেদীন প্লাজা’র সামনে ০৭:১৫ মিনিটে এবং লিলি মোড় লুৎফুন্নেসা টাওয়ারের সামনে ০৮:১৫ মিনিটে ভিডিও তথ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করে। আয়োজনে দেশের বিভিন্ন ঘটে যাওয়া নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করে ও গণজাগরনের সঙ্গীত এই তথ্য প্রদর্শনীতে প্রদর্শন করা হয় গণ মানুষের মধ্যে। প্রদর্শনী শেষে উপস্থিত জনগণসহ পল্লীশ্রী’র কর্মীবৃন্দ মোমবাতী মোমবাতি প্রজ্জলন করে প্রতীকী অবস্থান করেন এবং তারা সকলের উদ্দেশ্যে বলেন-  আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে স্মরণ করছি নির্যাতনের শিকার সকল নারীকে ইয়াসমিন,সীমা, সিমি, তৃষ্ণা, রোমানা, স্বর্ণা ফুলীসহ সকলকে।
আমরা দেখেছি আমাদের সমাজে প্রতিনিয়তই সহিংসতা ঘটছে। ঘটনাগুলো ক্ষুদ্র থেকে ভয়াবহতায় রুপ নিচ্ছে, ঘটনার নতুন নতুন ধরন তৈরী হয়েছে। আমাদেরকে আরও পিছনে টেনে নিচ্ছে। আমাদের চার পাশে যখন নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনাগুলো ঘটে তখন তা বিশ্লেষন করে আমরা নারীকে-ই দোষারোপ করি।
তার পোশাকের কথা বলি, তার বাহিরে বের হওয়ার কথা বলি, তার আচরণের কথা বলি। নারীর হাটা-চলা, এমনকি নারী’র বেচেঁ থাকায়ও আমরা বাধাঁ গ্রস্থ করি। প্রতিটি নারী কোন না কোনভাবে নির্যাতনের শিকার। কিন্তু নারী মানুষ, তার মর্যাদা আছে। সবার মর্যাদা সমান। বাঙ্গালীর প্রানের উৎসব পহেলা বৈশাখ, সেখানেও নারী রেহাই পায়নি। আমরা রক্ষা করতে পারিনি নারী’র সম্মান,মর্যাদা। আমরা দিতে পারিনি নারী’র ন্যয্য অধিকার ও নিরাপত্তা। তবুও -এই পৃথিবীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নারী সবসময় তৈরী।
পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে, পৃথিবীতে নারী’র যে অবদান তা অনস্বীকার্য। আবহমান কাল ধরে নারী এই পৃথিবীকে সচল রেখেছে যা আমাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণে রাখতে হবে। ১৯৯৫ এ দিনাজপুরের মানুষের আন্দোলনের ভুমিকা দেখেছি এবং আমরা প্রকৃত ফলাফলও পেয়েছি।
ইয়াসমিনের মৃত্যু যদি শেষ মৃত্যু হত তাহলে আমরা বুঝতাম আমরা আমাদের  অন্যায়কে বুঝতে পেরেছি বোধদয় হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম এই সহস্রাব্দে নারী তার যোগ্য আসন পাবে, অবহেলা, অবঙ্গ, নির্যাতন থেকে মুক্তি পাবে নারী। কিন্তু সে আকাংখার মৃত্যু ঘটেছে প্রতিদিনের নারীর প্রতি সংহিস এবং ভয়াবহতা দেখে।
পারিনি বলে শেষ না, আমরা পারব, আমাদের চেতনবোধকে জাগ্রত করি। আমাদের সম্মিলিত ভাবে এগুতে হবে। নারী মানুষ, তার মর্যাদা আছে। আজ আমরা অঙ্গীকার করব, আগামীর প্রত্যাশা হোক নির্যাতন মুক্ত পরিবার, সমাজ, দেশ ও পৃথিবী। চলুন শুরু করি নিজ পরিবার থেকে। আমার সন্তানকে নিয়ে।