(দিনাজপুর২৪.কম) থার্ড পার্টি ওয়েবসাইট ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বেলজিয়ামের নাগরিকদের ওপর নজরদারি করছে ফেসবুক। এমন অভিযোগে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বেলজিয়ামের আদালতে। সম্প্রতি বিশ্বের জনপ্রিয় সোস্যাল মিডিয়া সাইটটির এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছে। একই সাথে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলেছে। আদালতের আদেশ অমান্য করা হলে ফেসবুককে ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার (১০ কোটি ইউরো) জরিমানা করা হতে পারে। ফেসবুক এক বিবৃতিতে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও সংরক্ষিত তথ্যগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে ফেসবুক আমাদের পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করেনি। এমনকি তথ্য সংগ্রহ কিংবা সংরক্ষণের জন্য প্রতিষ্ঠানটি আদালতের অনুমতিও নেয়নি।

গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেসবুকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করেছিল বেলজিয়াম প্রাইভেসি কমিশন। শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে গত শুক্রবার আদালত রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, ফেসবুক অবৈধভাবে বেলজিয়ামের নাগরিকের যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছে, তা মুছে ফেলতে হবে। ফেসবুক ব্যবহার করেননি, এমন ব্যক্তিদের তথ্য জোগাড় করলে সেসব তথ্যও মুছে ফেলতে হবে প্রতিষ্ঠানটিকে।

ফেসবুকের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা অঞ্চলের পাবলিক পলিসি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড অ্যালান বলেন, আমরা নতুন নির্দেশনাটি মেনে চলব। কারণ আমরা ইউরোপের তথ্য সুরক্ষা আইন মেনে চলছি। বেলজিয়ামের প্রাইভেসি ওয়াচডগ আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ফেসবুক এরই মধ্যে বড় ধরনের প্রচারাভিযান শুরু করেছে। এতে গোপনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে বেলজিয়ামের আদালত এ রায় এমন এক সময়ে দিলেন, যখন প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। ২০১৬ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্লাটফর্ম ব্যবহার করে রাশিয়া ভুয়া সংবাদ ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইউরোপে এ প্লাটফর্মের মাধ্যমে ঘৃণাত্মক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। জার্মানিতে গ্রাহক তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার্থে নতুন আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটিকে। -ডেস্ক