(দিনাজপুর২৪.কম) নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন পর্যায়ের ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এতে করে জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে। নতুন ডাক্তাররাও সেভাবে যোগ দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিভিল সার্জন মুহাম্মদ ইমতিয়াজের করোনাভাইরাসের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মুহাম্মদ আব্দুল কাদেরের। তিনিও বর্তমানে আসোলেশনে আছেন।

এর আগে করোনা ফলাফল পজিটিভ এসেছে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ও জেলা করোনা ফোকাল পারসন ডা. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের। তিনিও বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন। মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে তারা করোনায় আক্রান্ত হন।

জানা যায়, সম্প্রতি জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ, সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম, সদর জেনারেল হাসপাতালের একজন ডাক্তার, একজন নার্স, একজন ওয়ার্ড বয়, একজন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার, খানপুর তিন শ’ শয্যা হাসপাতালের একজন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের পিএ সিদ্দিক, হাসপাতালের আরো ১০ থেকে ১৫ জন হোম কোয়ারেন্টিনে, শহরের পলি ক্লিনিকের মালিক ও বিএমএ নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ডা. শাহনেয়াজ সহ শহরের অনেকগুলো ক্লিনিক হাসপাতালের চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। তারা এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ অবস্থায় কিছুটা স্থবিরতা চলে এসেছে জেলার স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে।

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রায় ৪২টি বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা (হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০টির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় সম্প্রতি সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, শহরের মেডিপ্লাস ডায়গনস্টিক সেন্টারের বসাক নামে একজন ডাক্তার করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার কুয়েত মৈত্রীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। পলি ক্লিনিকের ওটি বয় অকিল করোনা পজিটিভ হয়ে কুয়েত মৈত্রীতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই ক্লিনিকের আরো চারজন কর্মীর স্যাম্পল কালেক্ট করা হয়েছে করোনা টেস্টের জন্য। শহরের ডিআইটি এলাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন করোনা পজিটিভ হয়ে ঢাকার কুর্মিটোলায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শাহীন জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার সোহাগ ইতোমধ্যেই আইসোলেশনে রয়েছেন। একতা ডায়গনস্টিক সেন্টারের সব কর্মী হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। এ ছাড়া করতোয়া মেডিক্যালসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানেরও একই অবস্থা। এসব কারণে ইতোমধ্যেই এই ক্লিনিক হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টারগুলোর কয়েকটি লকডাউন (বন্ধ) ঘোষণা করা হয়েছে।

এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারের কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মূলত তারা করোনা আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন টেস্ট করতে গিয়ে, তাদের নানাভাবে চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছেন। অনেকেই রোগ গোপন করে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে তাদের এ বিপর্যয়ের মুখে ফেলে দিয়েছেন। এমন অবস্থায় হাসপাতালগুলোকে আইসোলেট না করে সব ধরনের রোগীদের হয়তো আর সেবা দিতে পারবেন না তারা। এমন অবস্থায় করোনার চিকিৎসায় মূলত প্রয়োজন আইসোলেশন হাসপাতাল।

বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ও ক্লিনিক, ডাউগনস্টিক মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক শাহীন মজুমদার জানান, আমাদের এখানে ৪২টির মত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১০টি ইতোমধ্যে লকডাউন হয়ে গেছে। এদের কর্মীরা কয়েকজন করোনায় আক্রান্ত আবার কয়েকজন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। আমরা তো খোলা রাখতে চাচ্ছি। কিন্তু কর্মীরা যদি এভাবে আক্রান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে তো আমাদের পক্ষেও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। -ডেস্ক