(দিনাজপুর২৪.কম) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লায় ট্রেনের ধাক্কায়  যাত্রীবাহী একটি হিউম্যান হলারের ৫ যাত্রী নিহত হয়েছে। এসময় আহত হয়েছে কমপক্ষে ৭/৮ জন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সোমবার  রাত পৌনে ১১টায় পাগলায় ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রেল লাইনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন- কুমিল্লার তিতাস উপজেলার উত্তর বলারামপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকে ছেলে জুয়েলারি কারিগর শাহজালাল (৩৫), ভোলা জেলার চরফেশন এলাকার আব্দুল হকের ছেলে ভ্যানচালক সিদ্দিকুর রহমান (৪০) ও হবিগঞ্জ জেলার রনজিৎ দাশ (৩৫)। তবে দিনমজুর রনজিৎ নারায়ণগঞ্জের পাগলা এলাকায় থাকতেন। প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই কুদ্দুস মিয়া জানান, পোস্তগোলা হতে পাগলা রসুলপুল এলাকা পর্যন্ত হিউম্যান হলার চলাচল করে। সোমবার রাতে পোস্তগোলা থেকে ছেড়ে আসা ১২-১৩ জন যাত্রী নিয়ে একটি হিউম্যান হলার পাগলা ভাঙারপুল এলাকাতে আসে। একই সময় কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ট্রেনও আসে। এক পর্যায়ে যাত্রীবাহী হিউম্যান হলারটি ট্রেনের আগে রেললাইন ক্রস করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। এতে ট্রেনের ধক্কায় হিউম্যান হলারটি দুমড়ে মুচড়ে রেলাইনের পাশে পড়ে যায়। ওই সময়ে আশেপাশের কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আহত হয় হিউম্যান হলারের যাত্রীসহ আশেপাশে থাকা অন্তত ১৫-১৬ জন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই একজন ও ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ জন মারা যায়।
জিআরপি থানার ওসি আব্দুল মজিদ জানান, হিউম্যান হলারটি রেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় নারায়ণগঞ্জ-ঢাকাগামী একটি ট্রেন সেটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন মারা যায়। এবং ঢাকা মেডিকেলে গুরুতর আহত অবস্থায় ৮ জনকে আনা হলে এখানে এক নারী ও ৩ জন পুরুষ মারা যায়। তিনি আরো জানান, হিউম্যান হলারটিতে কমপক্ষে ১৩ জন আরোহী ছিল।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, যে স্থান দিয়ে হিউম্যান হলার চলাচল করে সেটা বৈধ ক্রসিং না। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ওই স্থান দিয়ে অবৈধভাবে গাড়ি চলাচল করাচ্ছে। রাতে হিউম্যান হলারটি ট্রেনের আগে দ্রুত যাওয়ার চেষ্টা করলে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। সেখানে ক্রসিং থাকলে এটা হতো না। –(ডেস্ক)