মোঃ সেলিম সোহাগ (দিনাজপুর২৪.কম)  পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীতে অবৈধ ভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করেন বালু ইজারাদাররা। ইজারাদাররা রাজনৈতিক দলের মদদ পাওয়ায় তারা মানছেন না আইন মানছেন না বাধা। নদীর উপর অযৌক্তিক ও অবৈজ্ঞানিক উপায়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর বহুদুর পর্যন্ত ধসে পড়ছে। পরবর্তীতে প্রবল ¯্রােতের আঘাতে নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হচ্ছে। বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ী ও আবাদি জমি। পঞ্চগড়ের পানিবাহিত ভূমি ক্ষয়ের সবচেয়ে ধ্বংসাত্মকরূপ হচ্ছে নদী ভাঙ্গন। নদী ভাঙ্গন পঞ্চগড়ের জাতীয় সমস্যা। দেশের অধিকাংশ জেলাই নদী ভাঙ্গনের শিকার। নদী ভাঙ্গনের জন্য প্রতিবছর গড়ে আট থেকে নয় হাজার একর জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এর মধ্যে অধিকাংশ কৃষি জমি। রাত-দিন ধরে ড্রেজার দিয়ে করতোয়া নদীতে চলছে বালু উত্তোলন। নদীর পাড়ে অনেক গরীব-অসহায় মানুষের রয়েছে ঘর-বাড়ী, গাছপালা, ফসলাদি জমি। কবে তলিয়ে যাবে এই নিয়ে গভীর চিন্তা সাধারণ মানুষের। করতোয়া নদীর পাড়ে আছে অনেক ফল-ফলাদি ও ঔষধি বাগান। নদীর সাথে তলিয়ে গেলে কর্মবিহীন হবে অনেক অসহায় গরিব মানুষ। এই ব্যাপারে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যয় হাসান এবং দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল হাসান সরকারের সাথে মোবাইলে কথা বলে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে অনেক বার কথা বলা সত্বেও তারা কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন ইজারাদাররা কি আইনের উর্দ্ধে। কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয় না? স্থানীয়দের ধারণা দেবীগঞ্জ উপজেলার প্রভাবশালী নেতাদের ছত্রছায়ায় চলছে ডেজার। হুমকির মুখে আছে করতোয়া সেতু। এলাকাবাসীরা আতংকিত যে যেকোন সময় দেবীগঞ্জের করতোয়া সেতুটি ধসে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট ইজারাদার জানান, অনেক অর্থের বিনিময়ে নদী ইজারা নিয়েছি, ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন না করলে আমরা লোকসানের সম্মুখিন হব। এলাকাবাসী নদী হতে ড্রেজার উচ্ছেদ করে নদী ভাঙ্গন ও করতোয়া সেতুটি রক্ষার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।