(দিনাজপুর২৪.কম) তিন রানে নিজেদের শেষ পাঁচ উইকেটের পতন। পরে ৩১২ রানের টার্গেট দিয়েও দুই উইকেট হাতে রেখে প্রতিপক্ষের ব্যাট না ছাড়া। সামনে আরও তিনটি দিন থেকে যাওয়া। শুক্রবার(০৯ ফেব্রুয়ারি) মিরপুরে এমন একটি শুক্রবার শেষে বাংলাদেশের বাড়তি সঙ্গী প্রথম ইনিংসের লঙ্কান হুঙ্কার- প্রতিদ্বন্দ্বী, এস যুদ্ধ হবে!

প্রতিদ্বন্দ্বী, এস যুদ্ধ হবে। ব্যাট-বলের দুনিয়ায় টেস্ট ক্রিকেটের ভাবান্তর যদি এটি হয়, তাহলে সেটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সামনের কয়েকদিনে প্রযোজ্য হওয়ার কথা নয়। রিয়াদদের প্রথম ইনিংসের চেহারা, এত রান টপকে বাংলাদেশের জয়ের কোনো ইতিহাস না থাকা এবং উইকেটের আচরণ স্মরণে রেখে কেউ স্বাগতিকদের অসহায় আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত দিলে অত্যুক্তি হওয়ার কথা নয়। অথচ এই ইনিংসে আলোচনা হওয়ার কথা মোস্তাফিজের বোলিং নিয়ে। সারাদিন মায়াবী সব কাটার আর গতির পরিবর্তনে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করেছেন। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগিয়েছেন। দিন শেষে তার আলো ঢাকা পড়ছে ব্যাটসম্যানদের দীনতায়।

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংসে ২২২ রানে অলআউট হয়েছিল। চার বছর পর দলে ফেরা রাজ্জাক ৬৩ রানে চার উইকেট নেন। তাইজুলও চারটি। তিনি খরচ করেন ৮৩ রান। মোস্তাফিজ ১৭ রানে দুই উইকেট নিয়ে লঙ্কানদের চা বিরতির পরপরই অলআউট করে দেন। সফরকারীদের হয়ে কুশল মেন্ডিস সর্বোচ্চ ৬৮ ও রোশেন সিলভা ৫৬ রান করেন।
মূর্তিকারিগর

বাংলাদেশের এই আনন্দ উবে যায় নিজেরা ব্যাট করতে নামলে। প্রথম ৪ চার উইকেট পড়ে ৪৩ রানে। দ্বিতীয়দিন শেষ পাঁচ উইকেট পড়ে ৩ রানে। সব মিলিয়ে ১০ উইকেট হারিয়ে প্রথম ইনিংস থামে ১১০ রানে। বাংলাদেশের একজন মাত্র ব্যাটসম্যান ৩০’র ঘর স্পর্শ করেন। তিনি মেহেদী হাসান মিরাজ, ৩৮*। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লিটন দাসের ২৫। এরপর একে একে ফিরে যান রিয়াদ (১৭), সাব্বির (০), রাজ্জাক (১), তাইজুল (১) এবং মোস্তাফিজ (০)।

আগের দিনের ব্যাটিংয়ের গল্পটা তুলনামূলক একটু ‘ভালো’। শেষ বিকেলে তামিম (৪) নেমেই আক্রমণ শুরু করেন। চার হাঁকানোর পর লাকমালকে সোজা ব্যাটে খেলতে গিয়ে তার হাতেই ক্যাচ দেন। আগের ম্যাচের নায়ক মুমিনুল হক (০) রান নেয়ার সময় মনোযোগ ঠিক রাখতে পারেননি। ‘থ্র’ থেকে আসা বল তার প্রান্তের উইকেটে যখন লাগে, তখন তিনি অলস ভঙ্গিতে ক্রিজে ব্যাট রাখছিলেন। অনুমান ক্ষমতাকে আরেকটু কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের বড় ভরসাকে এভাবে ফিরতে হতো না।

মুশফিকুর রহিম একবার রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান। এরপর লাকমালের কমপক্ষে দুটি ভয়ঙ্কর ইনসুইঙ্গারে আউট হতে হতে আবার বাঁচেন। তৃতীয়টি থেকে আর রক্ষা পাননি। আগের দুটির মতো একইভাবে ছাড়তে গিয়ে বোল্ড হন। ২২ বলে এক রান করে ফিরতে হয়ে সাবেক অধিনায়ককে। ইমরুল ফেরেন পেরেরার বলে এলবিডব্লিউ হয়ে। ৫৫ বলে ১৯ করেন তিনি।

দ্বিতীয় ইনিংসে শ্রীলঙ্কা দলীয় ১৯ রানে কুশল মেন্ডিসকে (৭) হারায়। দ্বিতীয় জুটিতে ধনঞ্জয়া (২৮) এবং করুনারত্নে (৩২) ৩৪ রানের জুটি গড়েন। করুনারত্নেকে ফেরান মিরাজ, মেন্ডিসকে রাজ্জাক। ধনঞ্জয়া ফেরেন তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে। লঙ্কানরা কেউ আহামরি বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও অল্প অল্প করে বেশ কয়েকজন অবদান রেখে গেছেন। সর্বোচ্চ সংগ্রহ রোশেন সিলভার, ৯৪ বলে ৫৮।

মোস্তাফিজ এই ইনিংসে নিয়েছেন তিন উইকেট। দুটি করে তাইজুল এবং মিরাজের। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট পাওয়া রাজ্জাক এবার নিতে পেরেছেন একটি।

‘হঠাৎ কী যে হল’র স্মৃতি আবার ফিরে আসে শ্রীলঙ্কার নবম উইকেটের ব্যাটিংয়ের সময়। দ্রুত আগের তিন উইকেট ফেলে দিলেও নবম উইকেট ফেলতে পারেনি বাংলাদেশি বোলাররা। হঠাৎ ছন্দ পতনের সুযোগ নিয়ে রোশেন এবং লাকমাল যোগ করে গেছেন ২২ রান!

শ্রীলঙ্কা প্রথম ইনিংস: ৬৫.৩ ওভারে ২২২
(মেন্ডিস ৬৫, ধনঞ্জয়া ১৯, গুনাথিলাকা ১৩, রোশেন ৫৬, দিলরুয়ান ৩১, আকিলা ২০; মিরাজ ০/৫৪, রাজ্জাক ৪/৬৩, তাইজুল ৪/৮৩, মোস্তাফিজ ২/১৭।)
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪৫.৪ ওভারে ১১০
(তামিম ৪, ইমরুল ১৯, মুমিনুল ০, মুশফিক ১, লিটন ২৫, মিরাজ ৩৮*, মাহমুদউল্লাহ ১৭, সাব্বির ০, রাজ্জাক ১, তাইজুল ১, মোস্তাফিজ ০; লাকমাল ১২-৪-২৫-২, দিলরুয়ান ১১.৪-৪-৩২-২, ধনঞ্জয়া ১০-২-২০-৩, হেরাথ ১২-১-৩১-০)
শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ইনিংস: ৬২ ওভারে ২০০/৮ (দ্বিতীয় দিন শেষে লিড ৩১২।)
(করুনারত্নে ৩২, চান্দিমাল ৩০, সিলভা ৫৮; মোস্তাফিজ ৩/৩৫, তাইজুল ২/৭২, ,মিরাজ ২/২৯, রাজ্জাক ১/৬০। ) -ডেস্ক