(দিনাজপুর২৪.কম) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ধারা থেকে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এখন থেকে এই সংক্রান্ত মামলাগুলো পুলিশ দেখবে। সরকারি সম্পত্তি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই সংক্রান্ত মামলাগুলো দুদক আইনে তদন্ত ও বিচার হবে। আজ সোমবার বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) আইন ২০১৫-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদনও দেয়া হয়। এ খসড়া আইনের তফসিল থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২০, ৪৬১ ও ৪৬৬ ধারায় দায়ের হওয়া প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপস্থাপিত খসড়ার বিষয়ে সাংবাদিকের জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইয়া। সচিব বলেন, ২০১৩ সালে দুদক আইন একবার সংশোধন করা হয়েছিল। ওই সময় প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলাগুলো দুদকের আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে বাস্তবে অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে হাজার হাজার মামলা হতে থাকে। দুর্নীতি দমন কমিশনকে এসব মামলা সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অবস্থা এখন এমন যে এসব মামলা চালানো দুদকের পক্ষে অসম্ভব।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরো বলেন, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা নেওয়ার বিধানটি আগে দুদক আইনে ছিল না। দুদক আইনে এটি অন্তর্ভুক্ত করার ফলে এই অভিযোগগুলো পুলিশও নিতে চাচ্ছে না। সাধারণত এই মামলাগুলো নিষ্পত্তি করে থাকে সেশন জজ আদালত। আর দুদক আইনের মামলা নিষ্পত্তি করে বিশেষ জজ আদালত। ফলে এসব ছোট মামলা নিষ্পত্তি করতে অনেক সময় লেগে যাচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই দুই শ্রেণির মামলাকে পূর্বের অবস্থায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে দুর্নীতি দমন কমিশন ও আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি রয়েছে। তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
সচিব আরো বলেন, আইন সংশোধনের প্রস্তাবটি আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হয়েছিল। আলোচনা পর্যালোচনা শেষে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন আরো একটি আইনের সংশোধন উপস্থাপন করা হবে।
প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে বর্তমানে চলমান মামলাগুলো প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আইন থেকে প্রতারণা ও  জালিয়াতি বাদ দেওয়া হলেও সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলা এবং সরকারি কর্মচারী ও ব্যাংক কর্মচারীদের দায়িত্ব-সংক্রান্ত মামলা দুদক আইনে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বাকিগুলো এখতিয়ারসম্পন্ন সেশন জজ আদালতে স্থানান্তর করা হবে।
প্রায় সম্পন্ন ও সাক্ষী পর্যায়ে, তদন্ত পর্যায়ে আছে এমন মামলাগুলোর প্রসঙ্গে সচিব বলেন, মামলা যে পর্যায়ে আছে সেই পর্যায়েই সেশন জজ আদালতে স্থানান্তর করা হবে। তবে বাদী চাইলে আবেদন করে নতুনভাবে মামলা শুরু করতে পারবেন। ব্যক্তিপর্যায়ে যেসব মামলা দায়ের হবে সেগুলো আগের মতোই পুলিশ তদন্ত করবে। আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় পুষ্টিনীতি ২০১৫-এর খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে। -ডেস্ক