মহাদেব কুমার দাস, খুলনা (দিনাজপুর২৪.কম) রাজা প্রতাপ আদিত্য বংশধর রাজা নীলকন্ঠের সময় এর ভাস্কার এই ঐহিত্যবাহী স্থাপনাটি। যখন বর্গির উৎপাতে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ উৎছন্নে যেতে বসেছিল। তখন নবাব আলী বর্দ্দী খাঁ তাদের কিছুই করতে পারিছিলেন না। ঐসময় পশ্চিম বঙ্গের সমস্ত রাজন্যবর্গ ভয়ে পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে পূর্ববঙ্গে আশ্রয় খুজছিলেন। এসময় তার দেওয়ান বাঘুটিয়ার হরিরাম মিত্র স্বীয় কার্যদক্ষতা ও চরিত্রগুনে রাজার প্রিয় ব্যক্তিত্ব হওয়ায় রাজা তাকে ভৈরব কুলের গড় বেষ্টিত যে কোন স্থানে রাজবাড়ী নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করেন। এ আদেশে হরিরাম মিত্র ভৈরব কুলের ধূলগ্রামে  তৈরী করেন সুন্দর একটি রাজ বাড়ী। রাজা নীলকণ্ঠ ধূলগ্রামের বাড়িটি অস্থায়ী নিবাস হিসাবে গণ্য করেন এবং এটি দেখা-শুনার জন্য তার সহযোগি হরিরাম মিত্রকে নির্দেশ দেন।  এই বাড়ী সংলগ্ন মন্দিরে অনেক দেব-দেবীর মুর্তির স্থান পায়। এই মন্দিরই হয়ে ওঠে রাজ বাড়ীর মূল আকর্ষণ। এটির মূল ফটকে তোরণ সহ এর চার পাশে ইটের তৈরী পাচিল দ্বারা বেষ্টনী ছিল এবং সারী বদ্ধ ভাবে ১১টি শিব মন্দির  অবস্থিত উহার মধ্যস্থানে সদর দরজাসহ নদীর দিকে বাঁধা ঘাট এবং ঘাটের পিছনের দিকটাতে দ্বাদশ শিব মন্দির ও পূর্বের পোতায় বড় মন্দিরে রাম,সীতা,হনুমানের বিগ্রহ ছিল এবং নিত্য পূজা হতো এখানে।
বিশেষ ভাবে  জানা যাই যে, ১৬৭১ শকাব্দের জ্যৈষ্ঠ মাসে মিত্র বংশীয় হরিরাম সৌভাগ্য বংশে শ্রীযুক্ত হরিহরপদ গোপীনাথের এই মন্দির নির্মাণ হয়।
কিন্তু কালের বিবর্তনে বর্তমান প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিক নিদর্শন এই ১১ শিব মন্দিরের ১০টি মন্দিরই বাঁধা ঘাটসহ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে আর বাকী ১টি মন্দির কালের স্বাক্ষী হয়ে অর্ধ ভঙ্গ-জরাজীর্ণ অবস্থায় কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে । জনশ্র“তে জানা জায় ৫০০ বছরের এই পুরাতন মন্দিরটি তৎকালীন সময়ে দেখা শুনার জন্য অমরেন্দ্রনাথ মিত্রের পরে মন্দিরটি দেখাশুনার জন্য পূর্ণ দায়িত্ব পান বিশুমিত্র । বিশুমিত্রের হাতেই জমিদারী প্রথার অবসান ঘটে। ১৯৫৪ সালের পরবর্তী সময়ে মন্দিরটির  দায়িত্ব গ্রহণ করেন নিশিকান্ত দত্ত  পরবর্তীতে তার হাতধরের স্থানীয় বাসিন্দাদের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট সময়ের পর নতুন  নতুন কমিটি গঠন ও পূজা অর্চ্চনার কাজসহ এই পূরাকৃর্ত্তী রক্ষণা বেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন সভাপতি কালী পদ দত্ত ও সাধারণ সম্পাদক দিলিপ পাল,সহ-সাধারণ সম্পাদক-গোবিন্দ চন্দ্র সেন। বর্তমানে ৫১ সদস্য বিশিষ্ট  এই মন্দির কমিটির দায়িত্বে থাকা  সভাপতি  সতেন্দ্রনাথ চক্রবর্ত্তী (মানিক) ও সাধারণ সম্পাদক  বিষ্ণু পদ সেন উল্লেখ করেন পূরাকৃর্ত্তি ঐহিত্যবাহী এই মন্দিরটির সংস্কার এবং নদী ভাঙ্গন রোধসহ নতুন করে নদীর ঘাট নির্মাণ করার জন্য সরকারের আশুদৃষ্টি কামনা করেন এবং  ১০০ বছরের  নারায় চন্দ্র সেন, ৮৫ বছরের তারাপদ গোজি, দিলীপ(৬৮),দুলাল কুমার অধিকারী (৬০),নন্দলাল স্বর (৭০),মোহন লাল,বিশ্বনাথ অশোক কুমার দাত্ত,বাসন্তী রানী সুর(৭০) মন্দিরে দায়িত্বে থাকা ৪৫ বছরের নিত্য পুজারী অনন্ত কুমার চক্রবর্ত্তীসহ নতুন প্রজম্মের কলেজ পড়–য়া ছাত্র রাজীব দত্তসহ সকলের জোর দাবি নদী ভঙ্গন রোধ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, ঐতিহ্যবাহী মন্দিরের আশু সংস্কার, বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্তবৃন্দের থাকবার আশ্রয়স্থাল, মন্দিরের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, নতুন করে নদীর তীরে ঘাট স্থাপনসহ নিত্য পুজার উপকরণ প্রয়োজন।
ঐহিত্যবাহী এই মন্দিরটির সংস্কারসহ অন্যান্য কাজ দ্রুত সংস্কারের জন্য সরকারের সহযোগিতার পাশাপাশি সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা বিশেষ ভাবে প্রয়োজন এ পুরাকৃর্ত্তী স্থাপনাটি রক্ষায়।