-ফাইল ছবি

বি. এম. জুলফিকার রায়হান (দিনাজপুর২৪.কম) তালা উপজেলার প্রায় ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য একমাত্র মাধ্যম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এরসাথে ভাল চিকিৎসা সেবা পাবার আশায় পার্শ্ববর্তী পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া উপজেলা সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত রোগী প্রতিনিয়িত তালা হাসপাতালে আসেন। ফলে এই সকল মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র মাধ্যম তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দুঃখের বিষয়, চিকিৎসক ও কর্মচারী সংকটের সাথে চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল না থাকায় বিগত কয়েক বছর ধরে রোগীরা এখান থেকে সুষ্ঠ ভাবে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেনা। তবে, চিকিৎসা কিছুটা পাওয়া গেলেও তা’ হাসপাতালের স্যানিটেশেন অবস্থার কারনে দূর্ভোগ নেমে আসো! এছাড়া ফ্যান, ইসিজি, আল্ট্রাসনো ও এক্সরে মেশিন নষ্ট থাকায় ভোগান্তী চরমে রয়েছে- এখানে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের।
তালা রিপোর্টার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা সহ সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে সরজমিনে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থানকালে রিপোর্টার্স ক্লাবের সাংবাদিকরা হাসপাতাল কমপ্লেক্স এর সকল চিত্র স্বচক্ষে অবলোকন করেন।
তালা হাসপাতালের অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সংক্রান্ত সকল সমস্যা, সম্ভাবনা, কর্তব্যরত ডাক্তার ও কর্মচারীদের নানান সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা, হাসপাতালের অনিয়ম সহ বিভিন্ন বিষয়ের চিত্র প্রতিবেদন আকারে ধারাবাহিক তুলে ধরা হবে। ৩ পর্বের ধারাবাহিক রিপোর্টের আজ থাকছে প্রথম পর্ব।
৫০ শয্যা বিশিষ্ট তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র জন্য ডাক্তারের পদ রয়েছে ৩৪জন। কিন্তু এখানে আছে মাত্র ৭জন। এরমধ্যে কেউ আছেন ডেপুটিশনে, কেউ আছেন মাতৃত্বকালনি ছুটিতে আবার কেউ আছেন প্রশিক্ষনে। পদ পূরণ থাকা ডাক্তারদের মধ্যে কেউ সভা সেমিনারে অংশ নিলে মাঝে মাঝে মাত্র ১জন ডাক্তার বহির্বিভাগে আগত শত শত রোগীকে চিকিৎসা করেন। বিপুল সংখ্যক রোগীকে মাত্র ১জন বা ২/৩ জন ডাক্তার চিকিৎসা সেবা দেওয়ায়- চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া মেডিকেল রিপ্রেজেন্টিভদের অপতৎপরতা রোগীদের হয়রানী করছে প্রতিনিয়ত। হাসপাতালে ২য় শ্রেণির কর্মচারী- নার্স ও মিডওয়াইফ ২৫টি পদের বিপরীতে আছে ১৮জন। ৩য় শ্রেণির ১৪৫ টি কর্মচারী পদের বিপরীতে পদ পূরন আছে ১১৬টি। শূণ্য রয়েছে ২৯টি পদ। এরমধ্যে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে পূরন করা হয়েছে ১টি পদ। ৪র্থ শ্রেণির ২৭টি পদের বিপরীতে বর্তমানে পূরন আছে মাত্র ১৩টি পদ।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রাজিব সরদার জানান, হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারী সংকট রয়েছে। তার সাথে অ্যাম্বুলেন্স, এক্সরে, ইসিজি, আল্ট্রাসনো ম্যাশিন অচল রয়েছে। ফলে এখান থেকে চিকিৎসা সেবা প্রদান ব্যহত হচ্ছে। তার সাথে অত্যাধুনিক অপারেশ রুম থাকলেও অ্যানেস্থিসিয়া ও সার্জন না থাকায় রোগীদের অপারেশন করানো যাচ্ছেনা। তবে এসকল সমস্যা সমাধানের জন্য মাননীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ’র ডিও পত্রসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করা হয়েছে।
ডা. রাজিব সরদার আরো বলেন, হাসপাতালের নানাবিধ সমস্য থাকলেও এখানে আগত রোগীদের সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত বিরতীহীন ভাবে চিকিৎসা সেবা সহ প্রয়োজনীয় সরকারি ওষুদ প্রাপ্তি সাপেক্ষে প্রদান করা হয়। এছাড়া সপ্তাহে ২দিন চক্ষু রোগীদের সেবা, নরমল ডেলিভারী, পুষ্টি কর্নার থেকে বিনামূল্যে পুষ্টি খাদ্য বিতরন, ২৪ ঘন্টা জরুরী বিভাগ থেকে রোগীদের সেবা প্রদান এবং দক্ষ প্যাথলজিস্ট দ¦ারা খুবই কম মূল্যে প্যাথলজিক্যাল নানান পরীক্ষা করানো হয়। তাছাড়া হাসপাতালে আগত দরিদ্র ও হতদরিদ্র রোগীদের সেবা দেবার জন্য ব্যক্তি উদ্যোগে রোগী কল্যাণ সমিতি গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়াও এখান থেকে জাতীয় ভাবে পুরস্কার প্রাপ্ত দক্ষ মিডওয়াইফ নাসিমা খাতুন এর মাধ্যমে সপ্তাহে ৪দিন ভায়া (জরায়ু ক্যান্সার) পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হয়।