ছবি-ংস্রগহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) দুর্ঘটনায় পড়েছে জ্বালানী তেলবাহী ট্রেন, আর এতে স্থানীয়রা ব্যস্ত হয়ে পড়েন তেল সংগ্রহে।সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে তেলবাহী ট্রেন দুর্ঘটনার পর দেখা গেছে এ দৃশ্য। নাওয়া-খাওয়া ভুলে স্থানীয় শিশু থেকে বয়স্করা ব্যস্ত ছিলেন তেল সংগ্রহে। অন্যদিকে, ট্রেন যোগাযোগ চালু করতে ঘাম ছুটেছে রেলওয়ে কর্মচারী-কর্মকর্তাদের।

গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে ৯৫১ নং তেলবাহী ট্রেন ২০টি বগি নিয়ে সিলেটের উদ্দেশে আসছিল। ওই দিন রাত ১২টার দিকে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের দক্ষিণে কায়স্থগ্রাম এলাকার গুতিগাঁওয়ে ১০টি তেলের বগি লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে যায়। এ সময় উপড়ে পড়া ৫টি বগি থেকে তেল পড়তে থাকে। এ খবর জানাজানি হলে ওই রাত থেকে গতকাল শুক্রবার দিনভর ও রাতের অংধিকাংশ সময় তেল সংগ্রহে ব্যস্থ ছিলেন স্থানীয়রা।

গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় একদিকে নিরাপত্তা রক্ষীদের বাঁধা আর অন্যদিকে কয়েক’শ মানুষের হাড়ি-পাতিল-বালতি নিয়ে দৌড়াদৌড়ি! এ যেন রূপকথার আলাদীনের সেই চেরাগ নয়, চেরাগ জ্বালানোর তেল পেয়ে গেছেন তারা। দেখে মনে হয়েছে তেলের পুকুরে সাঁতার কাটছেন তেল সংগ্রহকারীরা।

এ সময় কথা হয় দুর্ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী বাগান থেকে আসা দুর্গা প্রসাদের সঙ্গে। পেশায় ট্রলার চালক দুর্গা বলেন, ‘খবর পেয়ে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে আসি এবং প্রায় এক’শ লিটার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছি।’

রেললাইনের পাশে বাড়ি সজলের। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ সুযোগ করে দিয়েছেন তাই প্রায় এক হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছি।’ পানির কলসি থেকে পানি ফেলে তেল সংগ্রহ করেছেন বলে জানালেন অপর স্থানীয় পারুল বেগম।

এভাবে কয়েক হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন স্থানীয়রা। কেউ স্পটে বিক্রি করেছেন আবার কেউ ভালো মূল্যের আশায় ঘরেই রেখে দিয়েছেন সংগৃহীত তেল।

দুর্ঘটনায় স্থানীয়দের কপাল খুললেও কোটি কোটি টাকার লোকসান গুণতে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানিাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি)। জানা গেছে, এ দুর্ঘটনায় দুই লাখেরও অধিক লিটার জ্বালানি তেলের ক্ষতি হয়েছে। -ডেস্ক