(দিনাজপুর২৪.কম) গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় হামলার ‘আধ্যাত্মিক পরামর্শদাতা’ ও নব্য জেএমবি’র একাংশের ভারপ্রাপ্ত আমীরকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। তার নাম মাওলানা মো. আবুল কাশেম ওরফে বড় হুজুর ওরফে কাশেম মিয়া (৬০)। পুরনো জেএমবি’র আমীর মাওলানা সাইদুর রহমান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই জঙ্গি নেতা ভারপ্রাপ্ত আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিল বলে পুলিশের দাবি। হলি আর্টিজানে হামলার পর এই জঙ্গি নেতা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিল। আবুল কাশেম কোরআন ও হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জেএমবি জঙ্গিদের উগ্র মতবাদে উদ্বুদ্ধ করতেন। তার একাধিক বই আছে। গতকাল সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিসিটি) ইউনিটির প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম জানান, গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো সতর্ক হয়ে যায়। এরপর থেকে একের পর এক জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত ওইসব পুরাতন ও নব্য জেএমবি জঙ্গিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের নেপথ্য দাতাদের নাম বের হয়ে আসে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে এক বড় হুজুরের নাম জানা যায়। ওই বড় হুজুর হচ্ছে মাওলানা আবুল কাশেম। কাশেম জেএমবি’র একাংশের আমীরের দায়িত্ব পালন করছিল। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে মিরপুরের সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে মনিরুল জানান।
তিনি বলেন, পুরনো জেএমবি নেতা বর্তমানে কারাগারে থাকা মাওলানা সাইদুর রহমানের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তারা দুজন একসঙ্গে দল পরিচালনা করতো। সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ভারপ্রাপ্ত আমীরের দায়িত্ব পালন করছিল কাশেম। কাশেমের গ্রামের বাড়ির কুড়িগ্রাম জেলায়। তবে তার চাকরিস্থল ছিল দিনাজপুরের রানিবন্দর এলাকায়। রানিবন্দর এলাকায় একটি মাদরাসার প্রিন্সিপাল ছিল কাশেম। কাশেম ওই মাদরাসা এককভাবে পরিচালনা করতো। কাশেমসহ তার পরিবারের  সব সদস্যই পুরানা জেএমবি’র সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।
তিনি জানান, মাওলানা সাইদুর রহমান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ২০১৩ সালে কাশেম ও তামিমের যৌথ প্রয়াসে নব্য জেএমবি’র কার্যক্রম শুরু হয়। কাশেম নব্য জেএমবি’র আধ্যাত্মিক প্রশিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিল। মাওলানা হওয়ায় কুরআন ও হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জেএমবি’র জঙ্গিদের উগ্র মতবাদে উদ্বুদ্ধ  করতো কাশেম। নব্য জেএমবি’র প্রধানের দায়িত্ব পালন করা নিহত জঙ্গি তামিম ছাড়াও হাতকাটা মাহফুজ, জাহাঙ্গির, রাজিব গান্ধী ও  মারজানসহ অন্য জঙ্গিরা তাকে বড় হজুর বলে ডাকতো। তাকে আধ্যাত্মিক গুরু বলে মানতো। অনুসরণ করতো।
তিনি আরো জানান, জঙ্গিদের উগ্র মতবাদের উপর বিশ্বাসী করার জন্য কাশেম কয়েকটি বইও লিখেছে। ওই বইগুলো হচ্ছে- দাওলার আসল রূপ, জেহাদ কেন করবেন এবং ইসলামি বসন্ত। ওইসব বইয়ে ইসলামের অপব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। ওই বইগুলো জেএমবি’র অধ্যয়নরত বইয়ের তালিকায় থাকতো। জঙ্গিরা ওই বইগুলো অধ্যয়ন করে তারা হিংস্র মতবাদে উদ্বুদ্ধ হতো। তিনি আরো জানান, মাওলানা সাইদুর রহমানের খুব ঘনিষ্ঠভাজন ছিল কাশেম। এজন্য কাশেমকে জঙ্গিদের আধ্যাত্মিকভাবে যেন উদ্বুদ্ধ করা যায় সেই দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল কাশেমকে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কাশেম অনেক তথ্য গোপন করেছে। তাকে বিস্তারিতভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। আদালতে তাকে প্রেরণ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। কাশেম এতদিন ধরে পলাতক ছিল কিনা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, হলি আর্টিজান হামলার পর থেকে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল কাশেম। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কাশেমের কোনো হামলার পরিকল্পনা ছিল কিনা অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল না বলে জানা গেছে। তবে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে তা জানা যাবে। জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ আর কোনো লেখক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে কিনা অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কোনো লেখকের লেখনীতে যদি জঙ্গিবাদে উসকানি পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এডিসি মিডিয়া ইউসুফ আলীসহ ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এদিকে গ্রেপ্তার আবুল কাশেমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। -ডেস্ক