-সংগ্রহীত

(দিনাজপুর২৪.কম) একদিকে করোনাভাইরাসের মহাদুর্যোগ, তার পরপরই দুটি ঝড়ের আঘাত। এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে একেবারে নাকাল হয়ে পড়েছেন দিনাজপুরের আম ও লিচুর বাগান মালিকরা। পড়েছেন চরম ক্ষতির মুখে। করোনা মহামারীর মধ্যেই গত সপ্তাহে ঘুর্ণিঝড় আম্পান আঘাত হানে। এরপর গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে দ্বিতীয় দফায় প্রবল ঝড়ে ভেঙ্গে পড়েছে শত শত আম ও লিচুগাছ। ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টিতে ঝরে পড়েছে শত শত টন আম ও লিচু।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, দিনাজপুর জেলায় চলতি বছর ৫ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমিতে আম এবং ৬ হাজার ৫৪৬ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হচ্ছে। এবার বেশ ফলন ভালো হওয়ায় ৯৬ হাজার ৭৪৬ মেট্রিক টন আম এবং ৩৯ হাজার ২৭৬ মেট্রিক লিচু উৎপাদনের আশা করছিলো কৃষি বিভাগ। কিন্তু গত এক সপ্তাহের মধ্যে পর পর দু’বার প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই জেলায় আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সম্প্রসারণ বিভাগ বলছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের ঝড়ে প্রায় ১৫ কোটি টাকার আম এবং ২ কোটি টাকার লিচু ক্ষতি হয়েছে। এর আগে গত ২১ ও ২২ মে ঘুর্ণিঝড় আম্পানে ব্যাপক ক্ষতি হয় আম ও লিচুর। ওই সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, ঘুর্ণিঝড় আম্পানের ফলে দিনাজপুর জেলার ১০ শতাংশ আম এবং ৫ শতাংশ লিচুর ক্ষতি হয়েছে। এমনিতেই করোনা ভাইরাসের মহাদুর্যোগের কারণে দিনাজপুরের আম ও লিচুর বাগান মালিকরা তাদের আম ও লিচুর বিপণন ও দাম নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। এর ওপর পর পর দুইবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষতির কারণে তারা এখন রয়েছে মহা দুশ্চিন্তায়। বিরল উপজেলার মাধববাটী গ্রামের লিচুর বাগান মালিক আনারুল ইসলাম জানান, একমাত্র লিচুই তাদের ভরসা। কিন্তু এই অবস্থায় তাদের পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। একই উপজেলার সাকইর গ্রামের হাসান আলী জানান, ঝড়ে তার ইজারা নেয়া ১৭৫টি আমগাছের মধ্যে ১৫টি গাছ সম্পূর্ণ উপড়ে গেছে। বাকিগুলোর ডালপালা ভেঙ্গে গেছে। ওই বাগানে বর্তমানে সে ১০ শতাংশ আমও পাবেন না। তিনি জানান, বাগানটি ইজারা নেয়া ও পরিচর্যাসহ তার খরচ হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। এই ঝড়ের কারণে এটি তার সম্পূর্ণই লোকসান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, গত মঙ্গলবার রাতের ঝড়ে দিনাজপুর সদর, বিরল, বীরগঞ্জ ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় আম ও লিচুর ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও বর্ষণের জন্য বেশ কিছু এলাকার পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। যদিও জেলার মোট ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানের মধ্যে ৬০ শতাংশ বোরো ধান ইতিমধ্যেই কেটে নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আম, লিচু এবং বোরো চাষীদের তালিকা করে তাদের প্রণোদনার আওতায় আনা হবে।এদিকে দিনাজপুর আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। এছাড়াও বুধবার রাত সোয়া ১২টায় দেড় মিনিট শিলা বৃষ্টি হয়েছে। -ডেস্ক