স্টাফ রিপোর্টার (দিনাজপুর২৪.কম) পবিত্র ঈদ উল ফিতর। এই পবিত্র ধর্মীয় উৎসব কেমন কাটবে মৌলিক চাহিদা পূরনের কারিগর কৃষকের? তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। শুধু কি কৃষকের না তার পরিবারে অবুঝ শিশু সন্তানটিরও। সেই অবুঝ শিশু সন্তানটি তার জন্মদাতা বাবাকে বলছে আমরা কি এই ঈদে নতুন জামা-কাপড় পাবোনা। সেই জন্মদাতা বাবা অবুঝ শিশুটির কথার কোনো উত্তর না দিয়ে অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে নীল আকাশের দিকে। তার কারণ অভিশপ্ত হয়ে উঠেছে কৃষকের আস্থার ফসল ধানের দর পতন। বেশি দাম পাবে বলে ধার-দেনা, গৃহপালিত পশু বিক্রি করে কৃষক ধান চাষ করে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ধান বিক্রি করতে গিয়ে উৎপাদিত খরচের অর্ধেক দাম পাচ্ছেনা তারা। আর এই ঈদ কেমন কাটবে তা সংশয়ে দিন পার করছে রাণীশংকৈলের কৃষক । চলতি বোরো মৌসুমে ধানের দাম ভাল না থাকায়  ঈদুল ফিতরের আনন্দ কৃষকের মাঝে নেই বল্লেই চলে। বর্তমানে বাজারে ধানের দাম ভাল না থাকায় হতাশায় ভুগছেন দিনাজপুর জেলার কৃষকরা । ঈদ মানে আনন্দ আর খুশি। আর ঈদে একটু বেশি আনন্দ বা খুশি হতে কৃষকরা ধানের উপর নির্ভর করছে। তারা তাদের ঘামঝরা পরিশ্রমের ফলে এই উৎপাদিত ফসল নিয়ে হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন। কৃষকের পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি এই কৃষক। এই কৃষকের উপর নির্ভর করে পরিবারের সকল সদস্যদের আনন্দ। ঈদকে উপলক্ষ্য করে বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে উৎপাদন খরচের অর্ধেক দামে বাজারে রেখে আসতে হচ্ছে কৃষকের একমাত্র সম্বল এই ধান। ইতোমধ্যে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের মূল্য দেওয়া হলেও এখনও কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হচ্ছে না। লটারির মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকের মাধ্যমে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ে চলছে নানা অনিয়ম দুর্নীতি। আর তা করছে প্রভাবশালী, নেতৃস্থানীয় লোকজন।
কথা হয় জেলার ইব্রাহিম ধান চাষীর সাথে। তিনি হতাশার সাথে জানান আড়াই বিঘা জমি বার হাজার টাকায় একটি ফসল আবাদ করবে বলে চুক্তি নেয়। সেই হিসেবে তার এই আড়াই বিঘা জমিতে ধার-দেনা করে মোট খরচ করেন ২৮ হাজার টাকা। আর এই জমির ধান বিক্রি করে পেয়েছেন সতের হাজার টাকা। আর এই কৃষককে লোকশান গুনতে হচ্ছে ১১ হাজার টাকা। শুধু ইব্রাহিম নয় এর মতো অনেক কৃষকের ভাগ্যে এরকম শনি দশা জুটেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন দোকান-পাঠ ঘুরে দেখা যায় যে, দোকানে শুধু চাকুরিজীবী ব্যক্তিদের কেনাকাটা করতে দেখা যায়। যার ফলে ঈদের বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে উপজেলার কৃষক বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের কপালে হতাশার ছাপ দেখা যাচ্ছে। বছরের একটি দুইটি দিন যদি একটু আনন্দ করতে না পারব তাহলে আমাদের কিসের জীবন। এমনই ক্ষোভের কথা কৃষকের মুখে মুখে। ধানের নায্য দাম না পেয়ে হতাশায় ঈদ পার করতে হচ্ছে কৃষককে।