(দিনাজপুর২৪.কম) দেশে কয়েকদিন ধরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে। এর আগে কিছুদিন সংক্রমণ হার ২ থেকে ৩ শতাংশের মধ্যে থাকলেও এখন তা বেড়ে এখন ৩ থেকে ৪ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। মাস্কপরাসহ স্বাস্থ্যবিধি না মানা ও সরকারের টিলেঢালাভাবের কারণে সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬১৪ জন। গত পাঁচ সপ্তাহ ধরে দৈনিক শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৬০০-এর নিচে। এর আগে গত ২৫ জানুয়ারি ২৪ ঘণ্টায় ৬০২ জনের মধ্যে সংক্রমণের খবর জানিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬ হাজার ৪১৪টি নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৬১৪ জন। ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। দেশে এখন পর্যন্ত ৪০ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩৬টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩০ জন। মোট নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ জন এবং নারী ১ জন। ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের সবার বয়স ৬০ বছরের বেশি। মৃতদের অঞ্চল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে ৩ জন ও চট্টগ্রামে ২ জন রয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছে ৯৩৬ জন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৬৮৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬০ জন, রংপুরে ১ জন, খুলনায় ৫০ জন, বরিশালে ২ জন, রাজশাহীতে ১৪ জন, সিলেটে ২০ জন।

বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল গত বছর ৮ মার্চ; তা সোয়া ৫ লাখ পেরিয়ে যায় গত ১৪ জানুয়ারি। এর মধ্যে গত বছরের ২ জুলাই ৪ হাজার ১৯ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ শনাক্ত। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর গত বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ বছর ২৩ জানুয়ারি তা আট হাজার ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে গত বছরের ৩০ জুন এক দিনেই ৬৪ জনের মৃত্যুর খবর জানানো হয়, যা এক দিনের সর্বোচ্চ মৃত্যু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা শুরু হয় চলতি বছরেরে ২১ জানুয়ারি থেকে। করোনা পরীক্ষা শুরুর ৪৮ দিনের মাথায় গত ৮ মার্চ প্রথম ৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। করোনার রোগীর শনাক্তের প্রথমদিকে পরীক্ষা কার্যক্রম শুধু আইইডিসিআরে সীমাবদ্ধ ছিল। পরে করোনা সংক্রমণ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ব্যাপক সমালোচনার মুখে মার্চ মাসের শেষ দিকে পরীক্ষার কেন্দ্র বাড়াতে শুরু করে সরকার। বর্তমানে সারা দেশে ২১৭টি ল্যাবরেটরিতে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশে ৪০ লাখ ৮৯ হাজার ৩৩৬টি নমুনা পরীক্ষার করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৯৩০ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৪০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

জানা গেছে, দেশে প্রথম করোনার রোগী শনাক্ত পর সংক্রমণ বাড়তে বাড়তে জুন-জুলাই মাসে পিকে (সর্বোচ্চ চূড়ায়) পৌঁছে। কিছুদিন একই অবস্থায় থেকে আগস্টের শেষ দিকে সংক্রমণ কমতে শুরু করে। এর পর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে করোনার নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১০ শতাংশে নেমে আসে। শীতের আগমন ঘটার আগ থেকেই অর্থাৎ নভেম্বর থেকে করোনার সংক্রমণ আবার বাড়তে শুরু করে। এ সংক্রমণ বৃদ্ধিকে করোনার দ্বিতীয় ওয়েব বলে জানিয়েছিলেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। সরকার করোনার দ্বিতীয় টেউ মেকাবিলায় বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে নভেম্বরে করোনার নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১৫ শতাংশ পৌঁছে এবং কিছুদিন সংক্রমণ উঠানামা করে ডিসেম্বরের শেষ দিকে আবার কমতে শুরু করে। আর ফেব্রুয়ারি মাসে সংক্রমণ হার ২ থেকে ৩ শতাংশর মধ্যে অবস্থান করে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি ১৩ হাজার ৪১১টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয় ৩৮৫ জন, নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ছিল ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর পরদিন গত ১ মার্চ ১৩ হাজার ৫৭০টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয় ৫৮৫ জন, ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ছিল ৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর পরদিন ২ মার্চ ১৩ হাজার ৩২৫টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয় ৫১৫ জন, ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। আর ৩ মার্চ ১৬ হাজার ৪১৪টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয় ৬১৪ জন, ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ছিল ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাবেক সভাপতি ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, করোনার সংক্রমণ দীর্ঘ সময় ধরে চলছে। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সংক্রমণ কিছুটা কমলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর পর আবার বেড়েছে। এর পর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে সংক্রমণ কমেছে। এ মাসের শুরু থেকে সংক্রমণ হার কিছুটা বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। তবে এটাই প্রকৃত চিত্র বলা যাবে না। কারণ এখনো যারা সেন্টারে আসছে তাদেরই পরীক্ষা হচ্ছে। যারা লক্ষণ-উপসর্গ নিয়েও সেন্টারে যাচ্ছে না। করোনার প্রকৃত চিত্র জানতে হলে যেখানে সংক্রমণ হচ্ছে এবং যেখানের লোক মারা যাচ্ছে সেখানকার টেষ্ট বাড়াতে হবে। এটি বাংলাদেশে হচ্ছে না।

করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় গৃহীত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পর্যালোচনা ও সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকারের গঠিত বিশেষজ্ঞ কামটির সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত এ বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, করোনার সংক্রমণ বাড়ছে তার কারণ হলো মানুষের মধ্যে গাঁ-ছাড়া ভাব আছে। আবার মাস্কপরা ছেড়ে দেওয়াসহ স্বাস্থ্যবিধি না মানার বিষয়টিও আছে। সরকারও করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে জোরালো ভূমিকা রাখছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে করোনা সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে পুরুষ মানুষের। দেশে এখন পর্যন্ত মারা গেছে ৮ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৩৭২ জন, যা মোট মৃত্যুর ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং নারী ২ হাজার ৫৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ২৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ।

মৃতের অঞ্চলভিত্তিক তথ্য বলছে, করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় আর কম মৃত্যু ময়মনসিংহে। যারা মারা গেছে তার মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪ হাজার ৭১৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫৫.৯৮ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৫৫০ জন, যা মোট মৃত্যুর ১৮.৩৯ শতাংশ। খুলনায় ৫৬০ জন, যা মোট মৃত্যুর ৬.৬৪ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ৪৭৮ জন, যা মোট মৃত্যুর ৫.৬৭ শতাংশ। রংপুর বিভাগে ৩৬৩ জন, যা মোট মৃত্যুর ৪.৩১ শতাংশ। সিলেট বিভাগে ৩১০ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩.৬৮ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ২৫৩ জন, যা মোট মৃত্যুর ৩ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯৬ জন, যা মোট মৃত্যুর ২.৩৩ শতাংশ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, করোনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে বয়স্ক মানুষের। করোনায় মৃত্যুর ৫৫ শতাংশের বেশি হচ্ছে ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে। মৃতের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৬০ বছরের বেশি বয়সী ৫৫.৬৫ শতাংশ। ৫১ থেকে ৬০ বছর ২৪.৭৭ শতাংশ। ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ১১.৩৩ শতাংশ, ৩১ থেকে ৪০ বছরের ৫.০১ শতাংশ, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২.০৪ শতাংশ, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য থেকে ১০ বছর বয়সী শূন্য দশমিক ৪৪ শতাংশ।

করোনার মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের ৮ মার্চ করোনা রোগী শনাক্তের থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ১ হাজার ৫১৫টি। এসব নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫১ জন। একই সময়ে করোনায় মারা গেছে ৫ জন এবং সুস্থ হয়েছে ২৫ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৪৯ দশমিক ১০ শতাংশ।

এপ্রিল মাস : ১ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ৬১৬ জন। একই সময়ে করোনায় মারা গেছে ১৬৩ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১৩৫ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১২ দশমিক ০৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ২ দশমিক ১৫ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

মে মাস : ১ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ২ লাখ ৪৪ হাজার ২৬৪টি নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৩৯ হাজার ৪৮৬ জন। একই সময়ে মারা গেছেন ৪৮২ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৯ হাজার ৬২১ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২২ শতাংশ এবং সুস্থতার ২৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

জুন মাস : ১ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৯৮ হাজার ৩৩০ জন। একই সময়ে করোনায় মারা গেছে ১ হাজার ১৯৭ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৪৯ হাজার ৮৪৪ জন। জুন মাসে নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৪৯ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২১ শতাংশ এবং সুস্থতার ৫০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

জুলাই মাস : ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৪ লাখ ১০ হাজার ৪০২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৯২ হাজার ১৭৮ জন। একই সময়ে মারা গেছে ১ হাজার ২৬৪ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৭৫ হাজার ৫১১ জন। নুমনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

আগস্ট মাস : ১ আগসট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯৪টি। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৭৫ হাজার ৩৩৫ জন। একই সময়ে মারা গেছে ১ হাজার ১৭০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬৯ হাজার ৭৫১ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ২০ দশমিক ১৭ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৯২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

সেপ্টেম্বর মাস : ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪৫২টি। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫০ হাজার ৪৮৩ জন। একই সময়ে মারা গেছে ৯৭০ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার ৬০০ জন। নুমনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৭০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৯২ শতাংশ।

অক্টোবর মাস : ১ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৭টি। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৪ হাজার ২০৫ জন। একই সময়ে মারা গেছে ৬৭২ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৪৮ হাজার ৬৫৮ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৫২ শতাংশ। শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার সংখ্যা বেশি।

নভেম্বর মাস : ১ নভেম্বর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৪৩৯টি। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৫৭ হাজার ২৪৮ জন। একই সময়ে মারা গেছে ৭২১ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৫৬ হাজার ৫৬৬ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং সুস্থতার হার ৯৮ দশমিক ৮১ শতাংশ।

ডিসেম্বর মাস : ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৮৯৭টি। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ৪৮ হাজার ৫৭৮ জন। একই সময়ে মারা গেছে ৯১৫ জন এবং সুস্থ হয়েছে ৭৬ হাজার ৭৪৮ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ১০ দশমিক ৬৮ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং শনাক্ত তুলনায় সুস্থতার হার বেশি।

জানুয়ারি মাস : ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪ লাখ ২৪ হাজার ১২৭টি। নমুনা পরীক্ষা করে রোগী শনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ৬২৯ জন। একই সময়ে মারা গেছে ৫৬৮ জন এবং সুস্থ হয়েছে ২২ হাজার ২৮৫ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ৫ দশমিক ১০ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার হার বেশি।

ফেব্রুয়ারি মাস : ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৩০৫টি। এসব নমুনা থেকে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৭৭ জন। একই সময়ে মারা গেছে ২৮১ জন এবং সুস্থ হয়েছে ১৭ হাজার ১৮০ জন। নমুনা পরীক্ষায় রোগী শনাক্তের হার ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং শনাক্তের তুলনায় সুস্থতার সংখ্যা বেশি। সূত্র : আমাদের সময়