ভারতীয় গরু
ভারতীয় গরু

কোরবানীর বাজারে এবার ভারতীয় গরুর অনুপস্থিতির খবরে আশান্বিত হওয়ার পর আবার হতাশ হয়েছে দেশীয় গরুর খামার মালিকরা। ভারত থেকে গরু আসছে এবং আরও নিয়ে আসা হবে এমন সংবাদে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। খামারীরা বলছেন, ভারত থেকে যদি এভাবে গরু আসে হয় তাহলে তাদেরকে লোকসানে পড়তে হবে।
আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদুল আযহা। গরু মোটাতাজা করে কোরবানির বাজারে বিক্রি করে ভাল লাভ পাওয়ার আশায় ঝুকে পড়েছেন দিনাজপুরের খামারীরা। বাংলাদেশের গরু চোরাচালান বন্ধ-ভারত সরকারের এমন ঘোষনা এবং সীমান্তে গরু চোরাচালান বন্ধে বিজিবি’র কঠোরতা অবলম্বন করায় এবার বেশ লাভের আশা করেছিলো দিনাজপুর জেলার ৩৫ হাজার ২’শ জন খামার মালিক ও গরু পালনকারী।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতীয় সরকার বাংলাদেশে গরু চোরাচালান বন্ধে কঠোর নির্দেশ দেয় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ’কে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্টমন্ত্রীা রাজনাথ সিং গরু চোরাচালান বন্ধে সীমান্তে বিএসএফ’র টহল বৃদ্ধির নির্দেশ দেয়। আর এ কারনে কোরবানীকে ঘিরে ভারত থেকে কোন গরু যাতে সীমান্ত অতিক্রম না করে সে ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী।
এদিকে বিজিবি দিনাজপুর সেক্টর-এর অধীনে ২৫০ কিলোমিটার সীমান্তে ভারতীয় গরু যাতে না আসে, সে ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিজিবি দিনাজপুর সেক্টরের পক্ষ হতে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বন্ধে গনসচেতনতামুলক মতবিনিময় সভা করা হচ্ছে। ভারতীয় সীমান্তে কাটাতারের বেড়া অতিক্রম করে কেউ যাতে ভারতে গরু আনতে যায়, সে ব্যাপারে বিজিবি সতর্ক করে দেয় সীমান্তবাসীকে।
গরু চোরাচালান বন্ধে দুদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এমন কঠোরতায় এবার বেশ লাভের আশা করেছিলো দিনাজপুর জেলার খামার মালিক ও গরু পালনকারীরা। কিন্তু সম্প্রতি খামারীরা শুনতে পাচ্ছেন ভারত থেকে গরু আসছে এবং কোরবানীর আগেই পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ১০ লাখ গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। এমন খবরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারীরা।
দিনাজপুর সদর উপজেলার খামার মালিক সারোয়ার আশফাক লিয়ন জানান, এবছরে ভারত থেকে গরু আসবে না এই ভেবে তারা এবারে বড় বড় গরু পালন করেছে বেশি ব্যয় করে। কিন্তু হঠাৎ করে সরকার ভারত থেকে গরু আনার চেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ এই খামারীর। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু হাটে ভারতীয় গরুর ব্যপক উপস্থিতির কথা জানান তিনি। ভারত থেকে এভাবে গরু আসলে যে দামে গরু ক্রয় করেছেন সে দামেও গরু বিক্রয় করতে পারবেন না তারা। এতে করে বাংলাদেশের একটি শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
আরেক খামার মালিক পৃথিল সারোয়ার জানান, কোরবানীর ঈদে ভারত থেকে গরু আসবে তাই এখনও বড় বড় ব্যবসায়ীরা খামারীদের নিকট থেকে গরু নিতে আসেনি। ভারত থেকে গরু আসলে তারা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। তারা বলছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা হরমোন ব্যবহার করে। পাশাপাশি ভারত থেকে যেসব গরু আসে তা কোরবানির জন্য বিক্রি করা ঠিক নয় বলে জানান এই খামার মালিক।
আসন্ন কোরবানী উপলক্ষে দিনাজপুর জেলায় ছোট বড় মিলিয়ে মোট ১২৩টি পশুর হাট বসেছে। এসব হাটের বেশ কয়েকটিতে গিয়ে দেখা যায়, হাটগুলোতে প্রথম অবস্থায় শুধুমাত্র দেশী গরু দেখা গেলেও এখন ভারতীয় গরুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দিনাজপুরের সীমান্ত দিয়ে এসব গরু না আসলেও পাশ্ববর্তী জেলার সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে এসব গরু আসছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর ভারতীয় গরু আসার ফলে বাজারে গরুর দাম কমতে শুরু করেছে। গতকাল রেলবাজার হাটে গরু ব্যবসায়ী মুকুন্দ চন্দ্র রায় জানালেন, গত এক সপ্তাহ আগে গরুর বাজার বাড়তে শুরু করেছিলো। কিন্তু এখন দাম কমতে শুরু করেছে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ শংকর কুমার বসাক জানান, দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় ৩৫ হাজার ২শ জন গরু পালনকারী পবিত্র কোরবানীকে সামনে রেখে প্রায় ৭১ হাজার দেশি ও বিদেশি জাতের গরু মোটাতাজাকরণের কার্যক্রমে ব্যস্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৯২৬টি ডেইরি ফার্মে একদিকে দুধ উৎপাদন হচ্ছে অন্যদিকে কোরবারীর জন্য ৪০ হাজার গরু রাখা হয়েছে।
সূত্রটি জানায়, সদর উপজেলায় ৩ হাজার ১০৭ জন পালনকারী ৬ হাজার ৩শ গরু, বিরলে ৩ হাজার পালনকারী ৫ হাজার ২৩৬ গরু, বোচাগঞ্জে ২ হাজার ৫৯৮ জন পালনকারী ৪ হাজার ৭৬৬ গরু,  কাহারোলে ২ হাজার ৭৩১ জন পালনকারী ৫ হাজার ১৩৬ গরু, চিরিরবন্দরে ২ হাজার ৯১২ জন পালনকারী ৭ হাজার ৬৪০ গরু, ফুলবাড়ীতে ২ হাজার ৮১২ জন পালনকারী ২ হাজার ৬৫৫ গরু, বীরগঞ্জে ৩ হাজার ১১৮ জন পালনকারী ৫ হাজার ৬০১ গরু, নবাবগঞ্জে ২ হাজার ৮৫৯ জন পালনকারী ৫ হাজার ৭১৮ গরু, হাকিমপুরে ১ হাজার ৬শ পালনকারী ৩ হাজার ১৬ গরু,  খানসামায় ২ হাজার ৭৪৯ জন পালনকারী ৫ হাজার ৫০ গরু, পার্বতীপুরে ২ হাজার ৯৯৮ জন পালনকারী ৭ হাজার ২৯৫ গরু, বিরামপুরে ২ হাজার ৮৯৮ জন পালনকারী ৫ হাজার ৮শ গরু এবং ঘোড়াঘাট উপজেলায় ১ হাজার ৮০৯ জন পালনকারী ২ হাজার ২২০ গরু মোটাতাজাকরণ করছেন। দিনাজপুরে মোটাতাজাকরণের ৯২৬টি ডেইরি ফার্মের বাইরেও ৯১৪ টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। ##