(দিনাজপুর২৪.কম) পর পর দুই দিনের ভারী বর্ষণে রাজধানী ঢাকার বেশির ভাগ এলাকার রাস্তা ডুবে গিয়ে অশেষ ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। বুধবার ভোর থেকে বৃষ্টি হওয়ায় দিনের শুরুটাই হলো ভোগান্তি দিয়ে। রাস্তায় নামা ঢাকাবাসী বিশেষ করে অফিসগামীদের পড়তে হচ্ছে প্রচণ্ড দুর্ভোগে। গণপরিবহন সংকট পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলেছে। বুধবার ভোর থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো শুরু হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টি। থেমে থেমে চলছে ভারী ও মাঝারি বর্ষণ। আগের দিন মঙ্গলবার মাত্র দেড় ঘণ্টার ভারী বর্ষণে নাকাল হয়েছিলো নগরবাসী। এদিন বেলা ১১টা থেকে বৃষ্টি শুরু। ধীরে ধীরে এর বেগ বাড়তে থাকে। মাত্র দেড় ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৪২ মিলিমিটার। বৃষ্টিতে তলিয়ে যায় মধ্য ঢাকার তল্লাবাগ, শুক্রাবাদ, গ্রিন রোড, ইন্দিরা রোড, পরীবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, গার্ডেন রোড, সোনারগাঁও হোটেল এলাকাসহ অনেক এলাকা। বৃষ্টির পর নগরজুড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের। অল্প সময়ে অতিবৃষ্টি, ঢাকা ও চারপাশের নদীগুলোর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়া এবং হাতিরঝিল থেকে যে পথে পানি নিষ্কাশিত হয় (ডাউন), সে পথে পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় গতকাল ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয় বলে বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা ওয়াসার কর্মকর্তারা বলছেন। আগামী কয়েক দিন এই ধারা চলতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার সকাল ১০টায় ঢাকার রাজপথে আগের দিনের মতো অচলাবস্থা তৈরি না হলেও পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোড, হাজারীবাগের কিছু অংশ, শুক্রাবাদ, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, মিরপুর রোড, মগবাজার, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা, গ্রিন রোড, ফার্মগেইট, বিজয় সরণী, খিলক্ষেত ও উত্তরার কিছু অংশে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে উঠতে দেখা গেছে।
ট্রাফিক পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কনস্টেবল কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গতকালের মত ভয়াবহ জট এখনো কোথাও দেখা যায়নি। তবে বৃষ্টিতে পানি জমে থাকায় যানবাহনের গতি ধীর।’
বাংলামোটরে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক বজলুর রহমান বলেন, ‘বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় তো গাড়ি বাড়ছে। বৃষ্টি চলতে থাকলে পানি নামবে না। তখন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।’
প্রতিটি রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্থির হয়ে আছে ‘চলমান’ যানবাহন। বাস, ট্রাক, মিনিবাস, প্রাইভেট কার, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা —সবার একই গতি। এর সঙ্গে যোগ হয় রিকশা। ফলে যানজটের কারণে রাজধানীর বিরাট অংশের একই স্থবিরতার চিত্র।
মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরে মাহমুদুর রহমান জানান, তিনি সকালে ধানমন্ডি ৫ নম্বর সড়ক থেকে মিরপুরে যাওয়ার পথে বভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকতে দেখেছেন। বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন স্থানে যানজটেও পড়তে হয়েছে।
‘গতকাল দুপুরে এই পথে ফিরতে আমার তিন ঘণ্টা লেগেছিল। এভাবে বৃষ্টি চললে আজকেও গতকালের মত নাকাল হতে হবে।’
মঙ্গলবার দিনভর ভোগান্তির পর জাতীয় সংসদেও এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে।
সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বেগম রওশন আরা মান্নান বলেন, ঢাকা শহরে বৃষ্টির কারণে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তাতে কোনো কোনো এলাকায় পানি জমে ‘সাঁতার পানি’ হয়ে যায়। এতে মানুষের জীবনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
‘মন্ত্রী কাছে প্রশ্ন, সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করেছেন কি-না। ঢাকা শহরের মেয়রগণ প্রায়ই মিটিং-সিটিং করেন। কিন্তু আমরা কোন ফলপ্রসূ কাজ দেখছি না।’
জবাবে খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘এবার বৃষ্টির ইনটেনসিটি অনেক বেশি। গত ৩০ বছরেও এত ইনটেনসিটির বৃষ্টি হয় নাই।.. কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা এত অতিরিক্ত অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের জন্য ডিজাইন করা হয় না।’
ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি এসেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের সর্বত্র মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হচ্ছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।
রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও হতে পারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ। -ডেস্ক