মোঃ আফজাল হোসেন (দিনাজপুর২৪.কম) দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, হাকিমপুর উপজেলার সাথে ঢাকা, রংপুর ও গাইবান্ধার দুরত্ব কমে যাওয়া, কৃষি পন্যের সহজ বাজারজাত করন এবং আর্থ সামাজিক অবস্থা ও জীবন-জীবিকার ব্যপক উন্নয়নের লক্ষ্যে রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে একটি সেতু নির্মাণের দাবী ছিলো এলাবাসী। অবশেষে নবাবগঞ্জ ও পীরগঞ্জের কাঁচদহ ঘাটে নির্মিত ওয়াজেদ মিয়া সেতুটি ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই উদ্বোধন করা হয়।  কিন্তু নবাবগঞ্জ বাজার থেকে সেতু পর্যন্ত ৭ দশমিক ১২৫ কিলোমিটার সড়কটি প্রসস্ত ও সংস্কার না থাকায় কাঙ্খিত সুবিধা পাচ্ছিলেন না তিন জেলাবাসী। তাই এবছরের শরুতে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৯৭ হাজার ৩’শ ৩৭ টাকা ব্যয়ে সড়কটির প্রসস্তকরন ও সংস্কার কাজ শুরু হয়। স্থানীয় সাংসদ, ইউএনও, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ এলাকাবাসীর অভিযোগ অপরিকল্পিত ভাবে ও নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারা ভাবে করা হচ্ছে সড়কের কাজ। কাজ শেষ হতে না হতেই সড়কটিতে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন ভরে গেছে খানা খন্দে। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি দুই পার্শ্বে ১দশমিক ২৫ মিটার করে প্রসস্তকরনসহ  সংস্কারের কাজটি পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়। দরপত্রের মাধ্যমে রংপুরের বদরগঞ্জের খোরশেদ বখশি, ঠাঁকুরগায়ের মেসার্স রজব আলী, দিনাজপুর সদরের জিল্লুর রহমান এবং হাকিপুরের নয়ন ট্রের্ডাস কাজ পান। জিল্লুর রহমান দুটি ভাগের কাজ পান। জিল্লুর রহমান ও খোরশেদ বখশিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২৯ জানুয়ারী। কাজ শেষ কথা কথা ছিলো  ২২ এপ্রিল। নয়ন ট্রেডার্স কার্যাদেশ পায় ১০ মার্চ। কাজ শেষ করার কথা ছিলো ১ জুন। রজব আলী কার্যাদেশ পান ১৭ মে। কাজ শেষ করার কথা ছিলো ২৫জুন। তবে কোন ঠিকাদার কাজ শেষ করতে পারেনি। গড়ে ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ঠিকাদাররা মোট ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকার বিল তুলে নিয়েছেন। সরেজমিনে গত শনিবার ও রোববার গিয়ে দেখা গেছে সামান্য বৃষ্টিতে সড়কের দুই ধারে প্রায় দেড় শতাধিক স্থানে ধসে গেছে, দেখা দিয়েছে খানখন্দ। বেশির ভাগ স্থানে পড়ে থাকতে দেখা গেছে নিন্ম মানের ইটের খোয়া। সংশ্লিষ্ট বিনোদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ফতেহ  জানান, দায়সারা ভাবে ও নিন্ম মানের কাজ করায় সড়ক নির্মাণের আগেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।  মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দবিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সড়ক নির্মানে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নিতি করা হচ্ছে। বড়মাগুরা গ্রামের খলিল উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, কাঁচদহ গ্রামের গোলাজার হোসেন, শরিফুজ্জমান, সাইদুল ইসলামসহ শত শত গ্রামবাসী অভিযোগ করে জানান, সড়ক নির্মানের শুরু থেকে নিন্ম মানের সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারা ভাবে কাজ করা হচ্ছে। সে সব জায়গা ধসে গেছে  সেখানে বালু ও ইটের খোয়া দেওয়ার কথা থাকলেও সে সব জায়গা শুধু মাত্র বালুর বস্তা দিয়ে ভরে দেওয়া হচ্ছে। বিনোদনগর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামলীগের সভাপতি আইনুল হক অভিযোগ করে জানান, সড়কটি যে পরিমান প্রশস্ত করার কথা ছিলো সে পরিমান প্রশস্ত করা হচ্ছেনা। সড়কটি প্রশস্ত করতে গিয়ে যাদের স্থাপনা পড়েছে তাদের স্থাপনা না ভাঙ্গতে প্রকৌশলী ও ঠিকাদার ঘুস বানিজ্য করছে। নিন্ম মানের সামগ্রী ব্যবহার করতে নিষেধ করায় ঠিকাদার এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকিও দিচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জানতে চাইলে ঠিকাদার জিল্লুর রহমান জানান, সড়কটি আরো দুই তিন বছর পরে প্রসস্ত করনের কাজ করতে হতো। সড়কটি যেহেতু বালু মাটির উপর সেহেতু বাজেটে অবশ্যই গাইড ওয়াল, পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মানের বরাদ্দ থাকতে হতো। আরেক ঠিকাদার খোরশেদ বখশি জানান, সামান্য বর্ষণে ব্যপক ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কারন তাঁদের ভাঙ্গন ঠেকাতে ব্যপক বালুর বস্তাসহ অতিরিক্ত অনেক কাজ করতে হচ্ছে। এতে করে তাঁদের ব্যয়  বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবী করেন। সড়কের কাঁচদহ এলাকার ঠিকাদার রজব আলী সড়কে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার এবং এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ঠিকাদাররা সকলেই স্বীকার করেছেন গাইড ওয়াল, পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং বালু অপসারন করে ব্যপক উন্নয়নের কাজ করা না হলে কয়েক দিনের টানা বর্ষনেই সড়কটি ধসে যাবে। উপজেলা প্রকৌশলী আ. কুদ্দুস জানান, তিনি নিয়মিত সংষ্কার কাজ পর্যবেক্ষণ করছেন। যেখানেই অনিয়মের অভিযোগ পাচ্ছেন সেখানেই ব্যবস্থা নিচ্ছেন। সড়কটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় বরাদ্দের বিষয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। এলজিইডি দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান  মুঠোফোনে জানান, সংষ্কার কাজে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের বিষয়ে তাঁকে কেউ অভিযোগ করেনি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসরাইল হোসেন জানান,সড়ক সংস্কার কাজে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে জানান, জেলা সমন্বয় সভায় ব্যক্তিগত ভাবে এবং একাধিকবার মুঠোফোনে তিনি জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে সড়কে সংস্কার কাজে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়মের বিষয়ে অভিযোগ করেছেন।    দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর-নবাবগঞ্জ-হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট) আসনের সাংসদ শিবলী সাদিক অভিযোগ করে জানান, যে সড়কটির উপর এ উপজেলাটির সকল উন্নয়ন নির্ভর করছে, তিনটি জেলার যোগাযোগের সেতুবন্ধন রচিত হচ্ছে, সে সড়কটি সংষ্কারে অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা তিনি পেয়েছেন। অনিয়ম, দুর্নীতি না হলে এলাকাবাসীসহ প্রশাসনের লোকজন সাবাই এতো অভিযোগ করতো না। বিষয়টি নিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ে কথা বলবেন।