(দিনাজপুর২৪.কম) করোনা ভাইরাসের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলা নারায়ণগঞ্জ। প্রতিদিনই এখানে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। বন্দর নগর ও শিল্প এলাকা বলে এখানে লাখ লাখ শ্রমিকের বসবাস। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই শহরে যারা এসেছে জীবিকার জন্য। বর্তমানে সব কলকারখানা বন্ধ। তাই ক্ষতির মুখে পড়েছে এখানকার সাধারণ মানুষ। নরায়ণগঞ্জের ক্রিকেটাররা তাদের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছেন সাহায্যের হাত। নিজেদের সাধ্য-সামর্থ্যের মধ্যে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করছেন।

এরই মধ্যে জাতীয় দলে খেলা ব্যাটসম্যান রনি তালুকদার ৫০০ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার এগিয়ে এসেছেন জাতীয় দলে খেলা আরেক ক্রিকেটার নাজমুল ইসলাম অপু। ৭০০ দরিদ্র পরিবারকে দিচ্ছেন খাবার, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।
তবে একা এত বড় আয়োজনে হিমশিম খাচ্ছিলেন অপু। এমতাবস্থায় তার পাশে দাঁড়িয়েছেন টাইগারদের নয়া ওয়ানডে অধিনায়ক ও দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অপু। তিনি বলেন, ‘আমরা আসলে মহাবিপদে আছি। করোনা ভাইরাস আমাদের নারায়ণগঞ্জে ধীরে ধীরে মহামারি আকার ধারণ করছে। শিল্প এলাকা হওয়ায় এখানে শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের এখন কোনো কাজ নেই। আমি ৭০০ পরিবারের পাশে আছি। তবে একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছিল। এটা জেনে তামিম ভাই (তামিম ইকবাল) টাকা পাঠিয়েছেন। এছড়াও আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন নিটকর্নসান গার্মেন্টসের এমডি জাহাঙ্গীর মোল্লা ভাই। আমি তাদের দুজনকেই ধন্যবাদ জানাই।’

প্রতি সপ্তাহে পাবে ত্রাণ
প্রতি সপ্তাহেই এই ত্রাণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অপু। যেন অন্তত একটা মাস কাজ হারানো মানুষগুলো চলতে পারে। এই নিয়ে অপু বলেন, ‘সবাই হয়তো একবারেই ত্রাণ দিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আমি দেবো প্রতি সপ্তাহে। যেন পরের সপ্তাহের জন্য চিন্তা করতে না হয়। এভাবে যতটা সম্ভব নিজের ও যারা অর্থবান আছেন তাদের সাহায্য নিয়ে ত্রাণ কাজ চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবো। এরই মধ্যে তামিম ভাই টাকা পাঠিয়েছেন। আমরা ৫০০ লোকের তালিকা প্রস্তুত করে ফেলেছি। ২০০ লোকের তালিকা করবো।’

পৌঁছে দেয়া হবে বাড়ি বাড়ি
সারাদেশে ত্রাণ নিতে গিয়ে জটলা পাকাচ্ছে মানুষ। এতে করে করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি বাড়ছে দেশে। তাই মানুষ ডেকে ভিড় না করে ত্রাণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নাজমুল ইসলাম। নিজের জন্য ঝুঁকি হলেও তালিকা করে একেবারে দরিদ্র মানুষদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তিনি পৌঁছে দিয়ে আসবেন চাল, ডাল তেল। তিনি বলেন, ‘যদি মানুষ ডেকে দেই লাভ কি! ভিড় হবে, সেখানে উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি। তাই আমি ঠিক করেছি বাড়ি বাড়ি গিয়েই পৌঁছে দেবো। যেন ছোঁয়াচে এই ভাইরাস থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। এতে আমার কিছুটা ঝুঁকি থাকে। কিন্তু এমন সময় এসব ভেবে লাভ নেই।’

মানুষ ঘরে না থাকায় আক্ষেপ
নাজমুল অপুর বাড়ি নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায়। এখানেই তার বাসার পাশের গ্রাম রসুলপুরে সর্বপ্রথম করোনা আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়। তারপর থেকে তিনি নিজ এলাকাকে নিরাপদ করতে নিয়েছেন নানা কার্যক্রম। মানুষ যেন ঘর থেকে বের না হয় সেজন্য লকডাউনও করেছিলেন এলাকা। কিন্তু তার আক্ষেপ মানুষ নিয়ম মানছে না। প্রয়োজন ছাড়াই বের হচ্ছে বাসা থেকে। তিনি বলেন, ‘ভয় পেয়েছি, কারণ আমার পাশের গ্রাম রসুলপুরেই প্রথম একজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপর আমি ও বেশ কয়েকজনকে নিজের এলাকা নিরাপদ রাখতে কাজ করেছিলাম। যারা বিদেশ থেকে এসেছে তাদের ঘরে থাকার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু এখানে কেউ কথা শোনে না। ঘরে থাকাতে চায় না। বিনা প্রয়োজনেই বাইরে যায়। আমার অনুরোধ সবাই যেন ঘরে থাকে। নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখে।’ -সূত্র : ম. জমিন