(দিনাজপুর২৪.কম) সাম্প্রতিক দেশে ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধ বেড়েই চলেছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন সবাই, চলছে আন্দোলনও। এরই মধ্যে ধর্ষণের জন্য নারীদের পোশাককে দায়ী করলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক ভিডিওবার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওর শুরুতেই ধর্ষকদের উদ্দেশে অনন্ত জলিল বলেন, ‘এই যে তোমরা যারা ধর্ষণ করেছ, তোমরা বলব না তোরা বলব? ধর্ষণ করার কারণে যে সারা দেশে আন্দোলনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছো, কেমন লাগছে তোমাদের? হাসি পাচ্ছে? তোমাদের সামনে তোমাদের স্ত্রী, কন্যাদের যদি কেউ রেপ করে তাহলে তোমার কেমন লাগবে? তুমি তো একটা অমানুষ। ভালোই লাগবে বোধ হয়, না? না হলে তো অন্যের মেয়েকে, অন্যের মা-বোনকে রেপ করতে পারতে না। তোমার ভালো লাগবে। তোমার যে মনুষ্যত্ব সেটা তো মরে গেছে। নিজেকে পুরুষ ভাবো, কাপুরুষের দল। কবে নিজেকে মানুষ মনে করবি। তোর জন্য তো বাবা-মা পর্যন্ত কলঙ্কিত।’

দেশের সব নারীদের উদ্দেশে এই চিত্রনায়ক বলেন, ‘সিনেমা, টেলিভিশন, স্যোশাল মিডিয়াতে, অন্যান্য দেশের মেয়েদের অশ্লীল ড্রেসআপ দেখে নিজেরাও ফলো করার চেষ্টা করো। এমনকি ফলো করে একই ড্রেস পড়ে ঘোরাঘুরি করো। আল্লাহতালা তোমাদের যে চেহারাটা দিয়েছে, বখাটে ছেলেরা এই চেহারাটার দিকে না তাকিয়ে তোমার ফিগারের দিকে তাকায়। এরপর বিভিন্ন মন্তব্য করে এবং রেপ করার চিন্তা তাদের মাথায় আসে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা কি নিজেদের মডার্ন মনে করো? অ্যাঁ? এটা কি মডার্ন ড্রেস? না অশালীন ড্রেস। এটা মডার্ন ড্রেস হতে পারে না। মডার্ন ড্রেস হবে যেখানে ফেস দেখা যাবে যেটা আল্লাহতাআলা দিয়েছেন। কিন্তু যে বডিটা আছে সেখানে শালীনভাবে পোশাক পরতে হবে। যে ড্রেসটা আছে, যেটা তোমাকে পরলে ভালো লাগবে। আমার কথাগুলো আজকে তিতে মনে হতে পারে। কারণ এর আগে আমি কখনো এ ধরনের কথা বলিনি। খুব সত্য কথা, কেন এ ধরনের ড্রেস পড়তে হবে? নিজেকে পাশের একজন ভদ্রমেয়ের কাছে জিজ্ঞাসা করে দেখো, তোমাকে কত বাজে লাগে দেখতে।’

‘ছেলেদের মতো একটা টিশার্ট পরে বের হয়ে যাও, মডার্ন মেয়ে তুমি! খুব মডার্ন! তারপর ইজ্জত শেষ করে যখন বাসায় যাও, হয় আত্মহত্যা করো না হয় মানুষের সামনে মুখ দেখাতে পারো না, এটা কি মডার্ন? শালীন ড্রেস পরলে যারা বখাটে যাদের মাথায় ধর্ষণের চিন্তাভাবনা আছে, তারা তোমার দিকে শ্রদ্ধার দিকে তাকাবে। এরপর চোখ নিচের দিকে নিয়ে নেবে। তাকিয়ে তোমাকে সম্মান জানাবে’, বলেন তিনি।

ধর্ষকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘আমার প্রিয় ভাইয়েরা, একবার চিন্তা করে দেখেন। আপনারা যা করছেন, এটা কি ঠিক কি-না। এর আগে আমি তুই, তোমারি করেছি, আমি সো সরি। একবার চিন্তা করে দেখেন, নিজের বোন ও স্ত্রী যদি এই ধরনের সমস্যায় পড়ে, তখন আপনার মাথায় রক্ত উঠবে কি-না। একবার চিন্তা করেন নিজেকে নিয়ে। আপনার যদি একটুও মনুষ্যত্ব বেঁচে থাকে তাহলে একবার চিন্তা করে দেখেন আপনার কি অবস্থা হবে।’

সবশেষে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট আবেদন জানান অনন্ত। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনি আমাদের অভিভাবক। আপনাকেই শক্ত হতে এসব অমানুষের মৃত্যুদণ্ডের আইন ও তা বাস্তবায়নের সুব্যবস্থা করতে হবে। কারণ আপনার দিকে সবাই তাকিয়ে আছে, আপনি কখন নির্দেশ দেবেন।’ -ডেস্ক