(দিনাজপুর২৪.কম) প্রার্থীতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দিনের মতো নির্বাচন কমিশনে (ইসি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা তাদের প্রার্থীতা ফিরে পেতে আপিল করছেন। মঙ্গলবার (০৪ ডিসেম্বর) দুপুর তিনটা পর্যন্ত ১১৫ জন প্রার্থী আপিল করেছেন। এর মধ্যে রয়েছ নাটোর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, জাতীয় পাটির সাবেক মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার, নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এমএ করিম আব্বাসী,জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য সোহেল রানা, মেজর অব. মনজুর কাদের প্রমুখ। তবে শেষ খবর পাওয়া পযন্ত খালেদা জিয়ার পক্ষে কেউ আপিলের আবেদন করেননি। এদিকে, মঙ্গলবার প্রার্থীদের আপিল গ্রহণ করা আট বিভাগের ডেস্কগুলো পরিদর্শন করেন ইসি কমিশনার মাহবুব তালুকদার। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপিলকারীদের প্রতি পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণ করা হবে না। তিনি বলেন, ‘তবে আমরা যা কিছু করব, তা আইনানুগভাবেই আমাদের করতে হবে। কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব আমরা অবশ্যই দেখাব না। প্রতিটি কেসেরই (আপিল) মেরিট আমরা দেখব। আমি যেটা মনে করি, নির্বাচন কমিশন সব ব্যাপারেই একটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে।’ নিরপেক্ষতা আপেক্ষিক উল্লেখ করে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে একজন সাজাপ্রাপ্ত হন, পরে আবার তিনি খালাসও পান। সেক্ষেত্রে আমি বলব, ন্যায়বিচার বিষয়টি পুরোপুরি আপেক্ষিক। কোনটা ন্যায়বিচার আর কোনো ন্যায়বিচার নয়, সেটার বিচারক তো আমি নই।’ উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে কি না এবং আপিলে কমিশন নিরপেক্ষতার পরিচয় দেবে কি না – এমন দুটি প্রশ্নের জবাবে মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমার এককভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়ার কথা নয়। এভাবে বলে তো আর লাভ হবে না। যারা আপিল করেছেন বা করছেন, শুনানিতে তারা তাদের তথ্যগুলো উপস্থাপন করবেন। এ বিষয়ে ব্যক্তিগত কোনো অভিমত আমার নাই।

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজি সেলিম ও পঙ্কজ দেবনাথ নির্বাচন করতে পারবেন কি না জানতে চাইলে এই কমিশনার বলেন, ‘আমার কথা হলো, এসব অভিযোগের প্রশ্নের উত্তর আমি এই মুহূর্তে দিতে পারি না।

এদিকে মঙ্গলবার আট বিভাগের ১১৫ প্রার্থী মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, এর মধ্যে খুলনক বিভাগে ৮ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১০ জন, সিলেট বিভাগে ৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৯ জন, ঢাকা বিভাগে ৩৩ জন, চট্রগ্রাম বিভাগে ২৮ জন,রাজশাহী বিভাগে ১০ জন, রংপুর বিভাগে ১০ জন। এ নিয়ে গত দুইদিনে আপিল করেছেন ১৯৯ জন।

এর আগে গতকাল সোমবার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পত্রের বৈধতা পেতে ইসিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএসএম কিবরিয়ার ছেলে রেজা কিবরিয়া, সাবেক মন্ত্রী মীর নাছির, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি, হিরো আলমসহ ৮৪ প্রার্থী আপিল করেছিল।

এদিকে গতকার সোমবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণের সময়সীমা থাকলেও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ করা হয়। আগামীকাল বুধবার আপিল গ্রহণের শেষ দিন।

উল্লেখ্য গত ২ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিন। সারা দেশে দাখিল করা ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা তাদেও প্রার্থীতা ফিওে পেতে ৩ ডিসেম্বর থেকে আপিল শুরু হয়েছে চলবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর ৬ ডিসেম্ভব থেকে প্রার্থীদের আপিল গ্রহণের ওপর শুনানি চলবে। পরদিন ৯ ডিসেম্ভব মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ ডিসেম্ভবর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী ৩০ ডিসেম্ভব ভোট গ্রহণ। -ডেস্ক