(দিনাজপুর২৪.কম) জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র কার্যক্রমকে নজরদারিতে আনা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে এ নজরদারি শুরু হয়েছে। গেল সপ্তাহে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো তাদের কার্যক্রম শুরু করে। রাজশাহী জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র কার্যক্রম সম্পর্কে পাঠানো বিশেষ প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, দেশের বর্তমান সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে গ্রামগঞ্জ ও স্কুল-কলেজভিত্তিক ‘ইসলামী নারী সংস্থা’র কার্যক্রম বন্ধ করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা স্থানীয় প্রশাসনকে জোর সুপারিশ করা যেতে পারে। পাশাপাশি ছাত্রী সংস্থার কর্মীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরো তথ্য বের হয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে ছাত্রশিবির ও ইসলামী ছাত্রী সংস্থায় যোগদানকে নিরুৎসাহিত করতে সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রচার করা যেতে পারে। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে নির্দেশনা পাঠিয়েছে। বিশেষ প্রতিবেদনে মন্তব্য আকারে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র মূল উদ্দেশ্য কোমলমতি ছাত্রী ও সরলমনা ধর্মভীরু মহিলাদের জিহাদে অংশগ্রহণসহ প্রচলিত সংবিধানের বাইরে সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য জিহাদি মনোভাবাপন্ন করে তৈরি করে মাঠে নামানো। এছাড়া, বর্তমান সময়ে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রকাশ্যে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। এ কারণে মূল দল জামায়াতের অর্থায়নে তাদেরই নারী টিম হিসেবে ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার চেষ্টা করছে। সংস্থার কর্মীরা গ্রামগঞ্জ ও স্কুল-কলেজভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা ‘জাহান্নামের আগুন’ থেকে মুক্তি লাভের উপায় এবং মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করার প্রতারণামূলক প্রলোভন দিয়ে সংগঠনে যোগ দিতে সরলমনা নারীদের উদ্বুদ্ধ করছে। ইসলামী ছাত্রী সংস্থার পটভূমি বর্ণনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মতো জামায়াতে ইসলামী’র একটি সহযোগী ছাত্রী সংগঠন। ১৯৭৮ সালের ১৫ই জুলাই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়। গেল বছরগুলোতে এ সংগঠনের বিস্তার ও কোনো কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হয়নি। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে কোণঠাসা হওয়ায় ‘বিকল্প ব্যবস্থা’ হিসেবে ‘ইসলামী ছাত্রী সংস্থা’র কার্যক্রম বর্তমানে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কোমলমতি ছাত্রী ও ধর্মপ্রাণ মহিলাদের এ সংস্থায় যোগদানের জন্য বিভিন্ন ধরনের চটকদার প্রলোভন, উৎসাহ দিয়ে জামায়াত-শিবির শক্ত হাতে এ সংস্থাকে সহযোগিতা করছে। -ডেস্ক