(দিনাজপুর২৪.কম) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সঠিকভাবে কাজ না করলে দেশ পাকিস্তান হতে সময় লাগবে না বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। নিরাপরাধ জাহালমের কারাবাসের ঘটনার শুনানিতে দুদকের কৌসুলির উদ্দেশ্যে এ মন্তব্য করেন হাইকোর্ট। এসময় আদালতের তলবে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্র সচিবের প্রতিনিধি, আইন সচিবের প্রতিনিধি ও মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্য দুদকের মত একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টিআইবি কি প্রতিবেদন দিল সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। কারণ টিআইবিও ভুল করতে পারে। দুদক যদি সঠিক কাজ না করে তাহলে আমাদের উন্নয়ন টেকসই হবে না। দেশ পাকিস্তান হতে বেশি সময় লাগবে না।

রোববার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কামরুল কাদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। আদালত সোনালী ব্যাংকের অর্থ জালিয়াতির ঘটনায় দুদকের ৩৩ মামলা থেকে নিরাপরাধ জাহালমকে অব্যাহতি দিয়ে মুক্তির নির্দেশ দেন।

আদালত বলেছেন, ‘কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে এক মিনিটও কারাগারে রাখার পক্ষে আমরা না। এ ঘটনায় (জাহালমের কারাবাস) দুদক কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না। দুদকের ভুল তদন্তে কোনো সিন্ডিকেট জড়িত কিনা, সিন্ডিকেট থাকলে কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা চিহ্নিত করে আদালতকে জানাতে হবে। না হলে আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে।
গত ৩০ জানুয়ারি দৈনিক প্রথম আলোয় ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের নজরে আনা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অমিত দাশগুপ্ত এটি নজরে আনেন। ওইদিনই আদালত স্বত:প্রণোদিত হয়ে ‘জাহালমের আটকাদেশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে নিরারপরাধ জাহালমের গ্রেপ্তারের ব্যাখ্যা দিতে দুদক চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি, স্বরাস্ট্রসচিবের প্রতিনিধি ও আইনসচিবের প্রতিনিধি ও মামলার বাদী দুদক কর্মকর্তাকে ৩ ফেব্রুয়ারি হাজির হতে বলেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী দুদক চেয়ারম্যানের পক্ষে দুদকের মহাপরিচালক (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান, মামলার বাদী (দুদকের পরিচালক) আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব সৈয়দ বেলাল হোসেন এবং আইন সচিবের পক্ষে সিনিয়র সহকারি সচিব সৈয়দ মুশফিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হন।
শুনানিতে দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আইনজীবী অমিত দাসগুপ্তও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। -ডেস্ক