(দিনাজপুর২৪.কম) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশি নাগরিক আকায়েদ উল্লাহার দেশে জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ঢাকার মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, আকায়েদ উল্লাহর এ দেশের কোনো জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ এখন পর্যন্ত মেলেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে পারেন।

ঢাকার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আকায়েদ উল্লাহর স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ি ও শ্যালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের জিগাতলার বাসা থেকে মিন্টু রোডের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

জানা যায়, গত বছরের জানুয়ারিতে রাজধানীর হাজারীবাগের জিগাতলায় বিয়ে করেন আকায়েদ উল্লাহ। তার শ্বশুর রাজধানীর একটি শপিং মলের দোকানে কাজ করেন। আকায়েদের বাড়ি চট্টগ্রামে। গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি সর্বশেষ দেশে এসেছিলেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ম্যানহাটনে টাইম স্কয়ার সাবওয়ে স্টেশন থেকে বাস স্টেশনে যাতায়াতের ভূগর্ভস্থ পথে বোমা হামলা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আকায়েদ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর এবং তিনজন পথচারী সামান্য আহত হয়েছেন।

পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তি পাইপের মধ্যে ব্যাটারি ঢুকিয়ে তৈরি বোমা বহন করছিলেন। বাস টার্মিনালে হেঁটে যাওয়ার সময় সেটি আংশিক বিস্ফোরিত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, লক্ষ্যস্থলে পৌঁছার আগেই বোমাটির বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় সময় সোমবার সকালে ম্যানহাটনের ৮ অ্যাভিনিউ ও ৪২ স্ট্রিটে ওই বিস্ফোরণের বিষয়ে জোর অনুসন্ধান শুরু করেছে নিউইয়র্ক পুলিশ।

নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নেইল বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, ২৭ বছর বয়সী আকায়েদের বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে আকায়েদ স্থায়ী মার্কিন অধিবাসী হিসেবে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করে।

নিউ ইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি এবং লিমোজিন কমিশন জানিয়েছে, ব্রুকলিনে ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করতেন আকায়েদ। ২০১২ মার্চ থেকে ২০১৫ মার্চ পর্যন্ত তার নামে ট্যাক্সির লাইসেন্স ছিল। নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বৈদ্যুতিক কোম্পানিতে কাজ করছিলেন আকায়েদ। সেখানে তার ভাইও কাজ করতেন। -ডেস্ক