(দিনাজপুর২৪.কম) বাংলাদেশকে বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সকল প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ তিনবার সরকার গঠন করেছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। যেকোনো প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ তিনবার সরকার গঠন করেছে বলেই বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এটা এমনি এমনি হয়নি। যে শিক্ষা পেয়েছি বাবার কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি মায়ের কাছ থেকে-দেশকে ভালোবাসা, দেশের কল্যাণে কাজ করা, দেশের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করা, দেশের জন্য যেকোনো ঝুঁকি নেয়ার মতো সাহস রাখা- একজন রাজনীতিকের জীবনে যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে ঝুঁকি নেয়ার সাহস লাগে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদাতবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের বার্ষিক প্রকাশনা ‘জন্মভূমি’র মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ’৭৫ এর পরে বাংলাদেশ বললে কি হতো- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দুর্ভিক্ষ, দেশের মানুষের কোনো আশা নাই ভরসা নাই এই দেশ স্বাধীনই থাকবে না এরকম একটা চিন্তা ভাবনা বিদেশের মানুষের মনে ছিল। এভাবেই সকলের কাছে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এটাই ছিল সবচেয়ে বড়ো দুর্ভাগ্য। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। তিনি বলেন, ১৫ই আগস্ট তারা কি করেছে- আমার মাকে তারা হত্যা করেছে। আমার ভাই কামাল-জামালকে হত্যা করেছে। তাদের নবপরিণীতা বধূ সুলতানা-রোজীদেরকে হত্যা করেছে। ছোট ১০ বছরের রাসেলকেওতো রেহাই দেয়নি। তাঁকেও তো তারা হত্যা করেছে। একই দিনে আমার তিন ফুফুর বাড়িতে আক্রমণ করে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। একই সময়ে তিনটি বাড়িতে আত্রমণ করে এই হত্যাযজ্ঞ তারা ঘটায়। যেন ঐ রক্তের কেউ না থাকে। আওয়ামী লীগ তাঁকে সভাপতি নির্বাচিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচন করে, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে আসবো। তখন একটা জনমত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবেও সৃষ্টি হয় মানুষের মাঝে একটা উদ্দীপনারও সৃষ্টি হয়। অনেক বাধা দিয়েছিল তবু আমি দেশে ফিরে আসি। শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া এরশাদ সকলেই জাতির পিতার খুনিদের মদত দিয়েছে। ভোট চুরি করে তাদের সংসদে বসিয়েছে। তাদেরকে নানাভাবে উৎসাহ যুগিয়েছে।
তাকে মানসিক আঘাত দিয়ে পর্যুদস্ত করার জন্যই ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো এসব করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি এটাও বুঝি আমাকে আঘাত দেয়ার জন্য বা আমি যেন ভেঙ্গে পড়ি সেইজন্য। কিন্তু আমি কোন বাবার মেয়ে কোন মায়ের মেয়ে এটা তারা উপলব্ধি করতে পারেনি।
তিনি বলেন, এত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করেও আজকে আওয়ামী লীগ তিনবার সরকার গঠন করেছে বলেই বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, যখন একটু ভালো কাজ হয়, মানুষ যখন একটু ভালো থাকে তখন সবসময় এটাই মনে হয় যে, আমার বাবা-মা’র আত্মা নিশ্চয়ই শান্তি পাবে, তাঁদের দেশের গরিব মানুষগুলি একটু ভালো আছে। তাই, আমরা সবসময় এটাই চেষ্টা করি যে, যখনই কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক হয়-আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগসহ আমাদের সমস্ত সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করি এসব দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাদের সেবা করার জন্য। এটাইতো আওয়ামী লীগের কাজ এটাইতো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। সেই আদর্শ নিয়েইতো আমাদের তৈরি হতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ই আগস্ট আমরা সব হারিয়েছি। বাংলাদেশটাকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। সন্ত্রাস, খুন, জঙ্গিবাদের একটা পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। আগুনে পুড়িয়ে পুড়িয়ে দেশের মানুষ মারা হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক নেতা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারার মতো জঘন্য কাজ করতে পারে সেটা তিনি স্বপ্নেও ভাবতে পারেন না বলেও উল্লেখ করেন।
জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই আমাদের চলতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগকে এটাই বলবো যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সব সময় বলতেন- ‘ছাত্রলীগের ইতিহাস বাঙালির ইতিহাস।’ কাজেই ওই কথাটা যেন ছাত্রলীগ কখনো ভুলে না যায়। ছাত্রলীগের মূল মন্ত্র শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি- কাজেই এই শিক্ষাটাই হচ্ছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্রলীগের প্রত্যেকটি কর্মীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। তাহলেই এদেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারবো। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে আসতে হলেও শিক্ষা একান্তভাবে দরকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারণ অশিক্ষিত নেতৃত্ব দায়িত্ব পেলে দেশের কি সর্বনাশ হতে পারে তাতো আমরা দেখেছিই। তারা মানুষ পুড়িয়ে মারতে পারে, লুটপাট করতে পারে, দুর্নীতি করতে পারে, মানি লন্ডারিং করতে পারে, নিজেদের বিত্ত-বৈভব গড়তে পারে। কিন্তু দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারে না। কাজেই ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতা-কর্মীকে শিক্ষিত হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে এবং অর্জনে ছাত্রলীগের বিরাট অবদান রয়েছে এবং এ সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৮ সালে। যখন আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিল পাকিস্তানি শাসকরা। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ২৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর মায়ের অন্যান্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি একাধারে যেমন সংসার সামলেছেন, রান্না-বান্না করে সবাইকে খাইয়েছেন, ছেলেমেয়ে মানুষ করেছেন অন্যদিকে কারাগারে থাকার সময় দল কিভাবে চলবে তার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। নিজের গয়না, বাড়ির ফার্নিচার বেচে সংগঠনের টাকা যুগিয়েছেন। অনেক নেতা-কর্মীর বাসার বাজারের টাকাও তিনি যোগাদেন, যেমন খন্দকার মোস্তাক। প্রধানমন্ত্রী এ সময় আওয়ামী লীগের তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কিন্তু একটা গুণ আছে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সবসময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়। শুধু উপরে গেলে একটু উল্টা-পাল্টা হয়ে যায়।’ তিনি বলেন, ‘তখন আমি দেখেছি আওয়ামী লীগের অনেক বড় বড় নেতারা ৮ দফা নিয়ে মেতে ওঠেন। কিন্তু আমার মা বলেন, উনি বঙ্গবন্ধু ৬ দফা দিয়ে গেছেন, এর বাইরে একপাও যাওয়া যাবে না।’ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন। -ডেস্ক