ছবি-সংগ্রহীত

দিনাজপুরে চলন্ত ট্রেনে মুক্তি পারভীন (২৫) নামের এক প্রসূতি মা কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন। ট্রেনের নামে নবজাতকের নাম রাখা হয়েছে ‘মিতালী’। বর্তমানে ওই মাকে দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার (৪ এপ্রিল) সকালে পীরগঞ্জ স্টেশন থেকে দিনাজপুর যাওয়ার সময় দ্রুতযান এক্সপ্রেসে সন্তান জন্ম দেন মুক্তি পারভীন। নতুন অতিথির আগমনের জন্য আন্তঃনগর দ্রুতযান ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের ১৩ মিনিট পর দিনাজপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে। মুক্তি পারভীন ও তার সন্তনকে বিনাভাড়ায় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের পক্ষ থেকে মুক্তি পারভীন ও নবজাতক মিতালীকে একগুচ্ছ ফুল, ডালাভর্তি ফল, বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নতুন জামা-কাপড় উপহার দেয়া হয়েছে। সন্তান জন্ম দেয়া মুক্তি পারভীন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার ভুমরাদহ হাজীপাড়া গ্রামের মনসুর আলীর স্ত্রী। মুক্তি পারভীনের স্বামী মনসুর আলী জানান, ‌এটা তাদের দ্বিতীয় সন্তান। তাদের দুই বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তিনি সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে দিনাজপুরে সেন্ট ভিনসেন্ট (মিশন হাসপাতালে) হাসপাতালে চিকিৎসা করাতেন। আগামী ৮ এপ্রিল সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ ছিল। শনিবার সকালে স্ত্রীকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও পীরগঞ্জ স্টেশনে পঞ্চগড় থেকে ঢাকাগামী দ্রুতযান এক্সপ্রেসের শোভন শ্রেণির (৭৫৮ নম্বর ট্রেন) ‘ঙ’ বগিতে করে দিনাজপুরে আসছিলেন। পথে প্রসব ব্যথা শুরু হয়। এসময় ট্রেনে থাকা নারী যাত্রীদের সহায়তায় মুক্তি পারভীন নিরাপদে সন্তান প্রসব করেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ততক্ষণে ট্রেন এসে দিনাজপুর স্টেশনে পৌঁছলেও ফুল (গর্ভে সন্তান যে আবরণে ঢাকা থাকে) না পড়ার কারণে মুক্তি পারভীন ও নবজাতককে ট্রেন থেকে নামানোর মতো পরিস্থিতি ছিল না। এসময় স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট এবিএম জিয়াউর রহমান সিদ্ধান্ত দেন, প্রসূতি মা ও নবজাতক নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন দিনাজপুর স্টেশন ছেড়ে যাবে না। পরে জিআরপি পুলিশ, নারী স্টেশনমাস্টার নার্গিস বেগম এবং একজন স্থানীয় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীর সহযোগিতায় মা ও নবজাতককে নিরাপদে ট্রেন থেকে নামানো হয়। পরে বিনাভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে দিনাজপুর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আমরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা পেয়ে খুব খুশি।’

এদিকে নির্ধারিত সময়ের ১৩ মিনিট পর সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের স্থলে ১০টা ২৭ মিনিটে দিনাজপুর স্টেশন ছেড়ে যায় আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্টেশন সুপারিনটেনডেন্ট এবিএম জিয়াউর রহমান দিনাজপুর২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে প্রসূতি মা ও নবজাতককে নিরাপদে ট্রেন থেকে নামিয়ে বিনা ভাড়ায় হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্সে পৌঁছে দিয়েছি। বিষয়টি বাংলাদেশ রেলওয়ে লালমনিরহাট বিভাগীয় ব্যবস্থাপক শাহী সুফি নুর মোহাম্মদকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ির মধ্যে চলাচলকারী ‘মিতালী’ ট্রেনের নামে নবজাতকের নাম ‘মিতালী’ রাখতে বলেন। তার নির্দেশনায় নবজাতকের নাম ‘মিতালী’ রাখা হয়েছে। নবজাতকের মা-বাবা এই নাম রাখায় খুশি হয়েছে।’

দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (এমআরও) ডা. পারভেজ সোহেল রানা জানান, প্রসূতি মা ও নবজাতক মিতালীকে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তারা সুস্থ রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, একগুচ্ছ ফুল, ফল, বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও নতুন জামা-কাপড় উপহার দেয়া হয়েছে। রোববার তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হতে পারে।-ডেস্ক