(দিনাজপুর২৪.কম) নতুন বছরের শুরুতেই টিঅ্যান্ডটি’র গ্রাহকরা তাদের ল্যান্ড ফোনে পেতে যাচ্ছেন ভয়েস, ডাটা ও ডিশ। ইতিমধ্যে ট্রিপল প্লে নামের এ প্রকল্পের টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি তাদের প্রতিবেদন বিটিসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। এখন বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই বাছাই করছে। মূল্যায়ন কমিটি সূত্র মতে এ কাজে অংশ নিতে কমপক্ষে ৮টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দিয়েছে। এসব দরপত্র মূল্যায়ন করতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। এ কমিটি দীর্ঘ মূল্যায়ন শেষে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে গত মাসে। শিগগিরই বিটিসিএল ওয়ার্ক অর্ডার ইস্যু করবেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরপরই শুরু হবে কাজ। বিটিসিএলের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের শুরুতেই ট্রিপল সুবিধা ভোগ করতে পারবেন রাজধানীর গ্রাহকরা। তিনি বলেন, রাজধানীর মিরপুর ও বারিধারায় সীমিতসংখ্যক গ্রাহক বর্তমানে ভয়েস কল ও ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন। আশা করা যাচ্ছে বছরের শুরুতে সেখানকার গ্রাহকরা ডিশ সুবিধাও পাবেন। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকায় এ সুবিধা পৌঁছে দেয়া হবে। আর এ জন্য এরই মধ্যে উত্তরা, শেরেবাংলা নগর, গুলশান ও মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ৭ ডিজিটের ফোন নম্বরের বদলে ৮ ডিজিট করা হয়েছে। কোথাও কাজ চলছে। উত্তরা এক্সচেঞ্জের ৮৯১ এবং ৮৯২ গ্রুপের ৭০০০ পুরনো টেলিফোন নম্বর ৮ ডিজিটে করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শেরেবাংলা নগর ও গুলশান টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় ৮০০০ নম্বর পাল্টে যাচ্ছে। মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় ৭০০০ টেলিফোন ৮ ডিজিটে করা হচ্ছে। বিটিসিএল-এর একজন পরিচালক বলেছেন, ঢাকার সর্বত্র অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন হওয়ার আগে সব এলাকায় এ সেবা পাওয়া যাবে না। বিটিসিএলের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রস্তুতিস্বরূপ উত্তরা, শেরেবাংলা নগর, গুলশান, রমনা, নীলক্ষেত, মিরপুর, বাবুবাজার, চকবাজার ও মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের আওতায় ১ লাখ গ্রাহকের টেলিফোন নম্বর ৮ ডিজিটে পরিবর্তন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে গ্রাহকরা এ সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন। আগে বিটিটিবি’র বর্তমানে বিটিসিএল টেলিফোন নম্বর ছিল ছয় ডিজিটের। তখন ছিল এনালগ সিস্টেম। আর এনালগ থেকে ডিজিটালে রূপান্তরের প্রয়োজনে তা ৭ ডিজিটে পাল্টে দেয়া হয়। সে সময় পরিবর্তন করা হয়েছিল আগের নম্বরের সঙ্গে সংগতি রেখে। শুধুমাত্র একটি ডিজিট যোগ করে। কিন্তু বর্তমানে টেলিফোন নম্বর পুরোপুরিই পাল্টে যাচ্ছে। বিটিসিএল ইতিমধ্যে যেসব টেলিফোন নম্বর পরিবর্তনের তালিকা করেছে, তার মধ্যে একটি নম্ব্বরও আগের নম্বরের সঙ্গে মিল নেই।
রাজধানীর পুরনো ডিজিটাল টেলিফোন সিস্টেম প্রতিস্থাপন (১৭১ কে.এল) প্রকল্পটি বিটিসিএল পরিচালনা পরিষদের সভায় অনুমোদিত হয়। বিটিসিএল’র নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির মাধ্যমে গ্রাহকদেরকে আধুনিক টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রচলিত কপার ক্যাবলের ব্যবহার সীমিত রেখে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে গ্রাহকদের এলাকা পর্যন্ত, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভবন, এমনকি বাসা পর্যন্ত সংযোগ স্থাপনের সংস্থান এ প্রকল্পে রয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহার একদিকে যেমন সাশ্রয়ী অন্যদিকে ব্যান্ড-উইড্‌থ বেশি হওয়ায় বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস সহজেই দেয়া যাবে। এ ধরনের প্রকল্প বিটিসিএল তথা সমগ্র বাংলাদেশে প্রথম এবং এর মাধ্যমে বিশ্বমানের টেলিযোগাযোগ সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে বলে বিটিসিএল আশা করছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে এনজিএন বেইজড সফট সুইচের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির টেলিফোন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দেয়া যাবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ্বমানের টেলিযোগাযোগ সেবা যেমন এফটিটিবি (ফাইবার টু দ্য বিল্ডিং) এফটিটিএইচ (ফাইবার টু দ্য হোম) এফটিটিও (ফাইবার টু দ্য অফিস) ইত্যাদি প্রদান করা সম্ভব হবে। যার ফলে গ্রাহকরা একই সঙ্গে ভয়েস, ডিশ ও ডাটা সেবা পাবেন। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন যাচাই বাছাই শেষে বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কোম্পানিকে ওয়ার্ক অর্ডার দেয়ার পরই দ্রুতগতিতে কাজ শুরু হবে। আর আগামী বছরের শুরুতেই এর উদ্বোধনের আশা করছেন বিটিসিএল কর্তৃপক্ষ। -ডেস্ক