(দিনাজপুর২৪.কম) মেসির জাদুতে শুরু। মাঝখানে মাশ্চেরানোর শিশুতোষ ভুলে পেনাল্টি হজম। তারপর বেশ কিছুক্ষণ শঙ্কার সঙ্গে বসবাস। ৮৬তম মিনিটে মার্কোস রোহোতে উদ্ধার। আর তাতেই ০২-০১ ব্যবধানে নাইজেরিয়াকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনা। অন্য ম্যাচে আইসল্যান্ডকে ১-২ গোলে হারিয়ে ক্রোয়েশিয়া ‘ডি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তারা খেলবে ‘সি’ গ্রুপের রানার্সআপ ডেনমার্কের বিপক্ষে। মেসিরা খেলবে ওই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের বিপক্ষে। এদিন প্রথমার্ধে ৬২ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণ করে আর্জেন্টিনা। মিডফিল্ডে বানেগা নেমে গোটা খেলাটাই পাল্টে দেন। তবে প্রচুর ভুল পাস খেলেছে মেসির দল। প্রথম ৪৫ মিনিটে রক্ষণভাগ আগের দুই ম্যাচের চেয়ে বেশ মজবুত ছিল। ৩১ বছর বয়সে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা গোলরক্ষক ফ্রাঙ্কো আরমানিকেও আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। আর্জেন্টিনা প্রথম গোলের দিকে শট নেয় সপ্তম মিনিটে। বানেগা বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তার সঙ্গে লেগেছিলেন লিওন বালোগুন। তাকে বিট করতে পারেননি। গোলে শট নিলেও তা বাইরে দিয়ে চলে যায়। ১৫তম মিনিটে মেসির জাদু। বানেগা দূর থেকে ডানদিকে ক্রস পাঠান। মেসি উরু দিয়ে রিসিভ করেন। তারপর ৯ পা সামনে এগিয়ে, সঙ্গে লেগে থাকা ডিফেন্ডারকে বিট করে সেই পা দিয়ে শট নেন, যে পা’টা তিনি সাধারণত ব্যবহার করেন না, ডান পা। গোলরক্ষককে কাছের পোস্টে দেখে দূরের পোস্টে শট নেন জাদুকর। কানফাটা চিৎকারে গর্জে ওঠে গ্যালারি।

২৭তম মিনিটে হিগুয়েনের জন্য একটি সুযোগ আসে। কিন্তু তিনি সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। মেসির থ্র বল চলে যায় বক্সের দিকে। হিগুয়েন অফসাইড এড়িয়ে আরেকটু আগে বক্সে ঢুকতে পারলেই বল পেয়ে যান। কিন্তু দেরি করে ফেলায় প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক বল ধরে ফেলেন।

৩১তম মিনিটে ডি মারিয়া দারুণ পজিশনে থেকে বল পেয়ে যান। মাত্র একজন ডিফেন্ডার ছিলেন তার পাশে। তাকে বিট করে এগিয়ে যান। গোলরক্ষক তখন একা। বক্সে ঢোকার মুহূর্তে তাকে ফেলে দেন লিওন বালোগুন। বালোগুনকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে ফ্রি-কিকের নির্দেশ দেন রেফারি। দারুণ জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়ে শট নেন মেসি। বাপায়ের শটটি ভালো ছিল। কিন্তু গোলরক্ষক ডাইভ দিয়ে হাতে লাগান। বল পোস্টে লেগে বাইরে যায়!

দ্বিতীয়ার্ধের ৪৯তম মিনিটে মাশ্চেরানোর ভুলে পেনাল্টি পায় নাইজেরিয়া। কর্নারের সময় প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে টেনে ফেলে দিয়ে পেনাল্টি হজম করেন। ভিক্টর মোসেস কিক নিতে এসে অনায়াসে বল জালে জড়ান।

৬৩তম মিনিটে এনজো পেরেজকে উঠিয়ে পাভোনকে নামান সাম্পাওলি। ৭৪তম মিনিটে ডি মারিয়ার পরিবর্তে নামেন মেজা। ৬ মিনিট বাদে তাগলিয়াফিকোর পরিবর্তে আক্রমণভাগে নামেন আগুয়েরো।

ম্যাচ তখন ড্র হচ্ছে, আর ঘনিয়ে আসছে আর্জেন্টিনার বাড়ি যাওয়ার সময়। ঠিক সেই সময় মার্কোস রোহো ত্রাতা হয়ে হাজির হন। মের্কাদো ডানদিক থেকে দারুণ একটি ক্রস পাঠান। রোহো সেটি রিসিভ করার অপেক্ষা না করে পা চালিয়ে দেন। বল জড়িয়ে যায় জালে! বাকি সময়টুকু আর্জেন্টিনা নিরাপদে পার করে। -ডেস্ক